বদলে গেল সিরিয়াল শুটিং পদ্ধতি, বাংলা বিনোদনের জগতে এল বড়সড় পরিবর্তন  

করোনার ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ বিবেচনা করে রাজ্য সরকার সারা রাজ্য জুড়ে লকডাউনের কড়া বিধি-নিষেধ চালু করেছে। প্রথমে ১৫ই মে থেকে ৩০শে মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপরেও করোনা নিয়ন্ত্রণে না আসার দরুণ লকডাউনের মেয়াদ ১৫ই জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো। লকডাউন পর্বে জরুরী পরিষেবা এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া অন্যান্য সমস্ত পরিষেবা বন্ধ। এই বন্ধের তালিকায় রয়েছে বিনোদন জগতও।

লকডাউনকালে সিনেমা, সিরিয়াল, ওয়েব সিরিজ, ছোটপর্দা, বড়পর্দা, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের শুটিং বন্ধ। বিগত প্রায় ১৪ দিন ধরে শুটিং ফ্লোরে শুটিং বন্ধ রয়েছে। তবে এতদিন পর্যন্ত অবশ্য পছন্দের ধারাবাহিকগুলি নির্দিষ্ট সময়েই দেখার সুযোগ পেয়েছেন দর্শক। সম্প্রচারণের মেয়াদ কমলেও সম্প্রচারণ কিন্তু বন্ধ হয়নি। আসলে চ্যানেল কর্তৃপক্ষগুলি আগে থেকেই আন্দাজ করেছিল যে আবার লকডাউন চালু হতে পারে রাজ্যে।

লকডাউনের প্রভাব যে কি ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা গত বছর লকডাউন পর্বে প্রায় ৮ মাস ধরে বেশ ভালোমতোই টের পেয়েছে বিনোদন জগৎ। তাই এবার আর কোনও রকম ঝুঁকি নেয় নি তারা। আগেভাগেই যতটা সম্ভব অতিরিক্ত পরিশ্রম করে বেশি বেশি শুট করে ব্যাকআপ রেডিই রেখেছিলেন ধারাবাহিকের নির্মাতারা। তাতে অবশ্য প্রথম দফার লকডাউনের ১৫ দিন কোনও রকমে টেনে দেওয়া যেত। তবে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধিতে তা আর সম্ভব হলো কই?

লকডাউনের আভাস পেয়ে বেশিরভাগ ধারাবাহিকের নির্মাতারা আগে থাকতে সচেতন হয়ে ব্যাকআপ রেডি রাখলেও সেই সম্ভারে ইতিমধ্যেই টান পড়তে শুরু করেছে। আর সম্ভব নয় স্বল্প সঞ্চয় থেকে ধারাবাহিক টেনে নিয়ে যাওয়া। তাহলে উপায়? এবার কি তাহলে গত বছরের মতো মাঝপথেই থেমে যাবে ধারাবাহিকের সম্প্রচারণ? পছন্দের ধারাবাহিকগুলি তাহলে কি আর দেখতে পাবেন না আপনি?

লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি পেতেই তাই কার্যত সিরিয়াল অনুরাগীদের মনে এই প্রশ্নগুলিই দানা বাঁধতে শুরু করেছে। গত বছরের স্মৃতি জেগে উঠছে দর্শকের মনে। গতবছর শুটিং বন্ধ থাকলেও অবশ্য দর্শকের বিনোদনে ভাটা পড়েনি। কারণ সেই কঠিন পরিস্থিতিতে পুরনো দিনের এভারগ্রীন, সুপারহিট ধারাবাহিকগুলিকেই পুনরায় পর্দায় ফিরিয়ে এনেছিল চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। স্টার জলসা, জি বাংলার পর্দায় নিজেদের পছন্দের ধারাবাহিকগুলি আবারও দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন দর্শক।

