করোনার থাবায় বিপর্যস্ত বলিউড, সলমানের হাত ধরে বিনোদন জগতে আসছে নতুন ট্রেন্ড

আগামী ১৩ই মে মুক্তি পেতে চলেছে সলমন খান অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ছবি “রাধে”। করোনার এমন সংকটকালীন মুহূর্তেই ছবিটি রিলিজ করছেন সলমন। ইতিপূর্বে তিনি সিনেমা হলমালিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তাঁর আসন্ন সিনেমাটি মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পাবে। অর্থাৎ সিনেমা হলে সকলের সঙ্গে বসে তাঁর ছবিটি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে পারবেন দর্শক। তবে দেশের করোনা পরিস্থিতি ক্রমাগত যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে তাতে সিনেমা হলে সিনেমাটি মুক্তি পেলে বক্স অফিসে কতটা সাফল্য আসবে, তা নিয়ে চিন্তিত সল্লু ভাইজান।

করোনার জন্য এমনিতেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বাজারে অত্যন্ত মন্দা দেখা দিয়েছে। গতবছর লকডাউনের জন্য দীর্ঘ আট মাস শুটিংয়ের কাজ বন্ধ থাকার পর যদিও বা অল্প-বিস্তর কাজ শুরু হয়েছে, তাতেও অবশ্য স্বস্তি মিলছে না। কারণ সকলের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে প্রায় দিনই আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন কলাকুশলীরা। তবুও হার মানেননি তারা। করোনার বিরুদ্ধে এক কঠিন সংগ্রামে সামিল হয়েছে বলিউড।

এই পরিস্থিতিতেও বলিউডকে হিট ছবি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ছবি নির্মাতারা। তার জন্য বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিও নিতে দেখা যাচ্ছে তাদের। কি করলে বক্স-অফিসে সাফল্য ধরে রাখা যাবে, কিভাবে একটি সিনেমাকে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও বেশি সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরে। ঠিক এই কারণেই ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে একটি “হাইব্রিড” সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন সলমন খান।

সলমন সম্প্রতি ফিল্ম রিলিজের ক্ষেত্রে একটি নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সিনেমা হলের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও “রাধে” রিলিজ করতে চলেছেন সলমন। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্য “পে পার ভিউ” মোডে সিনেমাটি দেখতে পারবেন দর্শক। অর্থাৎ, সলমনের নতুন সিনেমা দেখার জন্য দর্শককে আলাদা করে টাকা দিতে হবে। লাভের জন্য সলমনের এই পন্থা নিয়ে স্বভাবতই ডিস্ট্রিবিউটর, হলমালিকদের মধ্যে নানান বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

সিনে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের আশঙ্কা, সলমন যে পন্থা দেখাচ্ছেন তা ক্রমশ বলিউডের ট্রেন্ড না হয়ে দাঁড়ায়! উল্লেখ্য বলিউডে এই ট্রেন্ড কিন্তু নতুন নয়। গত বছর ঈশান খট্টর ও অনন্যা পাণ্ডে অভিনীত সিনেমা “খালি পিলি” ঠিক এভাবেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছিল। তবে তা অবশ্য সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। ডিস্ট্রিবিউটারদের একাংশের মতে, এই পদ্ধতিতে দর্শকদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারে না কোনও সিনেমা।

এই “হাইব্রিড” পদ্ধতি নিয়ে কিন্তু বেজায় আপত্তি প্রিয়া সিনেমার কর্ণধার অরিজিৎ দত্তের। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘সিনেমা হল খোলা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনও ছবি ওটিটিতে পে পার ভিউ মোডে আসে, তা হলে আমরা সেই ছবি চালাব না। আর নির্মাতাদের এটা ভাবার সময় এসে গিয়েছে, তাঁরা কোন মাধ্যমের জন্য ছবি বানাচ্ছেন, সেটা ঠিক করে নেওয়া। ‘রাধে’ যখন শুট হচ্ছিল, তখন পরিস্থিতি এতটা ভয়ানক হয়নি। এখন তাঁরা ওটিটি-তে দিয়ে দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এই পদ্ধতিতে কতজন ছবিটি দেখবেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এক ঘণ্টা ৫৫ মিনিটের এই সিনেমাটিই নাকি সলমন অভিনীত সবথেকে কম দৈর্ঘ্যের সিনেমা। সিনে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল সূত্রে খবর, ছবির মূল কনটেন্ট নিয়ে নাকি ধন্দে রয়েছেন নির্মাতারা। তাই তারা আর ছবি হোল্ড করার ঝুঁকি নেননি। সলমনের মুখপাত্র জানালেন, ছবি বেশি দিন আটকে রাখলে ব্যবসায়িক ক্ষতি হতে পারে। তাই তারা আর অপেক্ষা করতে রাজি নন।

বলিউডে গুঞ্জন, সলমন নাকি ২৩০ কোটি টাকার বিনিময়ে ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দিয়েছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মার্কেটের উপরে ভরসা রাখছেন সলমন। সলমনের এই ছবিটির জন্য “জি” নতুন সাবস্ক্রিপশনের অফার নিয়ে এসেছে গ্রাহকদের জন্য। “রাধে” থেকে যে রেভিনিউ আসবে তা করোনা মোকাবিলার জন্য ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছবির নির্মাতারা।