রেড জোনে থাকা রাজ্যের ১০টি জেলায় লাগু হল একাধিক বিধিনিষেধ

শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে জারি করা প্রেস রিলিজ এর মাধ্যমে জানানো হয় যে দেশ জুড়ে কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চলতে থাকা লক ডাউন আরও ২ সপ্তাহ বৃদ্ধি পেল। ৩ রা মে এর বদলে আগামী ১৭ মে পর্যন্ত এই লক ডাউন স্থায়ী হবে। এর সাথেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি গাইডলাইনও প্রকাশ করে যে গাইডলাইনে কোন অঞ্চলে কি কি পরিষেবা চালু থাকবে সেই বিষয় জানানো হয়।

পশ্চিমবঙ্গের রেড জোন কোনগুলি?

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে রেড জোন এর সংখ্যা ১০ টি। এই জেলাগুলিতে হলো
কলকাতা, হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও মালদহ।

আবার এই দশটি জেলার মধ্যে যে অঞ্চলগুলো অতি স্পর্শকাতর অর্থাৎ যেখানে খুব বেশী পরিমাণে সংক্রমন ছড়িয়েছে সেই অঞ্চলগুলোকে কনটেনমেন্ট জোন বলা হয়েছে।

কনটেনমেন্ট অঞ্চলে কি কি নিয়ম থাকবে?

কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে যে অঞ্চলগুলো ঘোষণা করা হয়েছে সেই অঞ্চলগুলোকে সুনির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে রাখা হবে। এই অঞ্চল গুলির নির্দিষ্ট এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট রাখতে হবে। এই অঞ্চলগুলোতে কেবলমাত্র জরুরি পণ্য ও চিকিৎসা পরিষেবার অনুমতি দেওয়া হবে। এই অঞ্চলে কোনো ব্যাক্তি বা বাহন ঢোকার আগে তার চেকিং করাতে হবে। এই অঞ্চল থেকে কেউ বাইরে গেলে অথবা বাইরে থেকে কেউ ভেতরে ঢুকলে তার রেকর্ড রাখতে হবে।

কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে কিন্তু রেড জোনের ভেতরে হলে

স্থানীয় গাড়ি অর্থাৎ সাইকেল রিক্সা, অটো রিক্সা চালানো যাবেনা। ট্যাক্সি বা অ্যাপ ক্যাব চালানোর অনুমতি নেই। এই অঞ্চল গুলিতে কোনও বাস চলবে না। কোনো সেলুন, স্পা খোলা থাকবে না। যে সব পরিষেবা চালু থাকবে তার জন্য চার চাকার গাড়ি ব্যবহৃত হলে সেই গাড়িতে দুজনের বেশী থাকতে পারবেন না। মোটর সাইকেলের ক্ষেত্রে কাউকে পেছনে বসানো যাবেনা।

শহরের প্রকল্প কার্য করা যাবে তবে এটা তখনই সম্ভব যদি শহরের বাইরে থেকে সেই কার্যের জন্য কোনো শ্রমিকের প্রয়োজন না হয়। সব শপিং মল, মার্কেট কমপ্লেক্স খোলা যাবেনা। স্ট্যান্ড অ্যালোন দোকান, পাড়ার মুদিখানা দোকান খোলা থাকবে।অন্যান্য সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে।

ই-কমার্স পরিষেবা চলবে ( শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে) বেসরকারি সংস্থার দফতর চলবে।( সেক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ কর্মীর উপস্থিতি থাকবে), বাকিদের ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলবে। সরকারি দফতর এর ক্ষেত্রে ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার সব অফিসার ছাড়া ৩৩ শতাংশ কর্মী যোগ দেবেন।