ফিটনেস টেস্টে পাস করলে ভারতীয় রেল দিচ্ছে বিনামূল্যে টিকিট

এবার খানিক শরীরচর্চা করলেই বিনামূল্যে পাবেন ট্রেনের টিকিট। অবাক হলেন নিশ্চয়। কিন্তু এ নিয়ম চালু হয়ে গিয়েছে দিল্লীতে। দিল্লির আনন্দ বিহার প্ল্যাটফর্মে বসানো হয়েছে একটি স্কোয়াট মেশিন। এই মেশিনে দাঁড়িয়ে স্কোয়াট করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। যদি সময়ের মধ্যে যাত্রী স্কোয়াট করতে পারেন তাহলে তাকে বিনামূল্যে টিকিট দেওয়া হবে। মূলত যাত্রীদের মধ্যে শারীরিক সচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। আর একটু কষ্ট করলেই যদি ট্রেনের টিকিট ফ্রি তে পাওয়া যায় আবার তার উপর শরীর চর্চাও হয় তাহলে ক্ষতি কি!

কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল, টুইটারে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেই ভিডিওতে দেখা যআচ্ছে প্ল্যাটফর্মে বসানো হয়েছে একটি স্কোয়াট মেশিন। বড়ো স্কিনের নিচে রয়েছে স্কোয়াট করার জন্য একটি বোর্ডের মতো। সেই বোর্ডে চিহ্নিত করা রয়েছে নির্দিষ্ট জায়গা। যেই যাত্রীরা স্কোয়াট করতে ইচ্ছুক তাদের সেই চিহ্নিত করা জায়গায় দাঁড়াতে হবে। বড়ো স্ক্রিনে শুরু হবে ১৮০ সেকেন্ডের কাউন্টিং। ১৮০ সেকেন্ডের মধ্যে যাত্রী যদি ৩০ বার স্কোয়াট করতে সক্ষম হন তাহলে সেই মেশিন থেকে বেরিয়ে আসবে টিকিট।

সবাই জানেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শরীর সচেতন। সকালে ঘুম থেকে উঠেই সূর্যপ্রনাম না করে তিনি দিন শুরু করেন না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই ‘ফিট ইন্ডিয়া’ নামক একটি প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই রেল এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। দিল্লীর আনন্দ বিহার প্ল্যাটফর্মে বসানো হয়েছে স্কোয়াট মেশিন।

স্কোয়াট শব্দটা শুনে মনে হতে পারে খুব কঠিন কিছু। কিন্তু তা নয়। স্কোয়াট অর্থাৎ শুধুমাত্র উঠবোস করা। অনেকটা ডন বৈঠকের মতো। এই স্কোয়াট মেশিনে দাঁড়িয়ে ১৮০ সেকেন্ডে ৩০ বার স্কোয়াট করতে হবে। কোনো যাত্রী যদি ১৮০ সেকেন্ডে ৩০ বার স্কোয়াট করে ফেলতে পারে তাহলে তাকে যাত্রার টিকিট একেবারে বিনামূল্যে দেওয়া হবে। রোজকার দিনে মানুষ শরীরচর্চা করার সময় পান না। তাই যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরী করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন কেন্দ্র।

আমজনতার মধ্যে এই উদ্যোগ ভাল প্রভাব ফেলবে বলেই আশাবাদী ভারতীয় রেলও। বিনামূল্যে টিকিট পাওয়ার জন্য এবার থেকে স্টেশনে এসে অনেকেই ৩০বার স্কোয়াট করবেন বলে অনুমান কর্তৃপক্ষের। ফলে সকালের জিম বা যোগাসন বাদ গেলেও কুছ পরোয়া নেহি।  রেলস্টেশনেই একবার ঘাম ঝরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফিট এবং সুস্থ থাকার উপায় এবার মিলবে রাজধানীর রেল স্টেশনেই।