বগিবিল সেতু উদ্বোধনে রাতের ঘুম উড়ে গেছে চিনের, কেন জানেন?

ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর বগিবিল সেতু এই মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এই সেতুর উদ্বোধন এইতো দুদিন আগে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী মহাশয়ের জন্মদিন উদ্বোধন হয়েছে, অথচ এই কম সময়ের মধ্যেই কি কারনে এতটা গুরুত্ব পাচ্ছে এই বগিবিল সেতু?

এই সেতু গুরুত্ব পাওয়ার পিছনে যেমন রয়েছে যাতায়াতের সুবিধা, ঠিক তেমনি সামরিক দিক থেকেও এই সেতু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সেতু উদ্বোধনে রাতারাতি চিনের মতো দেশের রাতের ঘুম কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছে। গল্প নয়, এটাই সত্য।

গত ২৫ শে ডিসেম্বর ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী দিল জন্মদিনে এই সেতুর উদ্বোধন করলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেতু উদ্বোধনের আগে সেতুটি ঘুরেও দেখেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

বগিবিল সেতুর বিশেষত্ব

সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪.৯৪ কিলোমিটার। সেতু বানাতে খরচ হয়েছে ৪,৮৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি একশো কুড়ি বছর টিকে থাকবে বলে জানা গিয়েছে। সেতুর সঙ্গে রয়েছে ডাবল ট্রাক লাইন এবং তিন লেনের সড়ক।

সেতুটির গুরুত্ব

যাতায়াতের বিচারে সেতুটির গুরুত্ব অবশ্যই অপরিসীম কিন্তু পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের নিরাপত্তা দিক দিয়ে সেতুটির গুরুত্ব সেখানেই, দীর্ঘদিন ধরে চিন দাবি করে আসছে অরুণাচল প্রদেশ তাদের দেশের অংশ। চিন তার দাবিকে জোড় পূর্বক ভারতের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য অনেকবারই অরুণাচলের বিভিন্ন অংশে তাদের সেনাদের জোড়পূর্বক প্রবেশ লক্ষ্য করা গিয়েছে। আর এই সেতুর উদ্বোধনের ফলে ভারতীয় সেনারা অতি সহজেই অরুণাচল প্রদেশের চিন সীমান্ত অরুণাচলের কিবিছু, বলাঙ্গ ও চগলগামের সেনা চাউনি লাগোয়া অংশে পৌঁছে যেতে পারবে। রেলপথ থাকায় অতি সহজে সেনাদের কাছে পৌঁছে যাবে রসদও। তিন লেনের রাস্তা ধরে অতি সহজে পৌঁছে যাবে ভারতীয় সেনার ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া গাড়ি। শুধু তাই নয় এই সেতুতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যুদ্ধ বিমানও নামা ও ওঠা করতে পারবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় সেতুর গুরুত্ব

যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই সেতু এনে দিয়েছে আলাদা বিপ্লব। এই সেতু উদ্বোধনের ফলে অসমের ডিব্রুগড় থেকে অরুণাচলপ্রদেশে পাসীঘাটের দূরত্ব কমেছে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। এছাড়াও আগে অরুণাচল থেকে ডিব্রুগড় যাওয়ার জন্য যেতে হতো গোয়াহাটি হয়ে সেখানে আর এই ঘুর পথ অবলম্বন করতে হবে না। যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হবে। কেনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময় কমছে ১০ ঘন্টা। এই সেতু উদ্বোধনের পর থেকে তিনসুকিয়া-নাহরলগুন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস সপ্তাহে পাঁচদিন যাতায়াত করবে।

আরও পড়ুন : ভারতের সবচেয়ে লম্বা রেল-রোড সেতু সম্পর্কে ৫ টি অজানা তথ্য

প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো এই সেতু কাজ শুরু হয়েছিল ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে ২০০২ সালে। সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল ২০০৯ সালে। অবশেষে ২০১৮ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীজির জন্মদিনে উদ্বোধন করা হল বিগবিল সেতুর।

Loading...