১৩ ক্রিকেটার যাদের ক্রিকেট জীবন শেষ হয় দুঃখজনক ভাবে

ক্রিকেটের দুনিয়ায় এমন কিছু ব্যাক্তি আছেন যাদের ক্রিকেট জীবনের শেষ পর্যায় ছিল খুব দুঃখজনক। দেখে নাওয়া যাক এমনই কিছু মানুষের কথা।

১. নাথান ব্র্যাকেন

তিনি একসময় বিশ্বের সেরা বোলার হিসেবে বিবেচিত হন কিন্তু ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে ( ওডিআই) তে তিনি হাঁটুতে চোট পান এবং তারপর আইসিসি চ্যাম্পয়ন ট্রফি থেকে বাদ পড়েন। তারপর ২০১১ সালে তিনি অবসর নাওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

২. নভজত সিং সিদ্ধু

শোনা যায় দলের রাজনীতির শিকার হয়েই তাকে অবসর নিতে হয়।একটা মত বলে একসময় ওয়াদেকার ওনার বদলে অন্য কাউকে বেছে ছিলেন, আবার অন্য একটি মত অনুসারে অজারুদ্দিন ঠিক করেছিলেন
সিদ্ধু যাতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারেন।এইসব কারণেই তিনি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

৩. ভি এস লক্ষন

তিনি কেন অবসর নিয়েছিলেন তা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যায়না কিন্তু অনেকের মতে ২০১১ সালে ভারতের অস্ট্রেলিয়া ট্যুরের সময় তিনি আট ইনিংসে মাত্র দুটি অর্ধ সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন এবং সেই সময় তার খারাপ পারফরমেন্স এর জন্য মিডিয়া এবং আরও অনেক ক্রিকেটার তার নামে কটূক্তি করেন।পরবর্তী নিউজিল্যান্ড সিরিজে নির্বাচিত হওয়া সত্বেও অবসর নেন তিনি।

৪. মনোজ প্রভাকর

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য তিনি নির্বাচিত হননি, কারন ছিল কেবল একটা খারাপ ম্যাচ। তার আগেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিনি বল করতে গিয়ে দুই অভাবে ৩৩ রান দিয়েছিলেন। ওই একদিনের খারাপ খেলার জন্য তাকে বাদ দাওয়া হয় এই কথায় তিনি কষ্ট পান এবং শেষমেষ তিনি ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

৫. মার্ক বাউচার

সমারসেট এর বিরুদ্ধে তার দলের খেলার সময় তিনি উইকেট কিপিং করছিলেন এবং সেই সময়ই ইমরান তাহিরের করা বল তার চোখে গিয়ে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তার চোখের মণি নষ্ট হয়ে যায় এবং তিনটি বড় সার্জারির পর অবশেষে তিনি অবসর ঘোষণা করেন।

৬. ফিলিপ হজেস

অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার হয়ে তিনি মাত্র ২০ বছর বয়সে তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে সাউথ ওয়েলস এর সাথে সাউথ আফ্রিকার ম্যাচে সেন অ্যাবট এর বাউন্সারে তার কানের ওপরের অংশ, যে অংশটি হেলমেট দ্বারা সুরক্ষিত থাকেনা, সেখানে আঘাত লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।কিন্তু এর ফলে তিনি কোমা তে চলে যান এবং সেখান থেকে তিনি আর ফেরেননি।

৭. মোহাম্মদ কেইফ

তিনি ২০০০ সালে জুনিওর বিশ্বকাপে অসাধারণ নেতৃত্ব দক্ষতা দেখান, ২০ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেন এবং অসাধারণ ফিল্ডিং করেন। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি। ৮৭ রন করেন যার ফলে ভারত ৩২৬ রান করে সেই ম্যাচ জিতে যায়। কিন্তু পরবর্তী কালে গ্রেগ চ্যাপেল এর কোচিং এ দলের ব্যাটিং অর্ডার দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকায় তার পারফরমেন্স খারাপ হতে থাকে এবং তার অ্যাভারেজ এবং স্ট্রাইক রেট কমতে থাকে। তিনি ২০০৭ এর বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যান। ২৬ বছর বয়সে তিনি জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন এবং ২০১৮ সালে সম্পূর্ণ ভাবে অবসর নেন।

