কড়ে আঙুল দিয়েই ভাইফোঁটা দেওয়া হয় কেন? চন্দনের ফোঁটা কেন দেওয়া হয়

300

ভাইয়ের মঙ্গল কামনা ও দীর্ঘায়ু চেয়ে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পালিত হয়। এই দিন বোনেরা উপোস করে ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেয়। ফোঁটা নেওয়ার আগে অবধি ভায়েরাও উপোস করে থাকে। ফোঁটা নেওয়ার পরে বোনেরা ভাইদের মিষ্টিমুখ করায়।

ভাই বোনেদের উপবাস ভঙ্গ করায় মিষ্টিমুখ করিয়ে। এরপর হয় একে অপরকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আশীর্বাদ প্রদান। সবশেষে হয় উপহার প্রদান। ভাইয়েরা বোনেদের উপহার দেয় ‌আবার বোনেরা ও ভাইদের উপহার দিয়ে থাকে।

এই অনুষ্ঠানটিকে যমদ্বিতীয়াও বলা হয়। কারণ যমরাজের বোন যমুনা ও যমরাজ কে এই দিনে ফোঁটা দিতেন। আবার পুরাণ অনুযায়ী কথিত আছে যে নরকাসুর নামের দৈত্যকে বধ করার পর শ্রীকৃষ্ণের কপালে জয় তিলক পরিয়ে দিয়েছিলেন ভগিনী সুভদ্রা। সেই থেকেই আজকের দিনে ভাতৃদ্বিতীয়ার প্রচলন।

আজকের দিনে তাই ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে যেমন ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করা হয়।তেমনি ভাই ও বোন কে পারো সারা জীবন রক্ষা করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। এইভাবে পারষ্পরিক মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান সূচিত হয়।

কড়ে আঙুলে ভাই ফোঁটা দেওয়া হয় কেন?

ভাইফোঁটার দিন বোন ভাইকে কড়ে আঙুলে ফোঁটা দিয়ে থাকে। কিন্তু কেন কড়ে আঙুলে ফোঁটা দেওয়া হয় জানেন? কেনই বা ভাইফোঁটায় ভাইয়ের কপালে চন্দন ও দ‌ই এর ফোঁটা দেওয়া হয়? জানতে চাইলে এই প্রতিবেদনটি মন দিয়ে পড়ুন।

হিন্দু ধর্মে বলা হয় যে আমাদের হাতের পাঁচটি আঙুল পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের প্রতীক। এই পঞ্চ ইন্দ্রিয় হলো ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ব্যোম। বলা হয় যে আমাদের হাতের কড়ে আঙুল  ব্যোম অর্থাৎ মহাশূন্যের প্রতীক।

এখন পুরাণে আরও বলা হয় যে ভাই বোনের সম্পর্ক মহাশূন্যের অসীম ভালবাসার মত। এই কারণে মহাশূন্যের প্রতীক কড়ে আঙুল দিয়েই বোনেরা  দাদা ও ভাইদের কপালে ফোঁটা দিয়ে থাকে।

ভাইফোঁটায় চন্দন ও দ‌ই এর ফোঁটা দেওয়া হয় কেন?

প্রাচীনকালে মুনি-ঋষিরা চন্দনের একাধিক গুনাগুন সম্পর্কে জানতে পেরে ঠাকুর, দেবতার কাজে এই চন্দন ব্যবহার করার কথা বলেছিলেন। ঠিক একইভাবে চন্দন ব্যবহারের  একাধিক গুণের কারণেই ভাতৃদ্বিতীয়া দিন চন্দন ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন : ভাইফোঁটা কীভাবে দেওয়া শুরু হল, জানুন পৌরাণিক কাহিনী

চন্দনের ফোঁটা দেওয়ার কারণ :- কপালে চন্দন দেওয়া হলে মস্তিষ্ক  ঠান্ডা থাকে। চন্দনের প্রভাবে মানুষের ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধি পায় ও একাগ্রতা বাড়ে। একইসাথে চন্দনের ফলে আমাদের মন ও শান্ত থাকে। তাই চন্দনের ফোঁটা দিলে মানুষের মস্তিষ্ক ঠান্ডা হয়, ধৈর্য একাগ্রতা ইত্যাদি সুগুণগুলি বাড়ে।

স্বাভাবিকভাবেই চন্দনের ফোঁটা দিয়ে মানুষের সার্বিক মঙ্গল কামনা করা হয়। আবার শাস্ত্রে বলা হয কারোর যদি জন্মবারের দিন ভাইফোঁটা পরে তাহলে চন্দনের ফোঁটা দেওয়া উচিত নয়। সেক্ষেত্রে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার দিন দ‌ইএর ফোঁটা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : ভাইফোঁটাকে যমদ্বিতীয়া বলা হয় কেন?

দইয়ের ফোঁটা দেওয়ার কারণ :-দই কে বেছে নেওয়ার কারণ ও একই। চন্দন এর মত একই গুণ আছে দ‌ই এর। আর ভাইফোঁটাতে  যেহেতু মঙ্গল কামনায় প্রধান, তাই এই দুই উপাদান ব্যবহার করা হয় এই তিথিতে। স্বাভাবিকভাবেই তাই  চন্দন ও দ‌ই এর ফোঁটো দেওয়ার ফলে ভাইদের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।