রিয়ার উত্তরে সন্তুষ্ট নয় CBI, পলিগ্রাফি টেস্টের সম্ভাবনা, পলিগ্রাফি টেস্ট কী?

শুধু রিয়া, শৌমিক চক্রবর্তীকেই নয় পলিগ্রাফ টেস্টের মুখে পড়তে হতে পারে সিদ্ধার্থ পিঠানি, নীরজ, স্যামুয়েল মিরান্ডা, দীপেশ সাওয়ান্তদেরও। যদিও এবিষয়ে CBI-এর তরফে অফিসিয়াল কিছু জানানো হয়নি।

বর্তমানে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু কাণ্ডের তদন্তভার সিবিআই এর হতে। এই সূত্রেই বেশ কয়েকবার সুশান্তের প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। তবে এখন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, রিয়া চক্রবর্তীর পলিগ্রফি টেস্ট করতে পারে সংস্থা। তবে এর জন্য আদালত এবং খোদ রিয়া চক্রবর্তীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে সিবিআইকে।

শুধু রিয়া, সৌভিক চক্রবর্তীকেই নয় পলিগ্রাফ টেস্টের মুখে পড়তে হতে পারে সিদ্ধার্থ পিঠানি, নীরজ, স্যামুয়েল মিরান্ডা, দীপেশ সাওয়ান্তদেরও। যদিও এবিষয়ে CBI-এর তরফে অফিসিয়াল কিছু জানানো হয়নি।

পলিগ্রফি টেস্ট কী?

এককথায় এটি সত্য যাচাই পরীক্ষা। ব্যাক্তির শরীরের নানারকম ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার দ্বারা ( যেমন রক্তচাপ, শ্বাস প্রশ্বাস পরিবর্তন, হাতের তালু ঘামা, নাড়ির গতি) এই পরীক্ষায় বোঝা হয় ব্যাক্তি সত্যি কথা বলছেন কিনা। ফরেনসিক মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. সোফি ভান ডের জি জানাচ্ছেন, মিথ্যা বলার সময় মানসিক চাপ বাড়ে এবং মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। এই টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যায় ব্যাক্তি প্রশ্নকর্তাকে ঠকাচ্ছেন কিনা।

কীভাবে পলিগ্রফি টেস্ট করা হয়?

প্রথমে যাকে প্রশ্ন করা হবে তার আশেপাশে স্বাভাবিক পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। তারপর  ব্যাক্তির সাথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যুক্ত করার আগে ব্যাক্তিকে যে প্রশ্নগুলি করা হবে তার অনুমতি নেওয়া হয়। অর্থাৎ ব্যক্তিকে কোনো আচমকা প্রশ্ন করা যাবেনা নাহলে সেই প্রশ্ন শুনে ব্যাক্তির মানসিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে ও ট্রিগার জেগে উঠবে।

এর পর ব্যাক্তির সাথে সরঞ্জামগুলো যুক্ত করা হয়। সেগুলি হলো, রক্তচাপ দেখার জন্য একটি মনিটর, আঙ্গুল ও হাতের তালুতে তড়িৎ প্রবাহের পরিবর্তন লক্ষ্য করার জন্যে দুটি নল বক্ষ এবং পাকস্থলীর আশেপাশে।

ঘণ্টা দুয়েক ব্যাক্তিকে সেই ঘরে রাখা হয়। প্রশ্নকর্তা ব্যাক্তিকে প্রশ্ন করেন এবং তার প্রতিক্রিয়া দেখেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আরেকটি সাক্ষাৎকার হয় যেখানে ব্যাক্তি কোনো প্রশ্নের উত্তরে তার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বোঝানোর সুযোগ পান।

পলিগ্রফি টেস্ট কতটা কার্যকর?

কোনও ব্যাক্তি এই পরীক্ষাকে ফাঁকি দিতে চাইলে তাকে যথেষ্ট পরিমাণে প্রশিক্ষিত হতে হবে। তবে মাদকের সাহায্য নিয়ে এই পরীক্ষায় পার পাওয়া যায়নি, আগেও চেষ্টা করেছেন কিছুজন। অধ্যাপক অ্যালডার্ট ভ্রিজ এই বিষয়ের ওপর অনেক লেখালেখি করেছেন।

তার মতে এর কিছু মৌলিক ত্রুটিও আছে যেমন, কেউ ছল করলে তা এটি ধরতে পারবেনা। আবার বিশেষজ্ঞ ড. সোফি ভান ডের জি এর কথায় এই পরীক্ষা কখনও কখনও নির্দোষ ব্যাক্তিকে দোষী প্রমাণ করে দিতে পারে। যার ওপর এই পরীক্ষা করা হয় তার মানসিক চাপ অত্যন্ত বেশী হয়। তবে তিনি এও বলেন যে, সঠিক ভাবে পরিচালনা করা গেলে ৮০-৯০% সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে ।

তবে এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, ব্যক্তির সম্মতি, আইনজীবীর সম্মতি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মতি ছাড়া এই টেস্ট করা যায়না। এবং এই টেস্টের রিপোর্ট প্রমাণ হিসাবেও ব্যবহার করা যায় না। তবে অনেক ক্ষেত্র তদন্তের প্রয়োজনে অভিযুক্ত সত্যি নাকি মিথ্যা বলছেন তা যাচাই করতে এই টেস্টে করা হয়ে থাকে।

কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে রিয়াকে?

রিয়াকে শুক্রবার মূলত ১০ টি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছে সিবিআই। সেগুলি হলো,

১. সুশান্ত এর মৃত্যু সম্পর্কে কে প্রথম জানিয়েছিল তাকে এবং তখন তিনি কোথায় ছিলেন?

২. তিনি কি সুশান্তের মৃত্যুর খবর পেয়ে বান্দ্রায় গেলেন? যদি তা না হয় তবে তিনি মৃতদেহ কখন কিভাবে দেখলেন?

৩. ৮ জুন রিয়া চক্রবর্তী কেন বান্দ্রার ফ্ল্যাট ছেড়েছিলেন?

৪. সেদিন সুশান্ত এবং রিয়ার মধ্যে কি কোনো বিবাদ হয়?

৫. সুশান্ত বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর রিয়ার সাথে সুশান্তের কোনো যোগাযোগ হয়েছিল ( বিশেষ করে ৯ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে)? হলেও কোন প্রসঙ্গে?

৬. সেই সময় সুশান্ত কি রিয়াকে বারবার কনট্যাক্ট করার চেষ্টা করতেন? রিয়া কি তাকে ইগনোর করতেন? ব্লক করেছিলেন সুশান্তকে? করলে তা কেন?

৭. সুশান্ত কি পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন? করলেও কোন প্রসঙ্গে?

৮. সুশান্ত এর মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং মনোচিকিৎসকের রিপোর্ট সম্পর্কিত প্রশ্ন

৯. সুশান্ত এর পরিবারের সাথে রিয়ার সম্পর্ক কেমন ছিল?

১০. তিনি কেন সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছিলেন? তিনি কি কিছু বুঝতে পেরেছিলেন?