শরীরে এইসব রোগ থাকলে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেশি

বিশ্ববাসী আবারও ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরা শুরু করলেও করোনা ভাইরাসকে(Corona Virus) আপাতত সঙ্গী বানিয়েই এগোতে হচ্ছে মানুষকে। করোনা ভাইরাসে প্রতিদিন বিশ্ব জুড়ে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।আবার এমন কতগুলো অসুখ আছে যার উপস্থিতিতে মানুষের করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

মূলত স্নায়ু (Nerve) জনিত সমস্যা (যেমন ডিমেনশিয়া) যেগুলো সাধারণ ভাবে জিন ঘটিত হয়ে থাকে,সেগুলো ব্যাক্তির করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাকে বাড়িয়ে তোলে, এমনটাই বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা। এই গবেষণাটি অনেকটা উল্টো দিক থেকে করা হয়েছিল। অর্থাৎ আগে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে তার পর গবেষণার কাজ শুরু করা হয়েছিল।

এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র গবেষক কাইজিয়ং জানিয়েছেন, একজন জেনেটিক রোগীর করোনা আক্রান্ত  খুবটা খুব সাধারণ ব্যাপার। তবে এর পেছনে আসল কারণটা কী সেটা তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

Men or Woman Who Produce more Corona Antibodies What Research are Saying
Men or Woman Who Produce more Corona Antibodies What Research are Saying

সম্প্রতি ব্রেন, বিহেভিয়ার অ্যান্ড ইমিউনিটি (Brain, Behaviour and Immunity) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যেসব ব্যাক্তির জিনগত(Genetic) সমস্যা আছে, করোনা কালে তাদের অধিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। গবেষকরা নিশ্চিত ছিলেন যে স্নায়ুজনিত জেনেটিক রোগ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেশী।

গবেষণার  জন্য তারা যাদের কোভিড আছে এবং যাঁদের নেই – এই দুটি আলাদা দল ভাগ করেন। এবার এই সব রোগীদের প্রত্যেকের মধ্যে কমপক্ষে ১০০০ টি রোগকে নিয়ে বিশ্লেষণ করা শুরু করেন। তারা এই গবেষণায় দেখেন কোন কোন ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস ব্যাক্তির শরীরকে দ্রুত কাবু করতে পারে।

ইউকে বায়োব্যাঙ্ক থেকে প্রাপ্ত ডেটার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। মানব শরীরে এক এক জনের জিনের গঠন এক এক রকমের হয়, আবার মানুষ যে পরিবেশে বসবাস করে (খাদ্যাভ্যাস, জলবায়ু ইত্যাদি) তার একটা প্রভাব মানুষের শরীরে দেখা যায়। গবেষকরা দেখতে চাইছিলেন এই ভিন্ন বিষয়গুলির সাথে ভাইরাসের সম্পর্ক কীরকম।

আরও পড়ুন : সর্দি জ্বর আর করোনা জ্বরের পার্থক্য, করোনা জ্বর চিনবেন কীভাবে

আরও পড়ুন : শরীরে কী কী উপসর্গ দেখা দিলে করোনা টেস্ট করাতে হবে

জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকরা দেখলেন যে দু প্রকার জিনে করোনা ভাইরাস দ্রুত প্রবেশ করে। এগুলি হলো ACE2 ও TPMPRSS2। গবেষণার পরবর্তী ধাপে এবার খতিয়ে দেখা হবে যে এই দুই ধরনের জিন কীভাবে করোনা ভাইরাসের সাথে মোকাবিলা করছে।

How corona tests are done

আরও পড়ুন : কোন ব্লাড গ্রুপের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, কোন গ্রুপের বেশি

আরও পড়ুন : শরীরে এইসব রোগ থাকলে করোনায় মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি

তবে এই গবেষণা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। করোনা সংক্রমণে TPMPRSS2 জিনের নানারকম রূপান্তর ঘটছে তবে মূল TPMPRSS2 জিনের ভূমিকা এখনও খতিয়ে দেখা বাকি আছে।