ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার সরঞ্জাম দান করছেন বৃদ্ধ দম্পতি

ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার সরঞ্জাম দান করছেন বৃদ্ধ দম্পতি

সকলেই চান যাতে শেষ জীবন সুখের হয়। সববয়সে তো আর গায়ের জোর এক হয় না তাই যতক্ষন শরীরে শক্তি রয়েছে ততক্ষন খেটে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করলে শেষ জীবন সুরক্ষিত হবে। যেটুকু সম্বল রয়েছে তাতে পারিবারিক দ্বায়দ্বায়িত্ব পালন করেও বৃদ্ধ বয়স যাতে আরাম করে কেটে যায় এই চিন্তাই সকলে করেন। ব্যতিক্রম শিকদার দম্পতি। বৃদ্ধ বয়সে যখন হাতে থাকা সঞ্চয় আগলে রাখেন, সেইসময় নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে মানবসেবার কথা ভাবছেন এই দম্পতি।

কাছের এই আত্মীয়কে বিনা ডায়ালিসিসে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে দেখেন মধুসূদন বাবু সেই শুরু ৮৮ বছরের বৃদ্ধ মধুসূদন শিকদার ও তাঁর স্ত্রী শিবানীদেবী নিজেদের সঞ্চয় থেকে চিকিৎসার জন্য একের পর এক সরঞ্জাম দান করে চলেছেন আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। এই সমস্ত সরঞ্জাম দিয়েছেন নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ভাঙিয়ে। মধুসূদনবাবুকে বয়সের ভার খানিক দূর্বল করে দিলেও মনের জোর হারাননি তিনি। ওয়াকিং স্টিক ছাড়া হাঁটতে পারেন না কিন্তু মনের জোর আর শিবানীদেবী যখন তাঁর সঙ্গী মধুসূদনবাবুকে আটকায় কার সাধ্যি।

শিকদার দম্পতি প্রথম আরজিকরে একটি ডায়ালিসিস মেশিন দান করেন। এই ডায়ালিসিস মেশিনের দাম ৮ লক্ষ টাকা। এরপর দেন একটি স্লিট ল্যম্প। এই স্লিট ল্যাম্পের দাম ৪ লক্ষ টাকা। এরপর তাঁরা দান করেন অপথ্যালমোস্কোপ। এই মেশিনটির দাম ৮০ হাজার টাকা। এবং সবশেষে দান করেন একটি পোর্টেবল ডায়ালিসিস মেশিন। এই পোর্টেবল ডায়ালিসিস মেশিনটি ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটের জন্য যার দাম ১৮ লক্ষ টাকা।আর এই সমস্ত সরঞ্জাম দিয়েছেন নিজেদের ফিক্সড ডিপোজিট, গ্রাচ্যুইটি ও কিষান বিকাশ পত্র ভাঙিয়ে।

Source

এই পোর্টেবল ডায়ালিসিস মেশনটি আনানো হয়েছে সুদূর জার্মানি থেকে। মধুসূদনবাবু নিজেই জার্মান চ্যান্সেলরকে চিঠি দেন। জার্মানি থেকে মেশিনটি কেনা থেকে ভারতে নিয়ে আসা সবটাই নিজে দেখেন। গত বৃহস্পতিবার পোর্টেবল ডায়ালিসিস তুলে দেন হাসপাতাল কতৃপক্ষের হাতে। কিন্তু এখানেই শেষ নয় শুক্রবার ফের হাসপাতালে চলে যান তিনি ডায়ালিসিস মেশিন ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা দেখতে। যে বয়সে মানুষ সঞ্চয় দিয়ে আরামে আয়েশে জীবন কাটানোর কথা ভাবে সেই বয়সে নিজেদের সঞ্চয় উজার করে দিচ্ছেন শিকদার দম্পতি।

আরও পড়ুন :- কীভাবে শরীরে ছড়িয়ে পড়ল করোনা, শুনে নিন এই মেয়ের মুখে

একসময় আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডাক্তারি পড়তে ভর্তি হয়েছিলেন মধুসূদন শিকদার। অর্থের অভাবে ডাক্তার হওয়া হয়ে ওঠেনি তাঁর, মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা। কিন্তু আরজিকর মেডিকেল কলেজের সাথে তাঁর টান রয়ে যায়। এরপর কাছের আত্মীয়কে চিকিৎসার অভাবে হারিয়ে ফেলেন মধুসূদনবাবু। সেই থেকে ঠিক করেন সঞ্চিত অর্থ দিয়ে রোগীদের সেবা করে যাবেন। পাশে থাকেন ৪৯ বছরের সঙ্গিনী শিবানীদেবী। সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থ দান করে যান মানব সেবায়।

আরজিকর হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডাঃ মানস কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগে ক্রিটিক্যাল কেয়ার রোগীদের এসএসকেএমে রেফার করা হতো এখন আরজিকরেই চিকিৎসা হবে। ক্রিটিকাল কেয়ারের রোগীরা বেশিরভাগই চলাফেরা করতে পারে না তাঁদের জন্য পোর্টেবল ডায়ালিসিস মেশিন কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন :- সর্দি জ্বর আর করোনা জ্বরের পার্থক্য, করোনা জ্বর হয়েছে বুঝবেন কীভাবে

তবে এখানেই শেষ নয় ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ এ দুটি ডায়ালিসিস ইউনিট দিতে চান মধুসূদনবাবু ও শিবানীদেবী। কিন্তু শেষ সঞ্চয়ের সবটুকু উজার করে দিলে তাঁদের কি হবে? প্রশ্নের উত্তরে শিকদার দম্পতি বলেন “উপায় একটা কিছু ঠিক হবে”