করোনার দুশ্চিন্তায় শরীরে দেখা দিচ্ছে অন্য রোগ, সুস্থ থাকতে যা যা করনীয়

এখনও পর্যন্ত কোরোনা ভাইরাসকে(Corona Virus) সঙ্গী করেই এগোতে হচ্ছে মানুষকে।মহামারীর ভয়ে পূর্বের দৈনন্দিন জীবনের অনেককিছুই বদলে গেছে মানুষের। আগে জ্বর সর্দি কাশি সামান্য বিষয়ই ছিল কিন্তু এখন তা হলেই কোরোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে দুশ্চিন্তা শুরু করছেন মানুষ।

দৈনন্দিন জীবনের পরিবর্তন, করোনা আতঙ্ক, পকেটে টান আরও কত সমস্যাই এসে দাড়িয়েছে মানুষের সামনে।আর এইসব সমস্যার কারণে অবসাদ বা মানসিক দুশ্চিন্তা আসছেই এবং তার সাথেই আসছে আরও অন্যান্য নানান রোগ।

অনেকেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে মন মতন যা খুশি খেতে থাকেন আবার অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়েন নেশায়। এইসব ফলে ওজন জনিত নানারকম সমস্যা (যেমন হাই প্রেশার, ডায়াবিটিস, হাই কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার, হৃদরোগ ইত্যাদি) তৈরি হচ্ছে শরীরে।এছাড়াও দুশ্চিন্তা ও খারাপ মেজাজ ডেকে আনে আরও একগুচ্ছ সমস্যা।

মানসিক চাপের সাথে ডায়াবিটিস, হাই প্রেশার ও হৃদরোগের মতন সমস্যাগুলির সরাসরি সম্পর্ক আছে।এছাড়াও উদ্বেগের ফলে অনিদ্রা, খারাপ মেজাজ সহ একাধিক সমস্যা হতে পারে যা ব্যাক্তির সাধারণ জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত মানসিক চাপ মানুষের শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয় এবং এর ফলে যেকোনো সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া দীর্ঘদিন মানসিক উদ্বেগ অম্বল ও বদহজম বাড়ায়। মেয়েদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণও হয়ে দাড়ায় দুশ্চিন্তা। দুশ্চিন্তা করে কোনোভাবেই কোরোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, বরং দুশ্চিন্তার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে আরও জাকিয়ে বসবে কোরোনা।তাই চেষ্টা করতে হবে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমানোর। এরজন্য কিছু জিনিস মেনে চলতেই হবে আপনাকে।

প্রথমত ‘নিউ নর্মাল জীবন’ নিয়ে প্যানিক করবেন না। এটাকে মেনে নিয়েই এগোতে শিখুন। আগের জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো বা মন খারাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

এতদিন জীবনের ব্যস্ততায় যে কাজগুলো করা হয়ে ওঠেনি বা যে কাজগুলো আপনাকে ভালো রাখবে তাই করুন।ছবি আঁকা,গান শোনা, সিনেমা দেখা বা সেলাই, যা আপনাকে আনন্দ দেয় তাই করুন। মন শান্ত রাখতে যোগা বা মেডিটেশন করতে পারেন।টেলিভিশন বা মোবাইলে ভায়োলেন্স নয় বরং হাস্যরস আছে এরকম অনুষ্ঠান দেখার চেষ্টা করুন।

ডায়াবিটিস, হাই প্রেশার ও ওবেসিটি থাকলে সেক্ষেত্রে শরীরচর্চা করুন নিয়মিত। খাওয়া দাওয়া বুঝে করুন ডায়াবিটিস ও মেদবাহুল্য থাকলে কার্বোহাইড্রেট ও মিষ্টি কম খান। হাই প্রেশার থাকলে নোনতা খাবার ও ভাজাভুজি বাদ দিন।ফাস্ট ফুড বা অতি তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন।

বেশী করে জল খান। শরীরে যেন কোনোভাবেই জলের ঘাটতি না হয় সেইদিকে নজর রাখুন। ভালো ঘুম শরীর ভালো রাখার অন্যতম অস্ত্র। যেভাবে ঘুম ভালো হয় সেই চেষ্টা করুন।বারবার করে চা কফি খেলে ঘুম ভালো হয় না, তাই এই অভ্যেস থাকলে ত্যাগ করুন। অনলাইনে হোক, ফোনে হোক কিংবা চেম্বারে। শরীরে কোনওরকম সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তার দেখানো দরকার।