নামেই তারকা প্রার্থী, খাতা খুলতে পারলেন না যে ১৪ টলিউড সেলিব্রিটিরা

848

তৃণমূলের আমল থেকে বাংলার রাজনীতি মানেই তারকাদের ভিড়। চলতি দফার নির্বাচনেও তার অন্যথা হয়নি। চলতি বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেখা গিয়েছে রাজনৈতিক শিবিরগুলিতে তারকা প্রার্থীদের ভিড় বেড়েছে বৈ কমে নি। তৃণমূল এবং বিজেপি, একুশের মহারণে এই দুই রাজনৈতিক শিবির একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াই চালিয়েছে। তবে মমতা ঝড়ের কাছে টিকতে পারেনি বঙ্গ বিজেপি শিবির।

একুশের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেল বাংলার রাজনীতিতে আরও পাঁচ বছরের জন্য দাপটের সঙ্গে টিকে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯৪ আসনের মধ্যে থেকে ২১৩টি আসন তৃণমূল ভরে ফেলেছে নিজের ঝুলিতে। প্রতিপক্ষ বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৭৭ টি আসন।

তৃণমূলের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপিও কিন্তু “প্রার্থী তালিকায় তারকা নীতি’ গ্রহণ করেছিল। তবে আখেরে লাভ কিছুই হলো না। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তৃণমূল এবং বিজেপির সেই তারকা প্রার্থীদের, যারা এই মহাযুদ্ধে জয়ী হতে পারেন নি

সায়নী ঘোষ : একুশের মহারণে দিদির সমর্থনে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন টলিউড অভিনেত্রী সায়নী। তার প্রতিপক্ষ ছিলেন বিজেপির তরফের হেভিওয়েট নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। আসানসোল দক্ষিণের বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই করেছিলেন সায়নী। তবে অগ্নিমিত্রার কাছে হেরে গিয়েছেন তিনি।

যশ দাশগুপ্ত : চন্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই ছিল সেয়ানে সেয়ানে। এখানে একদিকে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন টলিউড স্টার সোহম চক্রবর্তী। অপরদিকে বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন যশ দাশগুপ্ত। অভিনেতা যশ অবশ্য সোহমের তুলনায় রাজনীতিতে একেবারেই নবীন। যশকে হারিয়ে অনায়াসেই চন্ডীতলার মসনদ দখল করে নিয়েছেন সোহম।

পার্নো মিত্র : বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী পার্নো মিত্র। তবে জয়লাভ করতে পারেননি তিনি।

শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় : বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি তরফে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন শ্রাবন্তী। অবশেষে দুর্দান্ত প্রতিপক্ষ তৃণমূলের তরফে প্রার্থী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি।

পায়েল সরকার : বিজেপির তরফ থেকে একুশের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনিও। বেহালার পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন পায়েল। তবে শেষ রক্ষা হলো না। পায়েল পরাজিত হয়েছেন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রার্থী অবশ্য একুশের লড়াইয়ে হেরে গিয়েছেন। বাঁকুড়া কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সায়ন্তিকা। তবে প্রতিপক্ষ বিজেপির কাছে তিনি পরাজিত হয়েছেন।

রুদ্রনীল ঘোষ : একুশের লড়াইয়ের দলবদলকারী বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। একেবারে শেষ লগ্নে তৃণমূল দল ত্যাগ করে বিজেপি দলে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রুদ্রনীল। তবে তাকেও মানুষ সমর্থন জানান নি। পরাজিত হয়েছেন রুদ্রনীল।

কৌশানী মুখোপাধ্যায় : একুশের লড়াইয়ে তৃণমূল দলের নবাগতা তারকা সদস্যা হলেন কৌশানি। কৌশানিও কিন্তু পরাজিত হয়েছেন তার নিজের কেন্দ্র থেকে। কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন কৌশানি। তিনিও পরাজিত হয়েছেন।

বাবুল সুপ্রিয় : বিজেপির হেভিওয়েট নেতা হওয়া সত্ত্বেও টালিগঞ্জ কেন্দ্রে জয়ী হওয়ার সৌভাগ্য হলো না বাবুলের। প্রতিপক্ষ তৃণমূলের অরূপ রায়ের কাছে হেরে গিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়।

দেবদূত ঘোষ : টালিগঞ্জ কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চার তারকা প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন দেবদূত। বাবুল সুপ্রিয়ের মত দেবদূতকেও হারিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরূপ রায়।

লকেট চট্টোপাধ্যায় : বিজেপির হেভিওয়েট নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও লকেটকে একুশের এই লড়াইয়ে পরাজিত হতে হয়েছে প্রতিপক্ষ তৃণমূলের কাছে। চুঁচুড়া কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন লকেট। তবে চুঁচুড়ার মানুষ তাকে সমর্থন জানান নি।

অঞ্জনা বসু : বিজেপির নবাগতা সদস্যাদের মধ্যে একজন হলেন টেলি অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন অঞ্জনা। তবে প্রতিপক্ষ তৃণমূলের কাছে তিনি পরাজিত হন।

তনুশ্রী চক্রবর্তী : শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন তনুশ্রী। তাকেও তৃণমূলের কাছে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে।

পাপিয়া অধিকারী : উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির তরফের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন পাপিয়া। তবে জয়লাভ করতে পারেননি তিনি। ওই কেন্দ্রের মানুষের সমর্থন গিয়েছে তৃণমূলের দিকে।