লোভে পাপ পাপে মৃত্যু, কেবিসিতে কোটিপতি হওয়ার লোভে কঠিন মূল্য চোকালেন প্রতিযোগী

কোটিপতি হতে কে না চান? কোটিপতি হওয়ার লোভ যদিও বা সামলানো যায়, খোদ অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan) সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুবর্ণ সুযোগ কি হাত ছাড়া করা যায়? কোটা রেলে কর্মরত রেলকর্মী দেশবন্ধু পাণ্ডেও (Deshbandhu Pandey) সেই লোভ সামলাতে পারেননি। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি সিজন ১৩’ (Kaun Banega Crorepati Season 13) এর প্রতিযোগী অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা করার লোভে পাড়ি দিয়েছিলেন মুম্বাইয়ে। তিনি কোটিপতি হতে পারেননি ঠিকই, তবে তার দীর্ঘদিনের আশাপূরণ হয়েছে এই মঞ্চে এসে।

খোদ অমিতাভ বচ্চনকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি, একই মঞ্চে তার সঙ্গে বসে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন দেশবন্ধু। তার জীবনের অনেক বড় স্বপ্নপূরণ হয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করার মাশুল দিতে হলো তাকে। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ খেলার জন্য চাকরি ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো তাকে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মুম্বাই যাওয়ার অপরাধে আগামী দিনে আর মাইনে বাড়বে না তার!

কোটার রেলকর্মী দেশবন্ধু পান্ডে অমিতাভ বচ্চনের খুব বড় ভক্ত। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ তে অংশগ্রহণ করে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা করে খেলায় অংশগ্রহণ করার স্বপ্ন তার বহুদিনের। চলতি সিজনে তার সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। কেবিসি থেকে ডাক পেয়ে অফিসে ছুটির আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। তবে ছুটি মঞ্জুর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে পারেননি তিনি। ভারতীয় রেল তার ছুটি মঞ্জুর করেনি। তবুও তিনি ভারতীয় রেলের অনুমোদনের অপেক্ষা না করে মুম্বাই পাড়ি দেন।

দেশবন্ধু পান্ডের এই কাজে ভারতীয় রেল বেজায় ক্ষুব্ধ। রেলের তরফ থেকে চার্জশিট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার হাতে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী ৩ বছর তার বেতন বৃদ্ধি করা হবে না। যদিও তাতে অবশ্য বিন্দুমাত্র বিচলিত নন দেশবন্ধু। তিনি তার স্বপ্নের নায়কের দর্শন পেয়েছেন, তার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। অমিতাভ বচ্চনের সামনে হট সিটে বসে খেলার সুযোগ পেয়েই আনন্দে আত্মহারা তিনি। তার কাছে এর থেকে বড় ইনক্রিমেন্ট আর কী হতে পারতো?

‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র মঞ্চে উঠেই তিনি মঞ্চের উপর শুয়ে পড়ে সাষ্টাঙ্গে অমিতাভ বচ্চনকে প্রণাম করেন। করোনার কারণে এই সিজনে অমিতাভ বচ্চনের কাছে যাওয়ার অনুমতি নেই কোনও প্রতিযোগীর। কাজেই হট সিটে বসে নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকেই অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার থেকে অনুমতি নিয়েই খেলা শুরু করেন।

এই প্রতিযোগিতায় ৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি দেশবন্ধু। তবে ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জিতে নিয়েছেন তিনি। আর পেয়েছেন তার প্রিয় নায়কের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ। কোটিপতি হওয়ার তুলনায় এই প্রাপ্তিও তার কাছে কিছু কম দামী নয়। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ অমিতাভের সঙ্গে তাকে দেখা করার সুযোগ করে দিয়ে তাকে এমন এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে যা তিনি আজীবন মনে রাখবেন। তাই মাইনে না বাড়ার আক্ষেপ তাকে স্পর্শও করতে পারছে না।