দেশের সেরা ৫ মহিলা IPS অফিসার, যাঁরা পিছনে ফেলে দিয়েছেন পুরুষদের

ঘরে হোক কিংবা বাইরে নারীরা যে যুদ্ধজয় করতে পারেন তার বহু প্রমান মিলেছে আগেও। দীর্ঘ সময় বয়ে গিয়েছে। গোঁড়া চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে আসছে সমাজ। তবুও যেন আজও শিক্ষিত সমাজের মেকি ভদ্রতা পেরিয়ে শুনতে পাওয়া যাবে ‘মেয়ে মানুষের চাকরি করার কি দরকার’। কিন্তু কোনো কালেই নিজেদের দমিয়ে রাখতে চায়নি নারীরা। তাইতো আজ পার্লামেন্ট হোক কিংবা কোর্ট, বাড়ি হোক কিংবা অফিস, সমান দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহিলারা।

কিন্তু বিগত কয়েক দশকে সমাজ বদলেছে। সময়ের সাথে সাথে মেয়েরা আজ পুরুষের সমান হয়ে উঠেছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেয়েরা আবার পুরুষদেরকেও টেক্কা দিয়ে যাচ্ছেন। যেমন IPS বা সিভিল সার্ভিসের মতো পরীক্ষাগুলিতে মেয়েরা ছেলেদের পিছনে ফেলেই এগিয়ে গেছেন কয়েক ধাপ।

এখন চোখ খুললেই দেখতে পাবেন মহিলা IPS আধিকারিকরায় আধাসামরিক বাহিনী, প্রধান কমিশনারদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আবার আমাদের দেশে দীর্ঘস্থায়ী নকশাল সমস্যারও মোকাবিলা করছেন তাঁরা। এমনই ৫ জন মহিলা IPS অফিসারের কথা আজ বলছি যাঁরা তাদের কর্ম জগতে নিজের দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি ও সাহসিকতার দ্বারা দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

১) কিরণ বেদিঃ কিরণ বেদি, প্রথম মহিলা আইপিএস অফিসার। ১৯৭২ সালে তিনি পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর ডিরেক্টর জেনেরেলের পদে কাজ করেন দীর্ঘ ৩৫ বছর। ২০০৭ এ স্বেচ্ছায় অবসর নেন। বর্তমানে তিনি পন্ডিচেরির লেফটেন্যান্ট জেনারেল। কঠিন অধ্যাবসায় ও একাগ্রতা তাঁকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। দক্ষতার সাথে কাজ করেন তিনি। দিল্লী, গোয়া, চন্ডীগড়, মিজোরাম ও তিহার জেলে দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। তিহার জেলে তার প্রকল্পিত বেশ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য প্রশংসা পান। দূর্নীতি বিরোধি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০০৪ সালে রামন ম্যাগসেসে পুরষ্কার পান। জাতিসংঘ পদক, রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পান এইপিএস অফিসার কিরণ বেদি।

২) অর্চনা রামাসুন্দরমঃ শ্রীমতী অর্চনা রামাসুন্দরম, ১৯৮০ সালে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। আইপিএস এ যোগ দেওয়ার আগে রাজস্থান ইউনিভার্সিটির লেকচারার ছিলেন। সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের প্রথম মহিলা অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। ইনি এসপি পদে কর্মরত থাকাকালীন বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিষিদ্ধ ভাবে আমদানি রপ্তানি করা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরে তিনি চেন্নাইয়ের এসপি হিসাবে কাজ করেছিলেন। ১৯৯৫ সালের আগস্টে তিনি তার সাহসিকতার জন্য পুলিশ পদক পান। এ ছাড়া ১৯৯৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকারে ডেপুটেশনের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন অর্চনা। নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোতে ডিআইজি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁর কাজের জন্য তাঁকে একাধিক পুরষ্কার দেওয়া হয়।

৩) মীরা বোরওয়ানকরঃ মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা আইপিএস অফিসার। তিনি মুম্বইয়ের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) এর অর্থনৈতিক অপরাধ শাখায় কাজ করেছিলেন এবং নয়াদিল্লিতে সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন ব্যুরোর ডিআইজি ছিলেন। মীরা বোরওয়ঙ্কার ২০০১ সালে মুম্বাইয়ের ক্রাইম ব্রাঞ্চ, বিভাগের প্রধান হিসাবে প্রথম মহিলা হন। তাঁর অবদানের জন্য তিনি পুলিশ মেডেল ও পদক পান। রাজ্য অপরাধ দফতরে (১৯৯৩-৯৯) চাকুরীরত অবস্থায় তিনি প্রচুর প্রচারিত জলগাঁও যৌন কেলেঙ্কারী তদন্ত করেছিলেন এতে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়ায়। তাঁর কাজের জন্য ১৯৯২ সালে রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার পান।

৪) সংযুক্তা পরাশরঃ ২০০৬ সালের আইপিএস ব্যাচে ছিলেন সংযুক্তা। রাস্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে অনার্স করেন। এরপর দিল্লীর জেএনইউ থেকে মাস্টার্স করেন। খুব কম সময়েই নিজেকে দক্ষ এইপিএস অফিসার হিসেবে প্রমান করেছেন তিনি। সংযুক্ত পরাশর ২০০৮ সালে অবৈধ বাংলাদেশী জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পান। এই দায়িত্ব তিনি দক্ষতার সঙ্গে পালন করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন। আইপিএসের পদে থাকাকালীন তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য অসমের বনাঞ্চলে তাঁর দলকে নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া নানা রকম সামাজিক কার্যক্রম, ত্রান,সেবা কাজের সঙ্গে ও তিনি যুক্ত।সংযুক্তা দেবীর নাম শুনলেই নাকি বহু অপরাধী ভয় পেয়ে ওঠে। বহুবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দূর্নীতি দমন করেছেন সংযুক্তা।

আরও পড়ুন :- ভারতের ১০ সুন্দরী, সাহসী ও সৎ মহিলা অফিসার  

৫) কাঞ্চন চৌধুরী ভট্টাচার্যঃ কিরণ বেদীর পর দ্বিতীয় মহিলা আইপিএস। উত্তরাখন্ডের ডিজিপি ছিলেন বহুদিন। উত্তর প্রদেশে কাড্রের প্রথম মহিলা আইপিএস অফিসার।তাঁর কাজের জন্য ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার পান। ১৯৯৭ সালে রাজীব গান্ধী পুরষ্কার পান। ২০০৭ সালে কাজ থেকে অবসর নেন তিনি।