অভিনয় নয়, সিরিয়ালের কুচুটে খলনায়িকা স্বাগতা চেয়েছিলেন অন্য পেশা নিতে, মুখ খুললেন অভিনেত্রী

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Telivision) ভয়ঙ্কর খলনায়িকাদেরও আলাদাই জনপ্রিয়তা রয়েছে দর্শক মহলে। এদের মধ্যে কেউ কেউ বছরের পর বছর ধরে দাপিয়ে অভিনয় করে যাচ্ছেন টিভির পর্দায়। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একনাগাড়ে খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে চলেছেন অভিনেত্রী স্বাগতা মুখার্জী (Swagata Mukherjee)। এত বছর ধরে তাকে দেখছেন দর্শকরা, অথচ আজও পর্দাতে তাকে দেখলেই গা শিউরে উঠতে বাধ্য।

অভিনয়গুণে প্রতিবার দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন স্বাগতা। প্রায় তিন দশক ধরে কখনও ‘বহ্নিশিখা’ কখনও ‘তমসা রেখা’, ‘দুর্গা’, ‘ঝাঁজ লবঙ্গ ফুল’, ‘রানু পেল লটারি’, ‘দুর্গা দুর্গেশ্বরী’, ‘সর্বজয়া’ থেকে ‘বিক্রম বেতাল’ এর খলনায়িকা হয়ে সামনে এসেছেন তিনি। কখনও কি একঘেয়েমি আসেনি তার মনে? উত্তর দিলেন তিনি নিজেই।

অভিনেত্রী একটি উপমা দিয়ে বলেন তিনি মনে করেন নানা ধরনের পদ রান্না করা আর একটি বিশেষ উপকরণ দিয়ে বিভিন্ন পদ রান্না করার মধ্যে পার্থক্য আছে। দ্বিতীয়টাতে সবথেকে বেশি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। খলনায়িকার চরিত্রের মাধ্যমে তিনি এই চ্যালেঞ্জের কাজটাই করে থাকেন। তিনি নেগেটিভ চরিত্রের বিভিন্ন শেডস পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন। কাজটা মোটেই সহজ নয়। আর সেই জন্যেই এই কাজটা তার এত বেশি পছন্দের।

তবে অভিনেত্রীর পছন্দের তালিকাতে রয়েছে কিন্তু আরও দু-দুটি কাজ। জোশ টকস নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে এই বিষয়ে মুখ খুলে তিনি তার পছন্দের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন ছোট থেকেই তিনি গান শিখেছেন। তাই বড় হয়ে একসময় গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। আবার পড়াশোনা করতেও ভালবাসতেন। স্বাগতা ফিলোজফিতে এমএ পাশ করেছেন। বড় হয়ে শিক্ষিকা হতেও চেয়েছিলেন ছোট্ট স্বাগতা।

পরে অবশ্য তিনি বুঝতে পারেন ভবিষ্যতে অভিনয়টাই তার পেশা হতে চলেছে। ব্যস্ততম শুটিং শিডিউলের মধ্যেও কিন্তু গান গাওয়ার শখটা তিনি এখনও ধরে রেখেছেন। এরই মধ্যে তিনি নিজের একটি গানের অ্যালবামও বের করে ফেলেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের শিক্ষকতা করার ইচ্ছেটাও পূরণ করেছেন একটু অন্যভাবে।

স্বাগতা এবং তার স্বামী ঋষি মুখার্জি একাডেমি অফ পারফর্মিং আর্টস মিউজিক এন্ড অ্যাকটিং এর কর্ণধার। তাদের এই সংস্থায়ী বহু ছাত্র-ছাত্রী অভিনয় শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এত বড় মাপের অভিনেত্রীকেও কিন্তু ছোটবেলাতে তার চেহারার জন্য কথা শুনতে হয়েছিল। তার মুখের ব্রণের দাগের জন্য মায়ের এক বান্ধবী বলেছিলেন তার কখনও বিয়ে হবে না। তবে স্বাগতা মুখের এই দাগ নিয়েই বড় মাপের অভিনেত্রী হয়ে দেখিয়েছেন। প্রমাণ করে দিয়েছেন দেখতে যে যেমনই হোন না কেন, প্রতিভা থাকলে সাফল্য আসবেই।