দিঘার কাছেই মাত্র ৬ ঘণ্টা জেগে থাকে এই রহস্যময় দ্বীপ

আমাদের ব্যাস্ততার জীবনে হাতে সবসময় বেশি সময় হয় না ,আবার একঘেয়ে জীবন সবসময় ভালো লাগে না ।তাইতো বলি সপ্তাহ শেষে ছুটিতে কাছাকাছিকোথাও ঘুরে আসুন । মন ভালো থাকবে কাজেও গতি পাবে।নাই সিন্ধু দেখলেন শিশির বিন্দুরসৌন্দর্য তো দেখতে পাবেন ।কি ভাবছেন কাছে মশকারা করছি ,না মহাশয় কাছেপিঠে এমন অনেক জায়গা আছে যা আপনি হয়তো দেখেনি ।এই যেমন দিঘারসন্নিকটে বিচিত্রপুরের কথা জানেন কি?

নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে গোপন অ্যাডভেঞ্চারের গল্প । বিচিত্র নামে নয় কাজে ।আছে বৈচিত্র আছে নতুনত্ব, আর আছে নীরব রহস্য ।নিত্য নতুন পাখিদের ডাক ,জলের কুলু কুলু ধ্বনি , সবুজের হাতছানি।মনে হবে এ একস্বপ্ন রাজ্যে পারি দিয়েছেন ।এছাড়া অ্যাডভেঞ্চারের রহস্য আছে।ধৈর্য রাখুন সবইবলছি।তার আগে এখানে কিভাবে যাবেন তা জানুন।বিচিত্রপুর দিঘা থেকে খুব সামনেই ,এছাড়া তালসারি বিচস্পট কথা তো জানেন ,তারই গায়ে লাগাশহর বলতে পারেন।এই তালসারি মাত্র ১২কিলোমিটার রাস্তা।আর দিঘা থেকে বলেন প্রায় ২ঘন্টার রাস্তা ।মোটর ভ্যান পেয়ে যাবেন ,তাই যাওয়ারকোনো অসুবিধা হবে না।

প্রথমে উদয়পুর পেরিয়ে বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে চন্দনেশ্বর মন্দিরের পাশ দিয়ে সোজা নেমে যাবেন তালসারিতে৷ তবে  বিচিত্রপুরের জন্য আপনাকে আরও রওনা দিতে হবে ৷ এখানে চারিদিকে চোখ সামনে দেখতে পাবেন বেশ কয়েকটি স্টার রিসর্ট৷ বাড়িথেকে এসেছেন যখন অ্যাডভেঞ্চারের আশা করে তখন   রিসর্ট কেন ছায়া ঘেরা কোনো পান্থশালা হোক ।কি বলেন এক মত তো ? তবে স্টার রিসর্ট থাকতে চাইলে অবশ্যই আগে বুকিং করে যাবেন৷ তা নাহলে আপনাকে হয়তো রাস্তাতেই দিন কাটাতে হতে পারে৷ আর যদি কপাল ফেরে তো কপাল  আপনি ঘর পেয়ে যাবেন, তবে সেই ঘর ভাড়া ৩০০০ টাকা থেকে শুরু৷ তবে এখানের একটি বিশেষত্ব রয়েছে৷ প্রতিটি রিসর্টে আপনি নারকেল গাছ পাবেন৷ এমনকি বেশ কয়েকটা ঘরের পাশেই রয়েছে৷ হাত বাড়ালেই নাগালে আসতে পারে নারকেল৷ কিন্তু আপনার উদেশ্যতো  তালসারি নয় ,আজ আপনি যাবেন বিচিত্রপুরের বৈচিত্র দেখতে । তাই আবার পথ চলা শুরু ।

চন্দনেশ্বর মন্দির জানেন নিশ্চয়, দিঘা গেছেন জানবেন বৈ কী ,আবার  তালসারি থেকে সেখানে যেতে গেলে আপনাকে চন্দনেশ্বর মন্দিরের গা দিয়ে রাস্তা বরাবর এগিয়ে যেতে হবে৷ একেবারে গ্রামের পথ৷যেতে যেতে আপনার মনে পড়বে লাল মাটির সরানে ,সেই গানটা।হাসছেন ?হাসির তো বটে  প্রাণ খুলে হাসুন মনেফূর্তি না থাকলে হবে কি বলুন।রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে  পাবেন তরমুজ খেতও৷ অ্যাডভেঞ্চার মহাশয়  অ্যাডভেঞ্চার চাঁদের পাহাড় পড়েননি ?এরপর শুরু আঁকাবাঁকা পথ চলা ।আর তারপরই মধ্যে রোদ আর ছায়ার লুকোচুরি খেলবেএকটা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ৷

