স্যানিটারি ন্যাপকিন সেদ্ধ জল খেয়ে নেশা! ঘেন্নায় কুঁকড়ে যাবেন আপনি

আপনার ফেলে দেওয়া স্যানিটারি ন্যাপকিন দিয়ে তৈরি হচ্ছে নেশার বস্তু। বর্তমান যুব সমাজ এতটাই ধ্বংসের পথে চলছে এবং তারা এত নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে যে, হাইজিনিক হোক বা বিষাক্ত সেই ব্যাপারে তাদের বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই।

বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাত্রার ধরন যে ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা আজ সকলের কাছে মাথা ব্যাথার কারণ। মদ, বিড়ি, গাঁজা, সিগারেট বা অন্যান্য নেশার সামগ্রী যেভাবে গ্রাস করছে বর্তমানে যুব সমাজকে তা থেকে তাদের বার করে নেওয়া বা দূরে সরিয়ে রাখা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সময়ের সাথে সাথে আমরা দেখেছি বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে শুরু করে বেকার যুবকদের মধ্যে নেশা সামগ্রীর নিত্যনতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেখানে যুক্ত হয়েছে ডেনড্রাইট বা টিকটিকির লেজ বা মাকড়সার রস। এছাড়াও ড্রাগ বা বিভিন্ন মাদক ট্যাবলেট তো দেখাই যায় হামেশাই। আসলে পরিবারের সচেতনতা বা স্বাধীনতা এই সমস্ত বিষয়ে অনেকটা দায়ী হলেও নিজেকে সংযম রাখতে না পারার ফলেই বর্তমানে যুব সমাজ নষ্ট হতে বসেছে। বর্তমান প্রজন্ম যেভাবে নেশার জগতে নিজেদের আনন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছে তাতে একদিকে যেমন তাদের শারীরিক নানা সমস্যার উৎপত্তি হচ্ছে সেই ভাবে নানা মারণব্যাধির শিকার হচ্ছে তারা।

স্যানিটারি ন্যাপকিন সেদ্ধ জল খেয়ে নেশা! ঘেন্নায় কুঁকড়ে যাবেন আপনি

আর এর নবতম সংযোজন হল স্যানিটারি প্যাড। ভাবলে অবাক লাগছে তাই না ?কিভাবে এই স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করে নেশা করা যায়? এমনই এক ঘটনা সম্প্রতি দেখা গিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার যুবকদের মধ্যে, যারা বর্তমানে মেতে উঠেছে এই নেশায়। মূলত ঋতুচক্রের সময় নারীরা এই প্যাড ব্যবহার করে থাকে ।কিন্তু এই ব্যবহার্য  সামগ্রীর এইরকম  অবাক ব্যবহার প্রত্যেকের মনে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে ।

স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের হাতে যথেষ্ট পরিমাণে টাকা না থাকায় তারা তারা ড্রাগ বা অন্য নেশার শরণাপন্ন হতে পারছে না ফলে তারা বেছে নিয়েছে এই বিষাক্ত পদ্ধতি।তবে এদেশে নয় ইন্দোনেশিয়ার কিছু নেশাগ্রস্ত কিশোরদের মাঝে চালু হয়েছে এই প্রবণতা। এই সমস্ত তরুণরা বিভিন্ন আস্তাকুঁড় ভাগাড় আবর্জনার স্তুপ থেকে খুঁজে খুঁজে সংগ্রহ করছে ফেলে দেওয়া স্যানিটারি প্যাড এবং সেই প্যাড জল দিয়ে ফুটিয়ে সেই পানীয় পান করছে। তাদের মতে এতে নাকি বিশাল পরিমাণে নেশা হয়।

Loading...

কীভাবে করা হচ্ছে এই নেশা?

এই নেশায় ব্যবহৃত স্যানিটারি প্যাড ফুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে কিছুক্ষণ। তারপর সেই জল পান করে করা হচ্ছে নেশা। মূলত ডাইঅক্সিন এবং জেল,প্রোপাইলিন গ্লাইকল, এছাড়া আঠা এবং রাসায়নিক সুগন্ধি দ্রব্য মেশানো থাকে স্যানিটারি প্যাডে। এছাড়াও থাকে সোডিয়াম  পাইরোক্সালেট।তাই এ সকল রাসায়নিক জলে ফুটিয়ে অত্যন্ত নেশার সামগ্রী তৈরি হয়। যাতে বর্তমানে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকছে ইন্দোনেশিয়ার যুব সমাজ।

আরও পড়ুন : কোবরার ছোবল দিয়ে নেশা, অবাক কীর্তিতে ঘুম উড়েছে বিজ্ঞানীদের

ইতিমধ্যে নানান ধরনের উদ্ভট নেশার কথা কানে এলেও এই এইরকম নোংরা ও বিষাক্ত নেশার কথা এই প্রথম। কিছুদিন আগেও মশার ধূপ এর লিকুইড খাওয়া হচ্ছিল নেশার জন্য।কিন্তু এই স্যানিটারি প্যাড ফোটানো জলের নেশা সবাইকে ছাপিয়ে।

যদিও ভারতে সাম্প্রতিককালে এরকম ঘটনা প্রকাশিত হয়নি। তবে বিশ্বায়নের বাজারে ভারতে যে এরকম কোন ঘটনা আগামী দিনে  ঘটবে না তার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই সকলের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে আমাদের দূরে রাখতে হবে এরকম মরন নেশা থেকে যুব সমাজকে।

Loading...