“১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে নয়, পালিত হবে ব্ল্যাক ডে”

গত বৃহস্পতিবার শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক দিয়ে সিআরপিএফ জওয়ানদের ৫৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কনভয় যাচ্ছিলো। প্রায় ২৫০০ জওয়ানকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ওই জাতীয় সড়ক ধরে। আর এই কনভয়েই বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা।

প্রথমে সেই কনভয়ে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা, তারপর গুলি বর্ষণও করে। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি গিয়ে ধাক্কা মারে সিআরপিএফের একটি বাসে। বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় জৈশ জঙ্গি আদিল আহমেদ। জানা গিয়েছে বছর দেড়েক আগে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছিল আদিল। আর এই আত্মঘাতী হামলাতেই নিহত হন ৪৯ জওয়ান। এই হামলার দায় নিয়েছে জৈশ-ই-মুহম্মদ জঙ্গি সংগঠন।

কাপুরুষোচিত এই জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে ফুঁসছে গোটা দেশ। দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায়, গ্রামে গ্রামে, স্কুল কলেজ থেকে সাধারণ সকলেই অঘোষিত শোক মিছিলে পা মিলিয়েছেন। শুধু শোক মিছিলে পা মিলিয়েই নয়, সকলেই এই মুহূর্তে ৪৯ জন শহীদ সিআরপিএফ জওয়ানের প্রাণ বিসর্জনের বদলার দিকে তাকিয়ে।

এই সকল শহীদ সিআরপিএফ জওয়ানদের প্রাণ গিয়েছিল ১৪ ই ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইন ডে’র বৈকাল বেলায়। তাই বেশ কিছু তরুণ যুবক যুবতী, কলেজের পড়ুয়ারা, কলেজের বেশ কিছু শিক্ষক ঠিক করে নিলো ১৪ ই ফেব্রুয়ারি আর ভ্যালেন্টাইন ডে হিসাবে নয়, এবার থেকে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি সিআরপিএফ জাওয়ান বীর শহীদদের স্মরণে পালিত হবে ‘ব্ল্যাক ডে’ হিসাবে।

গতকাল থেকেই আমরা লক্ষ্য করেছি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অজস্র মানুষ রাস্তায় মোমবাতি হাতে বেরিয়ে পড়েছেন শহীদ সিআরপিএফ জওয়ানদের স্মরণে। যে ছবি আজও ব্যাতিক্রম নয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বীরভূমের হেতমপুর কৃষ্ণচন্দ্র কলেজের তরফ থেকে সেখানকার শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং পড়ুয়ারা আজ শহীদদের স্মরণে শহীদ বেদীতে মাল্যদানের পর নগর পরিক্রমা বের হয় শহীদ স্মরণে। আর এই কলেজ থেকেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো সেখানকার যুবক-যুবতী থেকে কলেজের কর্মীরা যে আর নয় ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ শহীদ স্মরণে এবার ১৪ই ফেব্রুয়ারি হবে ‘ব্ল্যাক ডে’। ‘ব্ল্যাক ডে’ পালনের মাধ্যমে গোটা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এই বার্তা যে আমরা সব সময় ভারতীয় সেনাদের পাশে আছি।

হেতমপুর কৃষ্ণচন্দ্র কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দীপিকা সাহার পক্ষ থেকে এন.সি.সি. অফিসার তথা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. আর. কে. বিশ্বাস বলেন, “১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের যে আনন্দের মুহূর্ত সেই মুহূর্তেই কাপুরুষিত জঙ্গি হামলায় কেড়ে নেয়া হয় আমাদের ৪৯ টি অমর শহীদের প্রান। এই হামলায় আমরা কোনভাবেই শঙ্কিত নয়, আমরা সব সময় জাওয়ানদের পাশে আছি। আমরা আমাদের কলেজের পক্ষ থেকেই এই বার্তা বহির্বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছি যে আমরা সবসময়ই আমাদের জওয়ানদের পাশে থাকব। আমরা প্রত্যেক ভারতবাসী একে অপরের পাশে থাকব।

Read More : খবর পড়তে গিয়ে চোখে জল সঞ্চালিকার, সঙ্গে কাঁদলো গোটা দেশ!

এই বার্তা আরো দৃঢ় করার জন্য আজ আমাদের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় শহীদ বেদীতে মাল্যদান ও স্মরণ এবং শোক মিছিলের মাধ্যমে। এমনিতেও ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করার যে সংস্কৃতি তা আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতি নয়। আর এই দিনেই জওয়ানদের প্রাণ বলিদান। তাই এই দিনটিকে আমরা প্রতিবছর কালো ব্যাজ পড়ে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ হিসাবে নয় ‘ব্ল্যাক ডে’ হিসেবে পালনের মাধ্যমে শহীদ জাওয়ানদের স্মরণ করবো।”