শিরোচ্ছেদ থেকে লিঙ্গ ছাটাই, দেখুন কোন কোন দেশে রেপের শাস্তি কীরকম

যখনই নারী সুরক্ষার প্রশ্ন আসে তখনই তালিকায় অনেকটা পিছিয়ে যায় ভারত। প্রতিদিনই ভারতের কোথাও না কোথাও ঘটছে ধর্ষন যার থেকে রেহাই পাচ্ছেনা তিন মাসের শিশু কন্যা থেকে আশি বছরের বৃদ্ধা। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের হাতরাসে ধর্ষন ও খুনের নারকীয় ঘটনায় উত্তাল সমগ্র দেশ। সবার একটাই দাবি, কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হোক অভিযুক্তদের।

আমেরিকা, ইউরোপে বিশেষ করে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডে ধর্ষণ সমস্যাকে বর্তমান সময়ের বাস্তবতা মাথায় রেখে সমাধান করার চেষ্টা চলছে। আবার সৌদি আরব, ইরান, আফগানিস্থানের মত দেশ ধর্ষণ সমস্যা মোকাবিলায় এখনো পুরনো ইসলামিক আইন মেনে আদিম প্রথায় তাঁর সমস্যা সমাধান করে চলেছে। চীন আবার জারি রেখেছে পুরনো আইনি প্রথার সাথে নতুন আইনও। একনজরে দেখে নিন বিশ্বের কোন দেশে ধর্ষণের শাস্তি কী।

ভারত :- ২০১৩ সালের আগে ভারতে ধর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হতো না। ২০১৩ সালে অ্যান্টি রেপ বিল আনা হয়। ২০১৩ সালে পার্লামেন্টে পাশ হওয়া অ্যান্টি রেপ বিল (Anti Rape Bill) অনুসারে ধর্ষনের ধর্ষনের শাস্তি যাবতজীবন কারাদণ্ড, আজীবন কারাদণ্ড এবং বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনার ক্ষেত্রে ফাঁসির হুকুম। শাস্তি কি হবে তা মূলত নির্ভরশীল ঘটনার নারকীয়তার এবং ক্ষতির পরিমাণের ওপরে।

ফ্রান্স :- এই দেশে অপরাধীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তা ৩০ বছর বা আমৃত্যু কারাদণ্ডও হতে পারে। এটি নির্ভর করে ঘটনার সাথে জড়িত ক্ষতির পরিমাণ ও নারকীয়তার ওপর। সাধারণ ধর্ষণ কেসে শাস্তি ১৫ বছর। যদি ধর্ষিতার বয়স ১৫ বছরের নীচে হয় সেক্ষেত্রে শাস্তি ২০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। যদি ধর্ষিতা মারা যায় সেক্ষেত্রে জেল হতে পারে ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। আবার ধর্ষণ করার সময় অত্যাচার করা হলে শাস্তি যাবজ্জীবন।

চীন :-চীন ধর্ষণ নিয়ে কঠোর সাজা বহাল রেখেছে। ধর্ষণ প্রমাণিত হলে ধর্ষকের প্রথমে পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয় তারপর ফাঁসি দেওয়া হয়। নতুন আইনে ১৪ বছরের নীচে কাউকে ধর্ষণ করলে তা অপরাধ বলে স্বীকৃত হয়। সে যদি প্রসটিটিউট হয় তাও। চীনে ২০১৫ সাল থেকে সমলিঙ্গ ধর্ষণ অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়।

সৌদি আরব :- আরব একটি এমন দেশ যেখানো আজও ধর্ষণের শাস্তি শরিয়া আইন মেনে হয়। হাজার বছর ধরে যার কোন পরিবর্তন হয়নি। ধর্ষকের শিরোচ্ছেদ করা হয় জনগণের সামনে। তারপর সেই মাথা ও শরীর আবার সেলাই করা হয়। অনেক সময় ধর্ষককে পাথর ছুঁড়ে মারা হয়। এই আইন পুরুষ ও নারী দুজনের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয়এই দেশে অপরাধীর শাস্তি জনসম্মুখে শিরচ্ছেদ।তবে তাদের দেশে ড্রাগ ট্রাফিকিং এর ক্ষেত্রেও এই একই শাস্তি ধার্য করা হয়েছে।

নর্থ কোরিয়া :- এই দেশের কঠোরতা সম্পর্কে কে না জানে। ধর্ষনের শাস্তি হিসেবে এই দেশে অপরাধীকে ফায়ারিং স্কোয়াড দ্বারা গুলি করে মেরে ফেলা হয়।

আফগানিস্থান :- আফগানিস্তানে ধর্ষিতা চারদিনের বিচারে ধর্ষকের মাথায় গুলি মেরে হত্যা করতে পারে। কখনো কখনো ধর্ষকের ফাঁসি হয়। তবে অধিকাংশ সময় ধর্ষণের খবর এই দেশে প্রকাশ্যে আসেনা।

ইরান :- ইরানে ধর্ষককে প্রকাশ্যে গুলি করে বা ফাঁসি দিয়ে সাজা দেওয়া হয়। ধর্ষিতা ধর্ষককে প্রকাশ্যে গুলি করে মারতে পারে। ধর্ষিতা চাইলে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি দিতে পারে। তবু ধর্ষককে ১০০ ঘা চাবুক ও যাবজ্জীবন জেল খাটার শাস্তি বহাল থাকবে।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র :- এক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি নির্ভর করে এর ওপর যে অপরাধীর বিচার রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে হচ্ছে নাকি যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে। যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে হলে সেক্ষেত্রে কারাদণ্ড কিছু বছরের থেকে সারা জীবনেরও হতে পারে।

রাশিয়া :- রাশিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত অপরাধীর ৩ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।পরিস্থিতির গভীরতার ওপর নির্ভর করে এই শাস্তি ১০ বছরের বেশী হতে পারে তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অর্থাৎ যদি নির্যাতিতার বিশেষ শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে শাস্তি ২০ বছরের বেশী হতে পারে।

আরও পড়ুন : ধর্ষণ আটকাতে অ্যান্টি রেপ প্যান্টি, রেপ আটকে দেবে এই যুগান্তকারী আবিষ্কার

নরওয়ে :- এই দেশে যেকোনো ধরনের যৌণ নির্যাতন ধর্ষনের আইনের অধীনে পরে। ঘটনার গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে ব্যাক্তির ৪ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।