এক বার করোনা হলে দ্বিতীয়বার কী করোনা হতে পারে

1104

গত বছরের তুলনায় আরও বেশি সংক্রামক এবং মারাত্মক হয়ে যেন দ্বিগুন আক্রোশে মানুষের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে করোনার নতুন স্ট্রেইনটি। করোনার প্রথম রূপের সঙ্গে মরণপণ লড়াই চালিয়ে তাকে প্রতিহত করা হতে না হতেই মহামারী তার রূপ বদলে আরো বেশি মারাত্মক হয়ে আক্রমণ করে বসেছে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায় ভারতবর্ষে প্রতি এক সেকেন্ডে একজন মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। একবার আক্রান্ত হয়েও দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনও নিদর্শন রয়েছে ভুরি ভুরি।

কেন দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত হতে হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞরা কিন্তু এই বিষয়টিতে তেমন কোনও অস্বাভাবিকতা দেখছেন না। তাদের দাবি, সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের মতোই করোনাভাইরাস প্রতিনিয়ত নিজের গঠনের পরিবর্তন আনছে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ দেবকিশোর গুপ্ত জানালেন, ‘‘আমরা যেমন ভাইরাসকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছি, তেমনই ডারউইনের সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট তত্ত্ব মেনে ভাইরাসও নিজে বাঁচার তাগিদে নিজেকে বদলে ফেলছে। এই কারণেই কোভিড মুক্ত হবার পরেও নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকছে।’’

করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনও নিশ্চিত নন!

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি। ভাইরাসকে নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। নতুবা তার চরিত্র সম্পর্কে জানা যাবে না। ব্রাজিল, ইউকে বা সাউথ আফ্রিকার রূপ-পরিবর্তিত ভাইরাস সম্পর্কে বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রমাণ থাকলেও আমাদের দেশের নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিস্তর গবেষণা দরকার।

তবে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, গতবারের তুলনায় অসুখটা এবারে অনেক বেশি ছোঁয়াচে এবং শিশু ও কম বয়সীরাও গতবারের তুলনায় অনেক বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। যারা একবার করোনা আক্রান্ত হয়ে মনে করছেন তাদের আর করোনা হবে না, তাদের এই ছদ্ম নিরাপত্তাই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ ভাইরাস দ্রুত নিজের রূপ বদলাচ্ছে। যে কারণে একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বারের জন্যেও করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

কেন এমন টা হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন ভাইরাস যত দ্রুত নিজের রূপ বদলাবে, ভাইরাসকে প্রতিহত করার জন্য শরীরের অ্যান্টিবডি ততই ভাইরাসের উপর কাজ করতে পারবে না। অতএব নিশ্চিন্ত হওয়ার কোনও উপায় নেই। প্রসঙ্গত সম্প্রতি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শশী থারুর দ্বিতীয়বার করোনা সংক্রামিত হয়েছেন।

দ্বিতীয় বার করোনা সংক্রমণ কতটা ক্ষতিকর?

দ্বিতীয় বার করোনা আক্রান্ত হলে বেশিরভাগ সময়ই সাধারণ মানুষের শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বয়স্কদের শরীরে দ্বিতীয় বার করোনা বাসা বাঁধলে কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। অনেক সময় পরিস্থিতি হাতের বাইরেও চলে যেতে পারে।

দ্বিতীয়বার করোনা সংক্রমনের হাত থেকে মুক্তি পেতে উপায় কি হবে?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মানুষের একমাত্র হাতিয়ার হলো করোনা সম্পর্কিত সমস্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলা। মাস্কের উপযুক্ত ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখা এবং অবশ্যই সময়মতো টিকাকরণই এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে।

টিকা নিলে কি সুবিধা হবে?

সুকুমার মুখোপাধ্যায় এ সম্পর্কে জানিয়েছেন, ‘‘যাঁরা টিকা নিয়েছেন তাঁদের সংক্রমণ আটকানো না গেলেও বিশেষ উপসর্গ থাকছে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী যারা কোভিশিল্ড টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে সংক্রমণের হার .০৩%। সুতরাং সংক্রমণের মারাত্মক দিক এড়াতে মাস্ক পরা ও টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।’’