চিনে বিয়ের নতুন নিয়ম, চালু হচ্ছে সরকারি ডেটাবেস

4225

দাম্পত্য কলহ, পারিবারিক হিংসা চিন দেশে একটি বড় সমস্যা। করোনা ভাইরাসের কারণে যখন দীর্ঘকালীন লকডাউন চলছিল তখন এই দাম্পত্য হিংসা আরো ভয়াবহ রূপ নিয়ে প্রকাশ্যে চলে আসে। এই সকল দাম্পত্য হিংসার ঘটনা দেখেই চিনের সরকার এখন বিয়ের জন্য নতুন নিয়ম চালু করলেন।

যতটুকু জানা যাচ্ছে, বিয়ের জন্য এবার সরকারিভাবে একটি ডাটাবেস তৈরি করা হবে। এই ডাটাবেসে পারিবারিক হিংসার কথাও উল্লেখ থাকবে। ২০১৬ সালে চিনে প্রথম বার পারিবারিক হিংসা দমন করবার জন্য একটি আইন পাশ হয়েছিলো। কিন্তু এই আইন পাশ হওয়ার পরেও পারিবারিক হিংসা এতটুকুও কমেনি।

সম্প্রতি একটি নতুন আইন চালু হয়েছে চিনে, যেখানে পারিবারিক হিংসা কমানোর জন্য দম্পতিদের ৩০ দিনের কুল অফ পিরিয়ডের কথা বলা হচ্ছে। চিনের অনেক মানুষই এই আইনের সমালোচনা করলেও সরকারের দাবি যে এই আইনের দ্বারা পারিবারিক হিংসা কমানো যাবে।

বিয়ের জন্য এইবার সরকারি যে ডাটাবেস তৈরি করা হবে তার ফলে বিয়ের পাত্র-পাত্রীর পরিবারের অতীতে কোথাও কোনো অত্যাচারের রেকর্ড আছে কিনা সেটাও জানা যাবে। পূর্ব চীনের ইবু শহরের প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই ডাটাবেস তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

জুলাই এর ১ তারিখ থেকেই চিন দেশের সকল অপরাধীদের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য মিলে যাবে ডাটাবেসে। তবে এই মুহূর্তে বেশি পুরোনো রেকর্ড ডাটাবেসে মিলবে না।২০১৭ সাল থেকে পারিবারিক হিংসার দায়ে যাদের সাজা হয়েছে বা যাদের বিরুদ্ধে পারিবারিক হিংসার অভিযোগ এসেছে তাদের রেকর্ড ডাটাবেসে থাকছে।

ইবু শহরের মহিলা সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান এই প্রসঙ্গে বলেন,”বিয়ের আগে সেভাবে খোঁজ পাওয়া যায় না সব বিষয়ে এর ফলে যেটা হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিয়ের পরে পারিবারিক হিংসার বিষয়টা সামনে আসে। কিন্তু বিয়ের পর জানা গেলেও আর কিছু করার থাকে না। এই সকল অসুবিধার কথা ভেবেই আগে থেকেই ডাটাবেস তৈরী করা হচ্ছে।এই ডাটাবেস এর ফলে বিয়ের আগেই একজন পাত্র অথবা পাত্রী একে অপরের চরিত্র সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারবেন। সকল তথ্য পাওয়ার পর তারা সিদ্ধান্ত নেবেন যে তারা বিবাহে ইচ্ছুক কিনা।”

যারা তথ্য জানতে চাইবেন তাদের পরিচয় পত্র, সঙ্গীর পরিচয় পত্র ও বিয়ের রেজিস্ট্রি জন্য আবেদনের কপি ও জমা দিতে হবে।তবে এই বিষয়টিতে সম্পূর্ণ মাত্রায় গোপনীয়তা বজায় থাকবে। যাদেরকে এই সকল তথ্য দেওয়া হবে তারাও বাধ্য থাকবেন এই সকল তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখবার জন্য।কেউ যদি মনে করেন প্রাপ্ত তথ্য অন্য কোন ভাবে কাজে লাগাবেন সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একজন মানুষ চাইলেই কি যতখুশি পাত্র বা পাত্রীর খোঁজ করতে পারবেন? এক্ষেত্রে জানানো হচ্ছে যে একজন মানুষ একটি বছরে সর্বাধিক দুজন আলাদা ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে পারবেন একজন মানুষ চাইলেই যতখুশি মানুষের বিষয়ে খোঁজ নিতে পারবেন না।