মায়ের সঙ্গে বিড়ি বেঁধে রেজাল্টে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল খাদিজা

বাবার সাইকেল সারাইয়ের দোকান। মা বিড়ি বাঁধেন। সংসারের অভাব মেটাতে মায়ের সঙ্গে মেয়েও পড়াশোনার সঙ্গে শুরু করে বিড়ি বাঁধতে। এ বছর মাধ্যমিক দিয়েছিলেন। মায়ের সঙ্গে বিড়ি বেঁধে মাধ্যমিকে রেজাল্টে তাক লাগিয়েছেন খাদিজা খাতুন। ৬১৩ নাম্বার পেয়েছে সে। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চান। কিন্তু সেই পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা দারিদ্র।


সামশেরগঞ্জের গোবিন্দপুরে সাইকেল সারাইয়ের দোকান আব্দুস সামাদের। তাঁরই বড় মেয়ে খাদিজা। নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসার। ৬ সন্তান। একচিলতে ঘরে গাদাগাদি হয়ে থাকা। সাইকেল সারাইয়ের রোজগার আর স্ত্রীর বিড়ি বেঁধে পাওয়া আয়ের টাকায় সংসার চালানো দায়। নিজেরা অশিক্ষিত হয়েও তাই ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়াশেখাতে চান। তাই খাদিজা পড়াশোনা ছাড়েননি। সকালে ঘুম থেকে উঠে বিড়ি বাঁধতে বসতেন। সঙ্গে থাকত পড়ার বই। বিড়ি বাঁধতে বাধতেই চলত পড়া তৈরি। তারপর কোচিংয়ে গিয়ে সেই পড়া দেওয়া। সকাল দশটায় স্কুল। বিকেলে বাড়ি ফিরে বই খাতা নিয়ে বিড়ি বাঁধতে বসা।

আরও পড়ুন : টালির ভাঙা ঘর থেকে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নে গামছা বিক্রেতার ছেলে অমিয়

আরও পড়ুন : মাধ্যমিকে দশম টিকিট বিক্রেতার ছেলে শুভম রায়

এভাবে পরেই জয়কৃষ্ণপুর এবিএস বিদ্যাপীঠ থেকে ৬১৩ নাম্বার পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উর্তীর্ণ হয়েছেন। চিকিৎসক হতে চান। সেজন্য বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু তার খরচ অনেক। সামান্য বিড়ি বেঁধে আর সাইকেল সারাই করে সেই টাকা জোগাড় করা মুশকিল। তাই মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে রাতের ঘুম ছুটেছে আব্দুস সামাদের। কোনও সহৃদয় ব্যক্তির সাহায্য পেলে মেয়েটার স্বপ্ন পূরণ হত। তবে যেভাবেই হোক মেয়েকে পড়াতে চান আব্দুস। জানালেন, তেমন হলে একবেলা খেয়ে মেয়ের পড়াশোনার টাকা জোগাড় করবেন।