কেমন দেখতে বিজেপির রথ? বিশেষত্ব কী? ছবি দেখলে তাক লেগে যাবে

সামনেই ১৯’এর লোকসভা নির্বাচন, একদিকে শাসক দল বিজেপির পুনরায় নিজেকে কেন্দ্রের মসনদে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা এবং অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে দলীয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং জনসংযোগ বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে বিজেপি যা প্রয়োগ করতে চলেছে তা হল অতীতের পুরানো ফর্মুলা । সেই লালকৃষ্ণ আডবাণী এবং প্রয়াত অটল বিহারি বাজপায়ী যখন বিজেপির কেন্দ্রীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তখন যেভাবে রথযাত্রার মাধ্যমে বিজেপির রাজনৈতিক কেরিয়ারকে অক্সিজেন জুগিয়েছিল এবং সঞ্চারিত করেছিল নতুন প্রাণ দেশীয় রাজনীতিতে ,একই রকম রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সচেষ্ট হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের যুগলবন্দী এবং রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সভাপতি ও অন্যান্য প্রথম শ্রেণীর বিজেপি নেতারা।

আর তারই পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে রথযাত্রার  বিশেষ কর্মসূচি। হিন্দু ধর্মের ধার্মিক ভাবাবেগকে এবং মানুষের আবেগকে খুব সহজেই নিজেদের দিকে টানতে এখন রথই বিজেপির একমাত্র ভরসা।যেভাবে ধর্মপ্রান হিন্দু বাঙালিরা জগন্নাথ দেবের রথ টানতে প্রত্যেক ধার্মিকস্থানে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমায়, তেমনি বিজেপির রথে একই রকম লোক সমাগম হবে বলে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরের বিজেপি নেতাদের ধারণা। কিন্তু সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল সমর্থক মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র, যাকে নিয়ে বর্তমানের রাজ্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি গরমাগরম সেই বিজেপির রথ কেমন হবে তা নিয়েই আজকের আমাদের প্রতিবেদন।

কেমন দেখতে বিজেপির রথ? বিশেষত্ব কী? ছবি দেখলে তাক লেগে যাবে

লালকৃষ্ণ আদবানীর ১৯৯২ সালের ‘রাম রথযাত্রা’ এখনও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচ্য বিষয়। এই রথযাত্রাই প্রচারের আলোয় এনেছিল বিজেপি ও আদবানীকে। এরপর দেশের নানা প্রান্তে নানা উদ্দেশ্যে রথ বের করেছে পদ্মশিবির। উত্তরাখন্ডে ‘পরিবর্তন যাত্রা’, ত্রিপুরায় “চলো পাল্টাই” ডাক দিয়ে ‘বিজয় সংকল্প রথ’। আর এবার পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ করবে বিজেপি। লক্ষ্য, ওই নির্বাচনে কমপক্ষে ২২টি আসন জয়। এবার বাংলায় তিন জায়গা থেকে রথ বের করতে চলেছে পদ্মশিবির। তারাপীঠে ৫ ডিসেম্বর, কোচবিহার থেকে ৭ ডিসেম্বর, এবং গঙ্গাসাগর থেকে ৯ ডিসেম্বর।

রথে কী থাকছে? সূত্রের খবর, গাড়িকে রথে পরিণত করতে বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ এই রথ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন। এই রথ-গাড়িতে সমস্তরকম অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকছে। রথ চলার পথে যাতে কোনওরকম ব্যাঘাত না ঘটে তার ব্যবস্থাও থাকছে। কোনও সমস্যা হলে দক্ষ মেকানিকের দল সামলে নেবে। পুরো গাড়িটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। এক‍টি অাকর্ষণীয় মঞ্চও থাকবে এই গাড়ি-রথে। ৪০-৪২ দিনের সফরে কোনওরকম বিপত্তি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

Loading...

সূত্রের খবর, ভিতরে শৌচালয় অবশ্যই থাকবে। পাঁচ ছ’জনের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। শয়নের জন্য কেবিনের ব্যবস্থা, বসার সোফা। এছাড়া খাওয়া-দাওয়ার জন্য উপযুক্ত ডাইনিং টেবিলও থাকবে। জানা গিয়েছে, এছাড়াও এলইডি টিভি, ইন্টারনেটও থাকছে।

এছাড়াও থাকবে ছাদে চড়ার সুব্যবস্থা। রথ থেকে জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার জন্য থাকবে ভাষণ দেওয়ার বিশেষ মঞ্চ। রথে দেখা যাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিব্যবস্থা এবং পুরো রথ পরিক্রমা যাতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ কভারেজ করা যায় যাতে সেই জন্য ল্যাপটপ এবং স্পেশাল ওয়াইফাই কানেকশন থাকবে। রথে নেতা-নেত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বা রথ যে পথে পরিক্রমা করবে সেই পথে সমর্থকদের শারীরিক অসুস্থতা সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটলে যাতে প্রাথমিক চিকিৎসা করা যায় সেজন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা।

প্রাকৃতিক কর্ম করার জন্য রথে বিশেষভাবে রাখা হবে বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা । এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন ভাষণ সমর্থকদের মধ্যে তুলে ধরার জন্য বা সারাদেশব্যাপী কেন্দ্রীয় বিশেষ  নেতাব্যক্তিদের  এই যাত্রা সম্পর্কিত বক্তব্য  তুলে ধরার জন্য ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করার জন্য থাকবে জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা যেখানে বিভিন্ন জনপ্রিয় নেতাদের ভাষণ তুলে ধরা হবে।

আরও পড়ুন : প্রকাশ্যে এল নরেন্দ্র মোদীর সম্পত্তির পরিমাণ! কত কোটি টাকার মালিক মোদীজি?

রথে নেতা নেত্রীদের এবং সফররত যাত্রীদের ভোজনের জন্য বিশেষ টেবিলের ব্যবস্থাও থাকবে। গঙ্গাসাগর ,কোচবিহার এবং বীরভূমের তারাপীঠ থেকে যে রথ তিনটি পরিক্রমণ করবে বলে বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে তাতে এ রাজ্যের বিশেষ নেতা-নেত্রীরা যেমন থাকবে, তেমনি রথ পরিচালনা করার জন্য ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকেও বিশেষ প্রশিক্ষিত দল থাকবে।

এখন দেখার এই রথ যাত্রার মাধ্যমে বর্তমান কেন্দ্রীয় শাসকদল রাজ্যে তাদের অস্তিত্বের পরিচয় কতটা শক্ত ভাবে দিতে পারে এবং তার ফলে তারা রাজনৈতিকভাবে আদৌ কি সুবিধা নিতে পারবে? তবে রথ নিয়ে যে বর্তমানের রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত তাঁর বলার প্রয়োজন হয় না।

Loading...