এবারেও কি তাহলে তেমনটাই হতে চলেছে? কি ভাবছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ? লকডাউনে দর্শককে বিনোদন যোগানোর পথ কিন্তু ইতিমধ্যেই খুঁজে পেয়ে গিয়েছে স্টার জলসা এবং জি বাংলা। না, আপনার পছন্দের ধারাবাহিকগুলি লকডাউনেও বন্ধ হবে না! এমনই স্বস্তির বার্তা নিয়ে হাজির চ্যানেল। কারণ শুটিংয়ের বিকল্প পথ খুঁজে পেয়ে গিয়েছেন ধারাবাহিক নির্মাতারা। কিভাবে? জেনে নিন এই প্রতিবেদন মারফত।

ধারাবাহিক নির্মাতারা শুটিংয়ের যে বিকল্প পথ খুঁজে বের করেছেন তা অত্যন্ত অভিনব। শুটিং ফ্লোরে নয়, এবার থেকে ধারাবাহিকের শুটিং হবে কলাকুশলীদের বাড়িতেই! স্টার জলসা এবং জি বাংলা বেশ কিছু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে এই পদ্ধতিতে শুটিংয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। স্টার জলসার “খেলাঘর”, জি বাংলার “মিঠাই”, “কৃষ্ণকলি” ধারাবাহিকে আপাতত এই পদ্ধতিতেই শুটিংয়ের কাজ হচ্ছে।

Mithai Shooting During Lockdown

ধারাবাহিকের কলাকুশলীরা বাড়িতে মেকআপ আর্টিস্ট ছাড়া নিজেই নিজের লুক তৈরি করছেন, মেকআপ করছেন, সাজ পোশাক করছেন, তারপর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলছেন। ধারাবাহিকের গল্পের গতিপথ আপাতত এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ এখনই বন্ধ হচ্ছে না আপনার পছন্দের ধারাবাহিক গুলি। আপাতত এই নতুন পদ্ধতিতেও বেশ কিছুদিনের জন্য চলবে শুটিং।

“খেলাঘর”, “মিঠাই”, “কৃষ্ণকলি” ধারাবাহিকের মাধ্যমে লকডাউন পর্বে যে অভিনব শুটিং পদ্ধতি চালু হলো, তা বাকি ধারাবাহিক গুলিও অনুসরণ করে কিনা, তাই এখন দেখার। তবে করোনাকালে শুটিং চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ছাড়া আপাতত অন্য কোনও উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না ধারাবাহিকের নির্মাতারা। আগামী কয়েক দিনের জন্য তাই বাড়িতে বসেই “শুটিং ফ্রম হোম” ট্রেন্ড হয়ে উঠতে চলেছে টলিউডের।

Khela Ghor Serial Shooting During Lockdown

এই পদ্ধতিতে শুটিং কার্যত দর্শকের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। শুটিং ফ্লোর ছাড়া শুটিংয়ের এই পদ্ধতি দর্শকের একাংশের ভালো নাও লাগতে পারে। টলিউডে ধারাবাহিক শুটিংয়ের এই পদ্ধতি একেবারেই নতুন। তবে লকডাউনেও পছন্দের ধারাবাহিকগুলির সম্প্রচারণ যে বন্ধ হচ্ছে না, দর্শকের কাছে এটাই সব থেকে বড় স্বস্তি।

প্রসঙ্গত শুটিংয়ের এই পদ্ধতি অভিনব হলেও কিন্তু নতুন নয়। কারণ গত বছর লকডাউনে এভাবেই প্রথম ইন্ডাস্ট্রিতে “শুটিং ফ্রম হোম” এর ধারণা উপস্থাপন করে জি বাংলা। লকডাউন পর্বে জি বাংলার তিনটি বিশেষ শো, “ননস্টপ আবোল তাবোল”, “প্রিয় তারকাদের অন্দরমহল” এবং “লকডাউন ডায়েরিজ” কার্যত এভাবেই সম্প্রচারণ করা হয়েছিল। এবার ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ক্ষেত্রেও সেই ট্রেন্ড শুরু হলো।