একটি করোনা টিকা কতদিন কার্যকর থাকে? কী বলছে গবেষণা

Here’s What Happened to the Body After taking Pfizer Corona Vaccine

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে করোনা টিকা (Corona Vaccine) পাওয়ার আশা দেখতে পাচ্ছে বিশ্ববাসী। কিন্তু সেই টিকা কতদিন মানব শরীরে কার্যকর থাকবে সেই নিয়ে নানান মত দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বলা হচ্ছে করোনা টিকা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই সুরক্ষা দিতে পারবে, এর প্রভাব আজীবন থাকবে না। অনেক ক্ষেত্রে আবার মনে করা হচ্ছে প্রথম ধাপে এই টিকা শুধুমাত্র সংক্রমণজনিত রোগ থেকেই মুক্তি দেবে। সম্প্রতি করোনা টিকার কার্যকারিতার সময় নিয়ে করা এক গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য।

গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, কম করে আট মাস সুরক্ষা দিতে পারবে করোনা টিকা। অর্থাৎ আট মাস শরীরে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে এই টিকা।সম্প্রতি এই গবেষণা করেছে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্টরা যা প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স ইমিউনোলজি’ জার্নালে।

আরএনএ এর সাহায্যে তৈরী টিকা

শরীরের ম্যাসেঞ্জার আরএনএ বা বার্তাবহ আরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে এই টিকা তৈরি করা হচ্ছে যা মানব শরীরে ঢুকে করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের অনুকরণ করে। এর ফলে এই অবস্থার প্রতিরোধ করার জন্য শরীরের প্রতিরোধক কোষ বা বি সেল গুলি সক্রিয় হয়ে যায়।

ডিএনএ টেকনোলজিতে তৈরি টিকা

এই ক্ষেত্রে কম সংক্রমন ভাইরাসকে ব্যাবহার করা হয় ভেক্টর হিসেবে।উদাহরণ হিসেবে অক্সফোর্ডের টিকার কথা বলা যায় যেখানে অ্যাডেনোভাইরাসকে ( সর্দি কাশির ভাইরাস) নিষ্ক্রিয় করে ভেক্টর হিসেবে টিকায় ব্যাবহার করা হয়েছে।এই ভেক্টর ভাইরাসের ভেতরে সংক্রমক ভাইরাসের স্ট্রেন ঢুকিয়ে এই টিকা তৈরি করা হয়। তবে এই টিকাও মূলত শরীরের বি কোষকেই সক্রিয় করে।

আরও পড়ুন : কোন মহিলাদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি ও কেন

গবেষকদের মতে, টিকার সঠিক ডোজ শরীরে ঢুকলেই ‘মেমরি-বি’ কোষ তৈরি হয় যার মূল কাজ সংক্রামক ভাইরাসকে চিনে রাখা এবং ‘অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স’ তৈরি করা। এই মেমরি-বি কোষ বিভাজিত হয়ে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে যার কার্যকারিতা বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে। এছাড়াও পরবর্তীকালে এই একই রকম কোনও সংক্রমক ভাইরাস শরীরে ঢুকলে এই মেমরি-বি কোষ শরীরে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এইটাই হবে করোনা টিকার মূল কাজ।এছাড়া যদি শরীরে টি-কোষ বা টি-লিম্ফোসাইট কোষ সক্রিয় হয় সেক্ষেত্রে সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেন সমেত আস্ত কোষকেই নষ্ট করে দেবে এই কোষ।

আরও পড়ুন : করোনার টিকা নিতে কীভাবে নাম নথিভুক্ত করবেন, জেনে নিন পদ্ধতি

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভাইরাসের যতগুলি স্ট্রেনের জিনের বিন্যাস বের করতে বিজ্ঞানীরা সক্ষম হয়েছেন তার সবকটিই মোটামটি আট মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন ভ্যাকসিনের ওপর বিশেষ একটা প্রভাব ফেলবে না কারণ এই স্ট্রেন সংক্রমক  হলেও কতটা জটিল অসুখ সৃষ্টি করতে পারে তা জানা যায়নি।দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়া এই নতুন স্ট্রেন নিয়ে আবার আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : ভারতে ঢুকে গেল করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন, চাঞ্চল্য মুম্বইয়ে

এমন অবস্থায় জার্মানির বায়োটেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার বায়োএনটেক এর দাবি যে তাদের টিকা এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেনকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে পারবে। তারা এও দাবি করেন যে প্রয়োজনে আরএনএ টেকনোলজিতে নতুন প্রতিষেধক তৈরি করতেও পারবে তারা যা  কোনও মিউট্যান্ট বা জিনগতভাবে পরিবর্তিত ভাইরাল স্ট্রেনকে নষ্ট করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রেও প্রতিষেধক কম করে আট মাস কার্যকর থাকবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।