সপ্তাহে এক দিন হাসপাতালে গিয়ে অস্ত্রোপচার করেন এই প্রধানমন্ত্রী

শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কোনও ফোন ধরেন না প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রকের জরুরি বৈঠকও বাতিল করে দেন। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংক্রান্ত ফাইলও সেদিন পাশে সরিয়ে রাখেন। শনিবার শুধু তাঁর রোগী দেখার দিন। তিনি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং।

উইক এন্ডের শুরুর দিনটায় রাজনীতির উর্দি খুলে রাখেন লোটে শেরিং। চড়িয়ে নেন সাদা অ্যাপ্রন। হাতে তুলে নেন স্ক্যালপেল। তারপর সোজা চলে আসেন ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতালে। সেখানেই কাটান সারাটা দিন। জটিল রোগের অস্ত্রোপচারও করেন।

ইউরো-সার্জেন প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিংয়ের কথায়, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হলেও, ডাক্তারি করাটা আমার কাজ। এবং এই কাজ এতই ভাল লাগার, যে এই কাজ আমার অবসর সময়ের সঙ্গী। কেউ অবসরে গলফ খেলে, কেউ শিকার করে, আর আমি সার্জারি করি। তাই আমার ছুটির দিনটা আমি হাসপাতালেই কাটাই।’

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ও এফসিপিএস করার পরে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভুটানে ফিরে আসেন শেরিং। শুরু করেন চিকিৎসা। এরপর দেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটল। ২০০৮ সালে ভুটানের রাজতন্ত্রের সমাপ্তি ঘটে। শুরু হয় গণতন্ত্র। শেরিংও শুধু রোগী নয়, দেশবাসীর সেবার উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে আসেন ২০১৩ সালে। নির্বাচনেও লড়েন। তবে সে বার জিততে ব্যর্থ হয় তাঁর দল। ভাগ্য ঘোরে ২০১৮ সালে।  সাড়ে সাত লাখ মানুষের ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেরিং।

প্রধানমন্ত্রী হলেও চিকিৎসার নেশাটা তাঁর মাথা থেকে নামেনি। সক্রিয় রাজনীতি করার সময়েও  রোগীদের চিকিৎসা করতেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাই একটা গোটা দিনই রেখেছেন রোগীদের জন্য। কোনও এক শনিবারে ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতালে গেলে দেখা যাবে, বহু বছরের পুরনো মলিন অ্যাপ্রনটা পরেই হাসপাতালের ব্যস্ত করিডোর ধরে পায়চারি করছেন প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। না, কেউ চোখ কপালে তোলে না। নার্স এবং হাসপাতালের অন্যান্যরা স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের কাজ করে যান। ভুটানের মানুষজনও এমনটাতেই অভ্যস্ত।

আরও পড়ুন : বিশ্বের সবচাইতে গরিব প্রেসিডেন্টের বিস্ময়কর জীবনযাত্রার গল্প

লোটে শেরিংয়ের চিকিৎসার নেশাটা এমন পর্যায়ে যে তাঁর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কুর্সিতেও ঝুলতে দেখা যায় একটি সাদা অ্যাপ্রন। শুধু শনিবার রোগীদের চিকিৎসা করাই নয়, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি অন্য ডাক্তারদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শও দেন। তাঁর রাজনীতিতেও ঘুরে ফিরে আসে ডাক্তারি। প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিংয়ের জবানিতে, ‘হাসপাতালে আমি রোগীদের স্ক্যান করি, চিকিৎসা করি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও আমি নিয়মিত দেশের সরকারের স্বাস্থ্য স্ক্যান করি ও সেটিকে আরও ভাল করার চেষ্টা করি। আমৃত্যু আমি এটা করে যাব।’
বিশ্বের দেশগুলির নিরিখে ভুটানকে সবচেয়ে সুখী দেশ বলা হয়। এমন অদ্ভুত ঘটনা যেখানে স্বাভাবিক, সেখানে সুখের পাল্লা ভারী তো হবেই।