“এবার কথা হবে যুদ্ধক্ষেত্রে, অনেক হয়েছে আর নয়” গৌতম গম্ভীর

ফের কাশ্মীর রক্তাক্ত হওয়ার খবর ইতিমধ্যেই দেশবাসীদের নাড়া দিয়েছে। আজকের ভয়াবহ হামলা উরি হামলার থেকেও ভয়াবহ। পুলওয়াময়ের অবন্তীপোড়ায় সিআরপিএফ জাওয়ানদের কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা, যা ইতিমধ্যেই শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে দেশবাসীদের কাছে। ঘটনায় শহীদের ৪০ ছড়িয়েছে। জখম আরও অনেক সেনা কর্মী। এই হামলার দায় ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে জৈশ-ই- মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠী। নিন্দার ঝড় দেশজুড়ে। সর্বত্রই দাবি উঠছে ফের আরও বড় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হোক। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন বীর জওয়ানদের রক্ত এবং আত্মত্যাগ ব্যর্থ হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানিয়েছেন, জঙ্গিদের এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যা তারা কোনদিনও ভুলবে না।

বৃহস্পতিবার বিকাল বেলা সিআরপিএফের প্রায় পঞ্চাশটি গাড়ির কনভয় পুলওয়ামা জেলার শ্রীনগর অনন্তনাগ জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে জম্মু থেকে শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। আচমকাই প্রায় ২০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক বোঝাই একটি ছোট গাড়ি ওই কনভয় ঢুকে পড়ে এবং জাওয়ানদের গাড়িতে ধাক্কা মারে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল জাওয়ানদের বাস দুমড়ে-মুচড়ে যায়, তালগোল পাকিয়ে যায় শহীদ জাওয়ানদের দেহগুলি।

চারিদিক বারুদের ধোঁয়া ও পোড়া মাংসের গন্ধে ঢেকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে উদ্ধারকার্য চালিয়ে জখম জাওয়ানদের স্থানীয় শ্রীনগর সেনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে এনআইএ এবং ফরেনসিক দল। এদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সিআরপিএফের সর্বোচ্চ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঘটনাস্থলে যাবেন, এর সঙ্গে সেনা হাসপাতালে গিয়ে যখন জাওয়ানদের দেখা করবেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তার সাথে সাথে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হুংকার ছেড়েছেন তাঁর ট্যুইটারে। গৌতম গম্ভীর শুধু একজন ক্রিকেটার হিসেবে সুপরিচিত নন, বারবার তিনি সামাজিক ইস্যুগুলিকে নিয়ে সোচ্চার হোন। আজ তিনি তাঁর ট্যুইটারে লেখেন, “কথা বলা যাক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে। আলোচনা হোক পাকিস্তানের সঙ্গে। তবে সেই আলোচনা টেবিলে নয়। বরং হোক যুদ্ধক্ষেত্রেই। অনেক হয়েছে আর নয়।”

আরও পড়ুন : জঙ্গিদের এমন শিক্ষা দেব যে জীবনেও ভুলবে না! পাল্টা জবাবের ইঙ্গিত

বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এই জঙ্গি হামলা ভারতের সবথেকে বড় জঙ্গি হামলা। জঘন্যতম এই ঘটনার প্রতিবাদের ঝড় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সর্বত্রই দাবি উঠছে শহীদ জাওয়ানদের রক্তের প্রতিদান কোনভাবেই যেন ব্যর্থ না হয়। সমস্ত ভারতবাসী আশাবাদী উরি হামলার পর যেভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়েছিল পাকিস্তানে জঙ্গি সেনাঘাঁটি উপর, এবারও সেই ভাবেই আরো বড় হামলা করে পাকিস্তানের সমস্ত জঙ্গিকে নিকেশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি অনুযায়ী প্রত্যুত্তরটা এমন ভাবেই দেওয়া হোক যাতে করে আজীবন যেন মনে রাখে সেই প্রত্যুত্তর জঙ্গীরা।

ভয়াবহ এই জঙ্গি হামলার পরেই গোটা কাশ্মীর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা। বন্ধ করে দেওয়া হল সমস্ত ইন্টারনেট। রেড অ্যালার্ট জারি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে। ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্যুইট করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ট্যুইটে লেখেন, ‘পুলওয়ামায় সিআরপিএফের উওর হামলা নিন্দনীয়। আমাদের সাহসী জওয়ানদের এই বলিদান ব্যর্থ হবে না। শহিদ পরিবারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে গোটা দেশ। আহত জওয়ানদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।