ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কি জীবন স্বাভাবিক হবে, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে?

করোনা আবহে মাস্ক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই মাস্ক পড়তে যে মানুষ খুব একটা পছন্দ করছেন তা কিন্তু নয়। মানুষ এখন এই অপেক্ষাতেই বসে যে কবে টিকা বেরোবে এবং মাস্ক ছাড়া ওল্ড নর্মালের মতন দিন কাটাতে পারবেন তারা। ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন অংশে টিকাকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। রাশিয়াতে গত বছরের ৫ই ডিসেম্বর থেকে স্পুটনিক ভি টিকাকরন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটেনেও শুরু হয়েছে টিকাকরণ। ভারতেও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাস্ট্রোজেনকো এবং সেরাম ইনস্টিটিউট যুক্ত হয়ে করোনার টিকাকরনের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের ভাবনা, টিকা এলেই বিদায় নেবে মাস্ক। কিন্তু সত্যি কি তাই?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদমই তা নয়। টিকা নেওয়ার পরেই মাস্ক পড়ার অভ্যেস অব্যাহত রাখতে হবে। এর কারণ টিকা গুলি মানব শরীরের ভেতরে করোনা প্রতিরোধে সক্ষম হলেও টিকা নিলেই যে আপনার শরীরে আর ভাইরাস আক্রমন করবে না তা বলা হয়নি কোথাও।

মূলত টিকা নেওয়ার পর হতে পারে আক্রান্ত ব্যাক্তি করোনা ভাইরাসের জেরে গুরুতর অসুস্থ হবেন না এমনকী এও হতে পারে যে তার মধ্যে কোনও লক্ষণ প্রকাশ পাবে। তবে নিঃশব্দে তিনি অন্য মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিতেই পারেন। সুতরাং এর ফলে যারা টিকা পাননি বা নেননি তাদের বিপদ বাড়বে। অর্থাৎ করোনা টিকা নেওয়া হয়ে গেলেও মাস্ক এবং সামাজিক দূরত্বের নীতি মেনে চলতে হবে।

আমেরিকার স্ট্যান্ডফর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞ মিশাল টাল এর কথা অনুযায়ী, করোনা টিকা নিলে মানুষের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে এই কথা ঠিক। তবে সেই মানুষের নাক বা মুখ দিয়ে শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করলে সেই ভাইরাস শরীরে থেকে বংশবিস্তার ঘটাবে এবং আশেপাশের মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।এইজন্যই প্রয়োজন মাস্ক পড়া। এছাড়া তিনি আরও বলেন, করোনা টিকা রক্তপেশিতে দেওয়া হবে। টিকা নেওয়ার পর শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে তার কিছু পরিমাণ নাকের মিউকাসে চলে যায় দারোয়ান হিসেবে।তবে তা কতক্ষণে যাবে এবং কত পরিমাণে যাবে তা বলা যায়না।

আরও পড়ুন : করোনা টীকা নেওয়ার আগে জেনে নিন ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নের উত্তর

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদযালয়ের ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞ মারিয়ন পেপার বলেন যে এই সম্পূর্ন বিষয়টি নির্ভর ভাইরাস আগে সংখ্যা বৃদ্ধি করবে না প্রতিষেধক আগে ভাইরাসকে কাবু করতে পারবে তার ওপর।তবে অনেক বিজ্ঞানীরাই এমন কোনও পন্থা বার করতে চাইছেন যাতে রক্তপেশীতে না দিয়ে নাকের সাহায্যে করোনা টিকা শরীরে প্রবেশ করানো যায়। ন্যাসাল স্প্রে এর কথাও ভাবছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের কথা থেকে একটা কথা স্পষ্ট যে যতদিন না পৃথিবীর সকল মানুষ টিকা পাচ্ছেন ততদিন মাস্কটিকে ছাড়া যাবেনা।অন্তত আগামী কয়েকটা বছর। মাস্ক পড়ার ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখালে আবারও বাড়তে পারে করোনা সংক্রমন।