বিশ্বের কোথায় কোথায় চলছে ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা, গবেষণা কত দূর এগোলো

ছয় মাস হয়ে গেছে এখনও রেহাই মেলেনি করোনা ভাইরাসের থেকে। চিনের উহানে বছরের শুরুর দিকেই ছড়াতে শুরু করে ভাইরাসটি। এখনও পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১৫ কোটির বেশি মানুষ এই মারণ ভাইরাসের কবলে পড়েছেন এবং সাড়ে ৬ লক্ষের ও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দিনে দিনে এই সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। এই ভাইরাসের মকাবিলায় গোটা বিশ্ব প্রতিনিয়ত লড়ে যাচ্ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত কোনও টিকা সফল ভাবে আবিষ্কার হয়নি। করোনাভাইরাসকে (Coronavirus) বিনাশ করতে উঠেপড়ে লেগেছে গোটা বিশ্ব। নিজেদের মতো করে প্রতিষেধক টিকা তৈরির পথে হাঁটছে অনেক দেশই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশ করা তথ্য অনুসারে, এখন পর্যন্ত ১৫৫ টিরও বেশি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে এবং তাদের মধ্যে ২৩ টি হিউম্যান ট্রায়াল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

ভ্যাকসিন বিকাশের পর্যা গুলি কি কি?

প্রিলিনিকাল পরীক্ষা: বিজ্ঞানীরা প্রথমে বানর বা ইঁদুরের মতো প্রাণী দেহে এই ভ্যাকসিনটি দিয়ে দেখে তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারছে কিনা।

প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল: প্রিলিনিকাল পরীক্ষা সফল হলে, ভ্যাকসিনটি প্রথম পর্যায়ের মানব ট্রায়ালস জন্য পাঠানো হয়।
টিকাটি রোগ প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়া জাগ্রত করে কিনা তা নিশ্চিত করতে অল্প সংখ্যক লোককে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল: এটি একটি প্রসারিত পরীক্ষা, যেখানে ১০০ এর বেশি লোকের ওপর ট্রায়াল করা হয় এবং তা শিশু ও বয়স্কদের গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ভ্যাকসিন টি বিভিন্ন বয়সের গ্রুপগুলিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা দেখার জন্য।

তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল: সর্বশেষ পর্যায়ে প্লেসবো প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের তুলনায় কতজন সংক্রামিত হয় তা দেখতে ১০০০ জন লোককে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

করোনা ভ্যাকসিন যেগুলি থার্ড স্টেজে আছে

এই পর্যায়ে বিজ্ঞানীরা কয়েক হাজার লোককে এই ভ্যাকসিনটি দিয়ে দেখেন যে প্লেসবো (সাধারণত স্যালাইনের দ্রবণ) প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীদের তুলনায় কতজন সংক্রামিত হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হল মানব শরীরে ভ্যাকসিনটির রোগ প্রতিরোধ করতে, প্যাথোজেনের সংক্রমণকে বাধা দিতে এবং অ্যান্টিবডি বা অন্যান্য ধরণের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারছে কিনা। বর্তমানে তিনটি ভ্যাকসিন সফল ভাবে তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে পৌঁছেছে।

১. করোনাভ্যাক (CoronaVac):-
এই ভ্যাকসিনটি চিনে আবিষ্কৃত হয়েছে। সিনোভ্যাক একটি বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা যা তাদের তৃতীয় স্তরের মানব ট্রায়াল শুরু করেছে। ভ্যাকসিনটির নাম করোনাভ্যাক (CoronaVac), ভ্যাকসিনটি পরীক্ষার আগের পর্যায়ে ফলাফল দেখিয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাতে, ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ৭৪৩ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরীক্ষা করা হয়। প্রথম ধাপ বা দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালগুলিতে কোনও মারাত্মক বিরূপ ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে যে ভ্যাকসিন টিকা দেওয়ার ১৪ দিন পরে মানব দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

২. এজিডি১২২২ (AZD1222):-:- 
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য কভিড-১৯ ভ্যাকসিন যার লাইসেন্স অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে দেওয়া হয়েছে তা তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় রয়েছে। যদিও সংস্থাটি পূর্বের পর্যায়গুলির ফলাফল প্রকাশ করেনি, ভ্যাকসিনের পরীক্ষা গুলি থেকে পজিটিভ ফল পেয়েছে এবং জুলাইয়ের শেষের দিকে ফলাফল প্রকাশের আশা করছে।

৩. এমআরএনএ-১২৭৩ (MRNA-1273):-
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মডেরনা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশন ডিসিজেস (NIAID) দ্বারা বিকাশিত এই ভ্যাকসিনটি আপাতত এর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় রয়েছে। আমেরিকান বায়োটেকনোলজি সংস্থা ওষুধ আবিষ্কার এবং বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করেছে তাদের করোনভাইরাস ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষাও শুরু করেছে। পূর্ববর্তী পর্যায়ে, যারা প্রাথমিক ডোজ পেয়েছিলেন তাদের পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং ডেটা পুনরুদ্ধার করে জানা গেছে যে এই ভ্যাকসিনটি সারস-কোভি-২ (SARS-CoV-2) এর বিরুদ্ধে একটি দ্রুত এবং শক্তিশালী প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়া প্ররোচিত করে।

করোনা ভ্যাকসিন যেটা সেকন্ড স্টেজে আছে

এই পর্যায়ে, শিশুদের এবং বয়স্কদের মধ্যে বিভিন্ন ব্লাড গ্রুপের মানুষকে এই ভ্যাকসিনটি দেওয়া হয়। বিভিন্ন বয়সের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রতিক্রিয়া করে তা দেখার জন্য। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার লক্ষ্য হল ভ্যাকসিনের সুরক্ষা, ইমিউনোজেনসিটি, প্রস্তাবিত ডোজ এবং সরবরাহের পদ্ধতি অধ্যয়ন করা। আপাতত চিনের উহান শহরে ক্যানসিনো বায়োলজিক্স-এর বানানো AD5-nCoV ভ্যাকসিনটি এই তালিকায় রয়েছে।