এইভাবে চলবে আপনার অ্যাডভেঞ্চার ।এখান থেকেই শুরুবিচিত্রপুরের রহস্য৷ এই ম্যানগ্রোভ ফরেস্টে পাবেন বিচিত্রপুর ম্যানগ্রোভ ইকোট্যুরিস্ট কমিটির একটি  টিকিট কাউন্টারযেটা বলেশ্বর ওয়াল্ড লাইফ এর অন্তর্গত ওড়িশা ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের ৷ এখানে একটিবোর্ড পাবেন ,বোটের টাইম টেবিল পেয়ে যাবেন।আপনাদেরসুবিধার জন্য আরো কিছু তথ্য দিচ্ছি । এখানে দুই দারণের বোট পাবেন একটা ৬সিটেরফাইবার স্পিড বোট আর একটা  ৮ সিটের ফাইবারস্পিড বোট  ।৮সিটের বোটের ১২০০ টাকা প্রতিট্রিপ৷ আর ৬সিটের বোটের ১০০০ টাকা প্রতি ট্রিপ ।দেরি না করে টিকিট কেটে উঠে পড়বেনসেই বোটে৷

শুরু হলো আর এক অ্যাডভেঞ্চার ।এই স্পিড বোট আপনাকে নিয়ে যাবে মোহনার কাছাকাছি, যেখানে সুবর্ণরেখা সাগরে মিশেছে ৷ তারপর স্পিট বোড আপনাকে এইখানে নামিয়ে দেবে একটি দ্বীপে৷ এই সেই  দ্বীপ যার জন্য সাত সহলে উঠে পারি জামিছেন এরই নামই বিচিত্রপুর৷ অদ্ভূত জ্যামিতির নকশায় দাঁড়িয়ে আছে  দ্বীপটি৷ নামার সঙ্গে সঙ্গেইশুনতে  পাবেন  নাম না জানা কত পাখিদের কাকলি৷ আর সবুজে ঘেরা দিগন্ত ।এই এলাকার বেশ কিছু গাছ নিজেদের এক অদ্ভুত ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে আছে ।রহস্য , রহস্য, রহস্য  কি এই রহস্য ,এখানে আপনি জোয়ারের সময় আসতে পারবেন না৷ এই দ্বীপের আসল রহস্য হলো দিনের মাত্র ৬ ঘন্টা জেগে থাকে এই দ্বীপটি৷ এই বিশেষ গুণের জন্য  এর এত  আকর্ষণ ৷ মনটা মনটা ভয় ভয় করছে তাই তো কখন জোয়ার আসবে আর ভাসিয়ে নিয়ে চলে যাবে ।না মহাশয় ,এটাই তো অ্যাডভেঞ্চার ,আসল মজা।

আর একটু অন্য খবর দিয়ে রাখি যারা মদ্যপান করবেন ভাবছেন নির্জন পরিবেশ ভালোই জমবে ,তাদের বলি মোটেও এসব চলবে না ।কারণ দ্বীপ সুরক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা আছে টিতে এখানে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্যাকেট ,বোতল কিছুইআপনার নজরে আসবে না৷ হাতে সময় নষ্ট না করে দ্বীপটি ঘুরে নিন৷ কারণ দ্বীপটিএক এক জায়গায় এক এক  নতুনত্ব নজরে আসবে ।তাই  এখানে এসে সময় নষ্ট মানে বোকামির পরিচয়৷ এবারফেরার পালা সভ্যতায়৷ সেই স্পিড বোট করে পারি দিবেন ৷ শুধু কি তাই এছাড়া আপনি দেখতেপাবেন  এশিয়ার সর্ব বৃহৎ সূর্ষমুখী ফুলেরচাষ । দীঘায় সূর্য দেখেছেন সানফ্লাওয়ার।  যা এক কথায় সানফ্লাওয়ার অয়েলের আঁতুর ঘর বলতে পারেন ।তবে যায় হোক শেষমেশআপনি নব কুমারের মতো বলেই ফেলবেন “আহা কি দেখিলাম জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিবনা।”