সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান? এবার এটি না নিয়ে গেলে হবে না চিকিত্‍সা

253

দিনের দিনের বেড়ে চলেছে দেশের জনসংখ্যা, সামঞ্জস্য রেখে বাড়ছে হাসপাতালের মত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মানুষের ভিড়। অতিরিক্ত ভিড়ে পরিষেবা দিতে এবং সুলভ পরিষেবা পেতে ভোগান্তি পেতে পরিষেবা প্রদানকারী এবং গ্রহণকারী উভয়কেই। আর সেবিষয়েই পরিষেবাকে আরও দ্রুত করতে সরকারি হাসপাতাল নতুন পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান? এবার এটি না নিয়ে গেলে হবে না চিকিত্‍সা

সরকারি হাসপাতাল ভিড় সামাল দিতে এবং নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে এই নতুন পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। নতুন এই পদক্ষেপ শুরু হবে আগামী ১৫ই জানুয়ারি থেকে। আর এই পদক্ষেপ বা নতুন নিয়ম চালু হলে হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই বহন করতে হবে এই কয়েকটি জিনিস।

১৫ ই জানুয়ারি থেকে সরকারি হাসপাতালের নাম নথিভুক্ত করার সময় প্রয়োজন হবে ডিজিটাল রেশন কার্ড এবং মোবাইল নাম্বার। যার ফলে রোগী ভর্তি হওয়ার পর তাকে দেওয়া হবে একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার। পরবর্তীকালে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার দেখালেই খুব সহজে ভর্তি বা অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রে কম সময়ে অনেক বেশি কাজ করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, আপাতত এই নতুন পদক্ষেপ বা নিয়ম কেবলমাত্র মেডিকেল কলেজ গুলিতেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। পরবর্তী ক্ষেত্রে এই একই নিয়ম জেলার অন্যান্য হাসপাতালগুলিতেও চালু করা হবে।

এই নতুন পদক্ষেপ এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ মেডিকেল কলেজ বা জেলা হাসপাতাল যেখানেই হোক না কেন প্রতিদিন সাত সকাল থেকেই রোগীদের ভিড় আছড়ে পরে। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রোগীকে দুই টাকার টিকিট কাটতে হয় আউটডোরে পরিষেবা পেতে। দেখা যায় বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর ভিড় জমান কাউন্টারের সামনে। দীর্ঘ লাইন পড়ে, তারপর নাম নথিভুক্তের সময় বয়স, ঠিকানা ইত্যাদি যাবতীয় গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলি জিজ্ঞাসা করা হয়। আর এই জিজ্ঞাসা থেকে শুরু করে নাম এন্ট্রি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগে স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত কর্মীর। ফলে সময় যতটা দেয় হয় ঠিক ততটাই বাড়তে থাকে কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন। আর এই সকল ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে রাজ্য সরকার ব্যবহার করতে চাই ডিজিটাল রেশন কার্ড।

আরও পড়ুন : ভারতের সেরা ১০ টি বেসরকারি হাসপাতাল – সুখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য

ডিজিটাল রেশন কার্ডের কিউআর কোড অথবা বার কোডে থাকে গ্রাহকের সম্পূর্ণ নথি। সেই কোড স্ক্যান করলেই অতি সহজে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যপরিসেবা নিতে আসা গ্রাহকের সম্পূর্ণ বিবরণ পেয়ে যাবেন স্বাস্থ্য কর্মী। কম সময়ে নাম নথিভুক্ত করে দিয়ে দেওয়া হবে একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার। সেই নাম্বার পরবর্তী ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এলে আরো কম সময়ে পূর্ববর্তী চিকিৎসার বিষয়ে জানতে পারবেন চিকিৎসকেরা এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই প্রক্রিয়ার ফলে পুরো বিষয়টি অতি সহজ এবং কম সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠবে বলে দাবি রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের।

আরও পড়ুন : কলকাতার সেরা ৭টি হাসপাতাল যেখানে আপনি পাবেন সেরা স্বাস্থ্য পরিষেবা

ডিজিটাল রেশন কার্ড এবং মোবাইল নাম্বার নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আগামী ১৫ ই জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে। সুতরাং মনে রাখবেন আগামী ১৫ই জানুয়ারির পর থেকে সরকারি হাসপাতালে আউটডোরে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল রেশন কার্ড এবং মোবাইল নাম্বার সাথে নিয়ে যাবেন।