করোনার থেকেও মারাত্বক “ডিজিজ-এক্স” ছড়ার আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে, উদ্বেগ প্রকাশ বিজ্ঞানীদের

প্রতি বছরই WHO পরবর্তী প্যানডেমিক নিয়ে একটি সমীক্ষা প্রকাশ করা হয় যাতে আগামী দিনে মানবসভ্যতার জন্য কোনটা ক্ষতিকারক হতে চলেছে, তা জানানো হয়। এর আগে ইবোলা, জিকা বা SARS-এর ক্ষেত্রেও এই সমীক্ষা আগাম সতর্কতা জানিয়েছিল। এ বার সেই তথ্যই বলছে, ডিজিজ এক্স-এর কথা

Disease x

কোভিড-১৯ কে নিয়েই মানুষ যখন এগিয়ে যেতে শুরু করেছিল তখনই কোরোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে শুরু করলো। এবার আরও এক নতুন আতঙ্কের কথা সামনে আনেন জিন-জ্যাকাস মুয়েম্বি যিনি প্রথম ইবোলা (Ebola) ভাইরাসের কথা সামনে এনেছিলেন।এই নতুন আতঙ্কের নাম ডিজিজ-এক্স।তার কথায় এই ভাইরাল স্ট্রেন কোরোনা ভাইরাসের থেকেও অনেকগুণ বেশী সংক্রমক। তবে এই ভাইরাসটি নতুন নয়। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বের সবথেকে সংক্রমক ৯ টি ভাইরাসের মধ্যে ডিজিজ-এক্সের কথা বলেছে।যদি এই ভাইরাস বিশ্বে ছড়াতে শুরু করে তবে আরেকটি অতিমারির সন্মুখীন হতে পারে বিশ্ববাসী।

ইতিমধ্যেই জানা যাচ্ছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে এক মহিলার শরীরে থাবা বসিয়েছে এই ভাইরাস। যদিও এই বিষয় এখনও ধন্ধে বিজ্ঞানীরা। এই ভাইরাসের প্রভাবে শরীরে কিরকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে সেই সম্পর্কেও বিশেষ কিছু জানেনা বিজ্ঞানিমহল।একবার জেনে নেওয়া যাক এই ভাইরাস সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু তথ্য।

ডিজিজ-এক্স কী?

গবেষক জিন-জ্যাকাস মুয়েম্বি মনে করছেন ডিজিজ-এক্স ইবোলার মতনই একপ্রকার ভাইরাল স্ট্রেন। অনেকের মতে ইবোলা ভাইরাসের জিনের গঠন পরিবর্তনের জন্যই তৈরি হয়েছে এই স্ট্রেন। জিন জানান, যেহেতু এই ভাইরাস সম্পর্কে এখনও অনেক তথ্যই অজানা তাই এটির নাম দেওয়া হয়েছে ডিজিজ-এক্স। এক্স অর্থাৎ অজানা কিছু।

১৯৭৬ সালে ইবোলা ভাইরাস চিহ্নিত করার অন্যতম পথিকৃৎ অধ্যাপক জাঁ-জ্যাক মুয়েম্বে তামফুম জানিয়েছেন, ‘আমরা এমন এক পৃথিবীতে এখন বাস করছি, যেখানে নিত্যনতুন জীবাণু দেখা দিতে পারে। আর সেটাই মানব সভ্যতার পক্ষে আতঙ্কের।’ এই সমস্ত জীবাণু যে Covid-19 এর চেয়েও ভয়ঙ্কর সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম হবে। তিনি জানিয়েছেন, ‘যদি আফ্রিকা থেকে কোনও জীবাণু আত্মপ্রকাশ করে, তা হলে তা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে সময় নেবে। নতুন ভাইরাস যদি তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে, তা হলে ইউরোপ ও সমগ্র বিশ্বে তার মোকাবিলায় নতুন কৌশল উদ্ভাবন করার সম্ভাবনা থাকবে।’

এই ভাইরাস কতটা সংক্রমন ধর্মী বা এর অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কেও এখনও কিছুই জানা যায়নি।অন্যদিকে হ্ন এর মতে এটিও ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেবিস, ব্রুসেলোসিস ইত্যাদির মতন একটি পশুবাহিত রোগ।২০১৮ সালে হু-র রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্লু-প্রিন্টে উল্লেখ ছিল এই ভাইরাসের।

ইবোলা আফ্রিকায় কোনও নতুন রোগ নয়। সর্বপ্রথম এটি এটি আফ্রিকায় আসে ১৯৭৬ সালে। এই ভাইরাসের ফলে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার মানুষ মহামারীর শিকার হয়েছেন। ২০১৩ এর ডিসেম্বরে গিনির জঙ্গলে এই রোগ পাওয়া যায় যা ক্রমশ লাইবেরিয়া, গিনি আর সিয়েরা লিওনে ছড়াতে থাকে। গবেষকদের মতে, এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের পাঁচটি প্রজাতি পাওয়া গেছে যাদেরমধ্যে তিনটি প্রজাতি এতই মারাত্বক যে তা শরীরে ঢুকলে মৃত্যু হবেই।

ডিজিজ-এক্স লক্ষণ

কঙ্গোর এক হাসপাতালের ডাক্তাররা সম্প্রতি এক মহিলার চিকিৎসা করছিলেন। তাঁর জ্বর ছিল। সঙ্গে রক্তক্ষরণ। তাঁর ইবোলা পরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু সেই পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসার পরে এখন আশঙ্কা, ওই মহিলাই হয়তো ‘ডিজিজ এক্স’-এর প্রথম শিকার। নানা মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, কোভিড-১৯-এর মতোই ছোঁয়াচে এই অসুখ হয়তো ইবোলার মতোই প্রাণঘাতী। প্রসঙ্গত, ইবোলার ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ।

ডিজিজ-এক্স কীভাবে ছড়ায়

এই ভাইরাসের বাহক মূলত এক জাতির ফল খেকো বাদুড় যারা এই ভাইরাস বহন করলেও নিজেরা আক্রান্ত হয়না। কোনওভাবে এই আক্রান্ত বাদুড়ের মাংস মানব শরীরে প্রবেশ করলেই একইসাথে দেহে ঢুকে পড়ে ইবোলা। তারপর হাচি, কাশি ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে এটি এক মানুষের থেকে অন্য মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে থাকে। এই ভাইরাস যখন মানব শরীরে প্রবেশ করে হেমোরজিক ফিভারের, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি ভয়াবহ উপসর্গ দেখা যায় মানুষের। অন্যদিকে ডিজিজ-এক্স ভাইরাসের উপসর্গও একইরকম। তবে গবেষকদের মতে এই ভাইরাস ইবোলা এর থেকেও অনেক বেশী সংক্রমক। তবে এখনও এর সম্পর্কে বিশেষ কিছু তথ্য জানেনা বিজ্ঞানীরা। চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা।