১৫ মিনিটের এই একটি ছোট্ট কাজ শরীরে বাড়িয়ে দেবে অক্সিজেন চলাচল

করোনাকালে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছেন মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি নিশ্বাসের জন্য করোনার বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম করে চলতে হচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীদের। করোনার অ্যাডভান্স স্টেজে ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে কারণে করোনা আক্রান্ত রোগীদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে। প্রবল শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে করতে শেষমেষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অনেকেই।

এই সমস্যা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ অব্যাহত রাখা। তাসের স্বাভাবিক ভাবেই হোক কিংবা কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করে; শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা সঠিক রাখতে না পারলে নির্ঘাত প্রাণ সংশয় দেখা দেবে। যে কোনও জীবের বেঁচে থাকার জন্য জীবন দায়ী অক্সিজেনের ভূমিকা নতুন করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না।

এখন এই পরিস্থিতিতে যাদের শরীরে অক্সিজেনের তীব্র অভাব দেখা দিচ্ছে তারা কিভাবে শরীরের অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন সে সম্পর্কে উপায় বাতলে দিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই কঠিন মুহূর্তে মানুষের জন্য উপযোগী হয়ে উঠতে পারে যোগাভ্যাস। যোগ-ব্যায়াম, প্রাণায়ামের উপকারিতা ভারত তথা সম্পূর্ণ বিশ্বের কাছে আর অজানা নেই।

ভারতের এই অতি পুরাতন সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছে সম্পূর্ণ বিশ্ব। প্রাণায়াম এবং যোগ অভ্যাস অনেক রোগের প্রতিকার করতে পারে। আসুন জেনে নিই ভারতের যোগশাস্ত্রে বর্ণিত কিছু প্রাণায়ামের কথা, যা এই সংকটকালীন মুহূর্ততে করোনা আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাকৃতিক উপায়েই অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি করবে।

প্রাণায়াম : ফুসফুসের যথাযথ কার্যকারিতার জন্য প্রাণায়াম একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যায়াম। প্রাণায়াম করার জন্য শিরদাঁড়া টানটান করে বাবু হয়ে বসতে হবে। ঘাড়, পিঠ সোজা রাখতে হবে। এরপর লম্বা শ্বাস নিতে হবে এবং তা ধীরে ধীরে ত্যাগ করতে হবে। অন্তত ১০ বার এই ভাবে শ্বাস নিতে এবং ছাড়তে হবে। সকালে নিয়মিত খালি পেটে এই ব্যায়াম করতে পারলে সবথেকে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

অনুলোম বিলোম : ফুসফুস থেকে দূষিত বায়ু দূর করতে এবং শরীরে অক্সিজেন চলাচল বাড়ানোর জন্য অনুলোম বিলোম প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কার্যকরী। এই ব্যায়াম করার সময় প্রথমে বাবু হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে ফেলতে হবে। এরপর ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে ডান নাসিকা চেপে ধরুন এবং বাঁ দিকের নাসিকা দিয়ে জোরে নিঃশ্বাস নিন। এরপর সেই নিঃশ্বাস ধরে রাখুন। মনে মনে ১-৪ পর্যন্ত গুনতে পারেন।

প্রশ্বাস ত্যাগের সময় আঙুল দিয়ে বাঁ নাসিকা বন্ধ করে ডান দিকের নাসিকা দিয়ে প্রশ্বাস ছাড়ুন। এরপর উল্টোটা করতে হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অন্তত ৫ বার রিপিট করতে হবে। প্রক্রিয়াটি নিয়মিত করতে পারলে ফুসফুস শক্তিশালী হবে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়বে।

হাই তোলা থেকে হাসি : এই প্রক্রিয়াটির জন্য বাবু হয়ে পিঠ টানটান করে বসতে হবে। এরপর “হাই তোলা”র মতো মুখোমুখি করতে হবে এমন ভাবে যাতে দুই কাঁধ উঁচু হয়ে ওঠে। এরপর ধীরে ধীরে মুখ বন্ধ করে “হাসি”র মতো মুখভঙ্গি করতে হবে। এই ব্যায়ামের ফলে বুকের মাংসপেশি টানটান হবে এবং শরীরে অক্সিজেন চলাচল করবে। পাশাপাশি ফুসফুসের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়া : এই ব্যায়াম করার সময় প্রথমে শান্ত হয়ে বসে গভীরভাবে নিঃশ্বাস নিতে হবে। নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় ১-৪ পর্যন্ত গুনতে পারেন। এরপর ঠোঁট ফাঁক করে ফু দেওয়ার মতো করে ধীরে ধীরে প্রশ্বাস ত্যাগ করুন। সমগ্র প্রক্রিয়াটি ৫ বার রিপিট করতে হবে।

পেটের শ্বাস-প্রশ্বাস : এই ব্যায়ামটি করার সময় শান্ত হয়ে বসতে বা শুতে হবে। এক হাত বুকে এবং আরেক হাত পেটে রাখতে হবে। এরপর খুব গভীরভাবে শ্বাস নিতে হবে। শ্বাস নেওয়ার সময় পেট যেন বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে। প্রশ্বাস ছাড়তে হবে ধীরে ধীরে। প্রশ্বাস ছাড়ার সময় পেট যেন ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। এই ব্যায়ামটি করার সময় ১০ বার রিপিট করতে হবে।

ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য এই ৫ টি ব্যায়াম অত্যন্ত উপযোগী। তবে ব্যায়াম গুলি করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে শরীরে কোনও সমস্যা দেখা দিচ্ছে কিনা। উপসর্গহীন এবং মৃদু উপসর্গ যুক্ত করোনা রোগীরা এইভাবে ব্যায়াম করে ফুসফুস সুস্থ রাখতে পারেন এবং নিজেদের শরীরের অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে পারেন।