“বিয়ের আগেই গর্ভে সন্তান, ‘লোকলজ্জা’ থেকে বাঁচতে বিয়ে”, উত্তর দিলেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা

বিয়ের আগে গর্ভধারণ কিংবা “সিঙ্গেল মাদার” হিসেবে সন্তান প্রতিপালন বা লিভ ইন রিলেশনশিপ সম্পর্কে বর্তমান মানবপ্রজন্মের চিন্তাধারা অনেকটাই বদলিয়েছে। বিশেষত ভারতীয় সংবিধান স্বীকৃত হওয়ার পর এই বিষয়গুলি নিয়ে এখন আর সংরক্ষণপন্থীরা সেভাবে রে রে করে উঠতে পারেন না। তবু আধুনিক মনস্কদের মাঝেও এই নিয়ে কিন্তু তরজার কোনও অন্ত নেই।

নেট মাধ্যমে এরকমই একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে বি-টাউনের অন্যতম গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে। সম্প্রতি বৈভব রেখির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন দিয়া। বিয়ের ঠিক তিন সপ্তাহের মাথায় দিয়া বেবি বাম্প সমেত নিজের বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। নতুন সদস্যের আগমনের খবর পেয়ে অনুরাগীদের একাংশ যেমন তাকে শুভেচ্ছাবার্তায় ভরিয়ে দিয়েছেন, তেমনই একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীনও হতে হয়েছে তাকে।

কেউ কেউ দিয়াকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, “বিয়ে করার সিদ্ধান্তের পেছনে কি তাহলে প্রেগনেন্সিই মূল কারণ?” কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, দিয়া কেন বিয়ের আগে প্রেগন্যান্সির খবর প্রকাশ করলেন না? তিনি কি বিয়ের আগে গর্ভবতী হওয়াকে অন্যায় বলে মনে করেন? এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘খুবই ভাল খবর, কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। মহিলা পুরোহিতের মন্ত্রে বিয়ে করে প্রচলিত রীতি ভেঙেছেন ঠিকই, কিন্তু বিয়ের আগে গর্ভবতী হওয়ার খবরটা দিলেন না কেন? তার মানে কি বিয়ের আগে গর্ভবতী হওয়াটা অন্যায়? কেন এক জন মহিলা বিয়ের আগে সন্তানসম্ভবা হতে পারেন না’? সমালোচকদের সব প্রশ্নের সুন্দর জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী।

দিয়া তাঁর জবাবে জানিয়েছেন, বৈভবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ প্রেগনেন্সির ফলাফল কোনওভাবেই নয়। বৈভবের সঙ্গে সারাজীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। তারা যখন বিবাহের পরিকল্পনা করছেন তখনই দিয়া জানতে পারেন তিনি সন্তানসম্ভবা। অতএব প্রেগনেন্সির কারণে বিয়ের সিদ্ধান্ত তাঁরা মোটেও নেননি তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেত্রী।

প্রশ্ন উঠেছিল, এতদিন তিনি কেন নিজের প্রেগনেন্সির খবর নেটিজেনদের জানাননি? বিয়ের তিন সপ্তাহের মাথাতেই কেন জানালেন? সে প্রসঙ্গে দিয়ার জবাব, এতদিন চিকিৎসার কারণে শিশুর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই তিনি এই সুখবর সর্বসমক্ষে আনেননি।

দিয়া আরও বলেছেন, জীবনের সবথেকে বড় উপহার হলো সন্তান। এক্ষেত্রে কোনো লজ্জা থাকতে পারে না। অভিনেত্রী এও বলেছেন, একজন মহিলা একা সন্তান প্রতিপালন করবেন না বিয়ে করে দম্পতি হিসেবে সন্তানের দায়িত্ব নেবেন তা নির্ভর করছে তার নিজের সিদ্ধান্তের উপর। তাই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ঠিক-ভুল বিচার-বিবেচনা না করে বরং উচিত-অনুচিত ভাবাটাই শ্রেয় বলে উল্লেখ করেছেন দিয়া তার জবাবে।