দেবশ্রীর ওভার অ্যাকটিংয়ে অতিষ্ঠ দর্শক, ঘুড়ির লড়াই নিয়ে শুরু নতুন ন্যাকামি

জি বাংলার (Zee Bangla) নতুন ধারাবাহিক ‘সর্বজয়া’কে (Sarbojaya) নিয়ে প্রথম থেকেই দর্শকের উৎসাহের কোনও অন্ত নেই। একে তো এক বাঙালি মধ্যবয়সী গৃহবধূর জীবন নিয়ে গল্প, তার উপর আবার নাম ভূমিকায় রয়েছেন খোদ টলিউড অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় (Debashree Roy)। বড় পর্দার পর টেলিভিশনের পর্দায় বলতে গেলে ডেবিউ করলেন দেবশ্রী। প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই ধারাবাহিক নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বেশ টের পাওয়া গিয়েছে। তাই তো প্রথম থেকেই টিআরপি তালিকায় সেরা তিনে জায়গা করে নিয়েছে সর্বজয়া।

কিন্তু ধারাবাহিক সামান্য এগোতেই দেবশ্রীকে নিয়ে ফের শুরু হয়েছে সমালোচনা। দর্শকের একাংশের অবশ্য এই ধারাবাহিকটি বেশ ভালই লাগছে। গল্পের জমাট বুনন এবং দেবশ্রীর অভিনয় ধারাবাহিকের ইউএসপি বলে মনে করছেন তারা। কিন্তু দর্শকের একাংশের আবার দেবশ্রীর অভিনয় ওভার অ্যাকটিং বলেই মনে হচ্ছে! তারা মনে করছেন, দেবশ্রী অভিনয় করতে গিয়ে অতি নাটকীয়তা আশ্রয় নিয়ে ফেলছেন। এতে ধারাবাহিকের মান নিচে নেমে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য কিছুদিন আগেই জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তালের বড়া বানানো নিয়ে একটি বিশেষ পর্বের আয়োজন করা হয়েছিল ধারাবাহিকে। সেখানে দেবশ্রীকে নিজের হাতে তাল ছাড়িয়ে রস বার করে বড়া বানাতে দেখা গিয়েছিল। তবে সেই এপিসোডে দেবশ্রীর অভিনয় দর্শকের চোখে বিঁধেছিল। দেবশ্রীর সেই ‘তালের বড়া স্পেশাল এপিসোড’ এর পর এখন বিশ্বকর্মা পূজার ঘুড়ি ওড়ানো নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন তরজা।

জয়া ঠিক করেছে, এবার বিশ্বকর্মা পুজোয় বড় ভাসুরকে ঘুড়ি ওড়ানোর ক্ষেত্রে টেক্কা দেবে সে। বস্তির ছেলে মেয়েদের নিয়ে সে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ফেলে। এদিকে জয়ার বিজনেস টাইকুন স্বামীও স্ত্রীকে সমর্থন করছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, এই ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায় যে দল জিতবে তাদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হবে। আর এতেই কার্যত দেবশ্রীর উপর চটেছেন দর্শকের একাংশ। তাদের দাবি, দেবশ্রীর অতিরিক্ত অভিনয় ধারাবাহিকের মজাটাই নষ্ট করে দিচ্ছে!

উল্লেখ্য, প্রথমদিকে অবশ্য এই ধারাবাহিককে স্টার জলসার শ্রীময়ী ধারাবাহিকের নকল বলেই মনে করেছিলেন দর্শকের একাংশ। ধারাবাহিকের প্রথম প্রোমো যখন প্রকাশ পায় তখন একজন মধ্যবয়সী গৃহবধূকে নিয়ে নতুন ধারাবাহিকের গল্প শুরু হতে দেখে অনেকেই এমনটা মনে করেছিলেন। তবে সর্বজয়া শ্রীময়ী মতো সংসারসর্বস্ব মানুষ হলেও তার চরিত্র শ্রীময়ীর থেকে অনেকটাই আলাদা।

জয়া বড়লোক বাড়ির বধূ হলেও সাধারণের সঙ্গে তিনি অতি সহজেই মিশে যেতে পারেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তার মনোমালিন্য চললেও নিজের স্বামীকে তিনি বরাবর তার পাশে পান। যদিও তার নিজের মেয়ের সঙ্গেই তার মনোমালিন্য চলে। আসলে বস্তির ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মায়ের সদ্ভাব সে ঠিক মেনে নিতে পারে না। যদিও জয়া অবশ্য থোড়াই কেয়ার। সে সবদিক সামাল দিয়ে নিজের স্বপ্নপূরণ করে।