নবান্ন দখল করতে বিজেপি কী নীতি নিয়েছে, জানালেন দিলীপ ঘোষ

সামনের বাংলার বিধানসভা ভোট। নীলবাড়ি দখল করাই ‘পাখির’ চোখ রাজ্য বিজেপি-র (BJP)। তাতে কোনও ছুঁতমার্গ দেখালে চলবে না। অতএব বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্য দল থেকে নেতা-কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাছবিচার চাইছে না দল।

এই অবস্থায় অন্য দল থেকে নেতা বা কর্মী নেওয়া হবে কোনরকম বাছবিচার ছাড়াই। উদ্দেশ্যে, ভোটের আগে দল বড় করা। বুধবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার রুইয়ায় একটি চা-চক্রে এমনটাই বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আগে তিনি বাছবিচার করার পক্ষে থাকলেও এইদিন সম্পূর্ন উল্টো সুর শোনা গেল তার মুখে।

জানা যাচ্ছে মকর সংক্রান্তির পরেই বিভিন্ন দলের বেশ কিছু নেতা কর্মী ও বিধায়করা যোগ দিতে চলেছেন বিজেপিতে। এই অবস্থায় বুধবার দিলীপ ঘোষ বললেন ‘‘বিজেপি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। যাঁরা বাংলায় পরিবর্তনের পরিবর্তন আনতে চান, তাঁদের সকলকে স্বাগত। সকলকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল সরকারকে সরানোই আমদের লক্ষ্য।’’

তবে এতদিন যারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন সেইসব বিজেপির নেতা কর্মীদের মধ্যে অনেকেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ব্যাক্তিদের দলে মেনে নিতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে দিলীপ ঘোষের উত্তর ‘‘অনেক মানুষকে নিয়ে দল। নানা রকম মতামত থাকতেই পারে। তবে কে থাকবে, কে থাকবে না, সেটা মানুষ বিচার করবে। দল সময় মতো সবাইকে বেছে নেবে। যাঁরা যোগ্য তাঁরাই থাকবেন।’’

কিছুদিন আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার সাথেই পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিও যোগ দেওয়ার কথা ছিল বিজেপিতে। এই ঘটনায় আপত্তি জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। সেই সময় বাবুল সুপ্রিয়র সাথে এক সুরেই সুর মিলিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ।পরবর্তীকালে এই ঘটনর পরিপ্রেক্ষিতে বাবুল-দিলীপ সহ ৪ জন নেতাকে শো কজ করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। তার পরই পাল্টা সুর শোনা গেল দিলীপ ঘোষের মুখে। তিনি ঘোষণা করে দিলেন, বিজেপির দরজা সবার জন্য খোলা।

বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিটি জেলায় এবং পাশাপাশি কলকাতায় দলের সদর দফতর বা নির্বাচনী কার্যালয় চলছে বিজেপির যোগদান মেলা যেখানে বিভিন্ন দলের কর্মীরা যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে।এই যোগদান মেলাকে গত সোমবার রানাঘাটের এক সভা থেকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

তিনি বলেন  ‘‘ওরা অনেক টাকা করেছে। কাউকে ইডি, কাউকে সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়েছে। ওই সব ভয় দেখিয়ে বলেছে, যদি টাকা রাখতে চাও, তা হলে বিজেপি-তে যাও। যদি কালো টাকা সাদা করতে চাও, তবে বিজেপি-তে যাও।’’ পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন ‘‘বিজেপি জাঙ্ক পার্টি হয়ে গিয়েছে। ডাস্টবিনের মধ্যে সব ফেলে দিচ্ছে। আর সেই ডাস্টবিন থেকে বিজেপি করলে সাত খুন মাফ। অন্যরা করলে বন্ধ ঝাঁপ! বিজেপি হল ওয়াশিং মেশিন। তৃণমূলে থাকলে সবাই কালো। আর বিজেপিতে গেলেই সকলে ভাল!’’

সব মিলিয়ে ভোট পূর্ববর্তী সময় বাংলার রাজনীতিতে দল বদলের খেলা চলছে পুরো দমে। তৃণমূল থেকে বিজেপি, বিজেপি থেকে তৃণমূল তো বটেই পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিএম থেকেই দল বদল করছেন অনেকেই। শেষপর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার কতটা প্রভাব ভোট ব্যাঙ্কে পড়ে তা দেখা কেবল সময়ের অপেক্ষা।