করোনা ভ্যাকসিন আগে কারা পাবেন, কত হবে ভ্যাকসিনের দাম

দেশে নিত্যদিন নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে কোরোনা সংক্রমন।এমন অবস্থায় সবাই অপেক্ষায় আছে ভ্যাকসিন আসার।ইতিমধ্যেই সব দেশেই ভ্যাকসিন নিয়ে ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছে।ভারতেও চলছে ট্রায়াল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন আগামী বছর গোড়ার দিকেই দেশে ভ্যাকসিন চলে আসবে।কিন্তু কিভাবে হবে এই ভ্যাকসিনের বণ্টন?রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানে এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়ে দিনরাত কাজ করছে যাতে যখন ভ্যাকসিন আসবে তা সমানভাবে সবার মধ্যে বণ্টন করা সম্বব হয়। তিনি এও বলেন যে কারা আগে ভ্যাকসিন পাবেন সেই তালিকা তৈরি হয়ে যাবে অক্টোবরের মধ্যেই।

তিনি বলেন ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন বয়সের মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সেইদিকে লক্ষ রেখেই এই তালিকা তৈরি হবে। রাজ্য সরকারগুলোর সাথে তাল মিলিয়েই কাজ করছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক এবং ইতিমধ্যেই তারা একটি ফরম্যাট তৈরি করেছে যেখানে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জনসংখ্যার তালিকা জমা দিতে পারবে রাজ্যগুলো।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায় স্বাস্থ্যকর্মী, ৬৫ বছরের বেশী বয়স, কোনো বড় শারীরিক অসুস্থ্যতা আছে (যেমন ডায়বেটিস, সুগার) এরকম ব্যাক্তিদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অক্টোবরের মধ্যেই বিশেষ রূপরেখা তৈরি হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও দেখেন যে যদি কোনো ভ্যাকসিন বিদেশ থেকে আসে সেক্ষেত্রে তা আগে ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে আইসিএমআর।

তিনি জানান যে প্রাথমিক হিসেবে তারা দেখেছেন যে প্রথমে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডোজ কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ কোটি মানুষকে দেওয়া সম্ভব হবে এবং তা ২০২১ সালের জুলাই মাসের মধ্যেই হয়ে যাবে। তবে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল এখনও নানান পর্যায় চলছে।

ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা সেরাম ইন্সটিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা কেন্দ্রকে কিছুদিন আগে প্রশ্ন করেছিলেন করোনার ভ্যাকসিন হলে তা কিনতে যে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন তা কেন্দ্রের কাছে আছে কিনা।

এর উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাঙ্ক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।কিন্তু যেহেতু দেশের মানুষের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া কেন্দ্রের এই মুহূর্তে প্রাথমিক কর্তব্য তাই এই কাজের জন্য কোনও ফিনান্সিয়াল এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে নারাজ কেন্দ্র।

ডক্টর হর্ষবর্ধন এও জানান, ভারতের ট্রায়াল চালানো কোম্পানিগুলোকে সবদিক থেকে সাহায্য করবে কেন্দ্র এবং ভ্যাকসিন আসার পর যাতে কোনরকম কালোবাজারি না হয় সেই দিকেও নজর দেবে কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই পরিকল্পনামাফিক কাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং ভ্যাকসিনের সরবরাহের দিকে নজর রাখার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক, নীতি আয়োগ ও ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের আধিকারিকদের নিয়ে একটি কমিটিও তৈরি করেছে কেন্দ্র।দেশের মানুষদের সুষ্ঠ ভাবে ভ্যাকসিন বণ্টন করাই কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।