৮. কেভিন পিটারসেন

একসময় টাইমস তাকে ” মোস্ট কমপ্লিট ব্যাটসম্যান ” এর শিরোপা দিয়েছিল এবং দা গার্জিয়ান তাকে ইংল্যান্ড এর গ্রেটেস্ট মডার্ন ব্যাটসম্যান বলে অভিহিত করে কিন্তু ২০১৮ সালের মার্চ মাসে তিনি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নিজের পরিবারকে সময় দাওয়ার কথা ঘোষণা করেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।

৯. শকলেইন মুশতাক

তিনি এখনও পর্যন্ত সেরা স্পিনার হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি জীবনে ২৬০ এর থেকেও বেশী ওডিআই উইকেট নিয়েছেন। পরবর্তীকালে তার হাঁটুতে ব্যথার জন্য তাকে দুটি হাটুতেই অপারেশন করাতে হয়।তারপর তিনি ক্রিকেট তার আগের ফর্ম হারিয়ে ফেলেন এবং ধীরে ধীরে অবসর নেন।

১০. হেনরি অলঙ্গা

জিম্বাবোয়ের ফাস্ট বোলার হয়েই তাকে খুব তাড়াতাড়িই তার ক্রিকেট জীবন থেকে অবসর নিতে হয়। ২০০৩ এর বিশ্বকাপের সময় তিনি হতে কালো ব্যান্ড পরে তিনি জিম্বাবোয়ের “ডেথ অফ ডেমোক্রেসি “র বিরোধিতা করেন। এরজন্য তাকে ব্যাক্তিগত এবং কর্মক্ষেত্রে সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়। দেশের পুলিশ কতৃপক্ষ তাকে গ্রেফতার করতে আসে। জিম্বাবোয়ের হয়ে খেলা তার এজেন্ডার বিরোধী ছিল বলে তিনি অবসর নেন।

১১. জেমস টেলর

তিনি একজন অসাধারণ ফিল্ডার ছিলেন, কিন্তু তার হৃদযন্ত্রের একটি বিশেষ অবস্থা ” আরহিথমজেনিক রাইট ভেন্ত্রিকুলার কর্দিওমপ্যথি ” এর জন্য তাকে ক্রিকেট ছাড়তে হয়। তিনি নটিংহ্যাম শায়ার এবং ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। পরবর্তীকালে তাকে হৃদযন্ত্রে অপারেশন করাতে হয় এবং তার ফলে তার হার্টে একটি ডিফ্রিমেলেটর লাগাতে হয় তার হার্ট রেট ঠিক রাখার জন্য।তার শরীর ঠিক রাখার জন্য তাকে মাত্র ২৬ বছর বয়সে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

১২. চান্দের পাল

পূর্ববর্তী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্যাপ্টেন চান্দের পাল একসময় ইন্দো ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার দের মধ্যে বিশ্বের সবথেকে বেশী রান করা খেলোয়াড়দের মধ্যে ৮ নম্বরে ছিলেন । কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট বোর্ডের থেকে তাকে অবসরের জন্য চাপ দাওয়া হয়। ফলে ৪১ বছর বয়সে তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। এখন তিনি গুয়ানার জন্য খেলেন।

১৩. জোনাথন ট্রট

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান, জোনাথন ট্রট ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সিরিজ হারার পরে অবসর ঘোষণা করেছিলেন। দুর্দান্ত পারফম্যান্স দাওয়ার পরও হেরে যান তারপর তিনি ডিপ্রেসনে এবং মানসিক চাপে পড়েন। পরবর্তীতে মানসিক স্বাস্থ্য তাকে ক্রিকেট ছাড়তে বাধ্য করে।