চিনের নতুন টার্গেট, ভারতের ডেপসং দখলের তোড়জোড় শুরু চিনা বাহিনীর

লাদাখের গালওয়ান উপত্যাকা চিন ও ভারতীয় সেনার হাতাহাতির পর ও অশান্তির ছায়া দূর হলো না ভারতীয় সীমান্ত থেকে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এল চীনের নতুন টার্গেটের পরিকল্পনা। গালওয়ানের পর চিনা সেনাবাহিনীর নতুন লক্ষ্য এবার পূর্ব লাদাখের ডেপসং।

১৫ ই জুন ভারতীয় ও চিনা সেনাবহিনীর প্রাণঘাতী সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলেন ২০ জন ভারতীয় সেনা। কোনোরকম গোলাগুলি না করেই পশহীদ হয়েছিলেন কর্নেল সহ আরো ১৯ জন সৈনিক। একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই আবার নতুন এলাকা দখলের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে চিনা সেনা।

মে মাসের শুরুর দিক থেকেই লাদাখে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। দারবুক থেকে দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটি পর্যন্ত, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার বরাবর ভারত একটি রাস্তা নির্মাণ করে, এই রাস্তা নির্মাণ নিয়েই চিনের আপত্তি। সেই নিয়েই ১৫ ই জুন শুরু হয়েছিল হাতাহাতি। গালওয়ান উপত্যাকার পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে না আসতেই নতুন টার্গেট করলো চিন। সূত্রে জানা যাচ্ছে, এমনকি চিনা বাহিনীর তাদের ট্যাংক ও নিয়ে আসছে সীমান্তের দিকে। গালওয়ান, প্যাংগং পর এবার চীনের নজর
ডেপসং-এর দৌলত বেগ।

তবে ডেপসংয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্ষমতা অনেক বেশি। গালওয়ান উপত্যাকার শহীদ সৈনিকদের হয়ে চিন কে যোগ্য জবাব দিতে তৈরী ভারতীয় সেনাবাহিনী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে চিনের এইরূপ লক্ষ্য নিয়ে। কারণ গালিওয়ান উপত্যাকার হাতাহাতির পর দুই দেশের কম্যান্ডারদের আলোচনায় শান্তি বজায় রাখার কথা উঠে এসেছে। এমনকি চিনের বিদেশমন্ত্রক জানান, ভারত ও চিন সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য তারা তাদের বাহিনী ধীরে ধীরে পিছিয়ে নেবেন।

কিন্তু চিনের কথার সঙ্গে তাদের কাজের কোন মিল নেই। বরং ভারতীয় এলাকাতেই নিজেদের ঘাটি করতে চায় চিন সেনা, নিজেদের বাহিনী পিছিয়ে নেওয়া তো অনেক দূরের কথা। ইসরোর স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি তে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি ইসরোর স্যাটেলাইট থেকে তোলা চিত্রে দেখা যায় গালওয়ান নদীর গতিপথ আটকে রাখার চেষ্টা করছে চিনা বাহিনী। উপত্যাকায় নিজেদের ঘাঁটি তৈরি করার চিত্র উঠে এসেছে উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিটিতে। সামনে শান্তির বার্তা এবং পিছনে যুদ্ধের মানসিকতা। তারই প্রমাণ দিয়ে দিল উপগ্রহ চিত্রগুলি (satellite images)। ভারতীয় এলাকা দখলের যুদ্ধের জন্য নিজেদের বাহিনী ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে আসছে চীন ভারতের সীমান্তের দিকে।

করোনা মহামারী অবস্থায় লাদাখে শান্তি ফেরানোর জন্য প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে উভয় পক্ষের সেনাকে ডিসএনগেজমেন্ট করার নীতিতে রাজি হয়েছিল চিন। তবে বাস্তবে ঠিক তার উল্টো টাই দেখা যাচ্ছে। যেদিন থেকে দুই পক্ষের সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার কথা হয়েছে, সেইদিন থেকেই চিনা বাহিনীর সন্দেহ জনক আচরণ দেখা যাচ্ছে।

গত বধবার প্রকাশিত হাওয়া নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট হয়ে যায় সন্দেহের কারণ। ছবি গুলিতে দেখা যায় বেশ কিছু গোলাপি রঙের অংশ। এই গোলাপি অংশগুলিই আসলে চিনা সেনার তৈরি করা ঘাঁটি। অবশ্য এর আগেও নদীর গতিপথে ভারতীয় এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে চিন বহুবার। নদীতে বাঁধ দেওয়া ও বুলডোজার বা ট্যাংক জাতীয় ভারী গাড়ি নিয়ে ভারতীয় এলাকায় প্রবেশ করার চিত্র ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর :- 

ভারতের এই ৫ এলাকা দখল করতে চায় চীন

ভারত চীন দুই দেশের ঝামেলার পেছনে রয়েছে এই ৫টি কারণ

ভারত-চীন সীমান্তে সেনাদের মধ্যে হাতাহাতি হলেও কখনো গোলাগুলি হয়না কেন

এই ৪টি কারণে চীনা অ্যাপ ভারতীয়দের ব্যবহার করা উচিত নয়

তবে এবার আমদানি পণ্যে শুল্ক বসিয়ে বড় ধাক্কা দিতে চাচ্ছে ভারত। চীন থেকে আমদানি করা কমপক্ষে ৩০০টি পণ্যকে তালিকাভুক্ত করে চড়া আমদানি শুল্ক বসাচ্ছে দেশটি। এরইমধ্যে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে শুল্ক দফতর দেশের বিভিন্ন বন্দরে আমদানি হওয়া পণ্যের বিপুল সংখ্যক কনসাইনমেন্ট আটকে রেখেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত সরবরাহকৃত পণ্য পরীক্ষা হচ্ছে, ততক্ষণ সেগুলো বন্দর থেকে দেশে ঢুকবে না বলে জানানো হয়েছে।

ভারত চীনের যেসব পণ্যে শুল্ক বসাতে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স এবং মেডিক্যাল উপকরণ। ইতোমধ্যেই ফার্নিচার, খেলনা এবং ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের উপর নতুন কর বসেছে। এরমধ্যে অর্ধেক পণ্যের উপরে আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। এদিকে লাদাখে সংঘাতের পর চীনকে বড়সড় জবাব দেয়ার কৌশল আটছে ভারত। তবে এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ভারতের অভ্যন্তরে চীনা পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হলেও তাতে ভারতেরই ক্ষতি হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।