বিরোধীদের মুখে ঝামা ঘষে প্রকাশ্যে এলো এয়ার স্ট্রাইকের প্রমাণ

3913

পুলওয়ামায় ভারতীয় সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর জইস-ই-মহম্মদ জঙ্গী সংগঠনের আত্মঘাতী হামলার পর গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বায়ুসেনা তরফ থেকে পাকিস্তানের আকাশে ৮০ কিলোমিটার প্রবেশ করে ওই জঙ্গী সংগঠনের প্রশিক্ষণ শিবির এবং মূল কন্ট্রোল রুমে আঘাত হানে।

সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর হামলার প্রতিশোধ হিসাবে এই এয়ার স্ট্রাইক ভারতীয়দের মধ্যে যে রোষ ছিল তা কিছুটা হলেও উপশম হয়। এই এয়ার স্ট্রাইকে ২৫০ – ৩০০ জন জঙ্গি নিকেশের দাবিও করা হয়। কিন্তু তারপরেই অনেকেই প্রশ্ন তুলতে থাকেন জঙ্গী নিকেশের সঠিক সংখ্যা নিয়ে। এমন কি পাক সরকারের তরফ থেকে এটাও জানানো হয় যে ভারতীয় বায়ুসেনা আঘাত হানলেও তারা সেই আঘাত হেনেছিল ফাঁকা জঙ্গলে। ভারতীয় বায়ুসেনার হানাতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর নেই।

এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে গতকাল বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়াকেউ সাংবাদিকের সামনে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। দেশের অনেক রাজনৈতিক নেতাও এয়ার স্ট্রাইকে নিহত জঙ্গিদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বায়ু সেনা প্রধানের তরফ থেকে জানানো হয়, ‘আমরা যদি জঙ্গলেই বোমা ফেলে থাকি, তাহলে পাকিস্তান কেন পাল্টা আঘাত করতে এলো।’

কিন্তু এরপরেও চলতে থাকে নিহত জঙ্গিদের সংখ্যা নিয়ে নানান টালবাহানা। অবশেষে রাইটার্স নামক একটি সংবাদ সংস্থা এয়ার স্ট্রাইকের প্রমাণ দিল স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে। সংবাদ সংস্থা জৈস জঙ্গী সংগঠনের ২০১৮ সালের প্রশিক্ষণ শিবির স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে। পাশাপাশি প্রকাশ করে এয়ার স্ট্রাইকের পরের প্রশিক্ষণ শিবিরের স্যাটেলাইট ছবি।

Read More : Viral Video : অভিনন্দনকে নিয়ে চায়ের বিজ্ঞাপন বানালো পাকিস্তান

যদিও সেই স্যাটেলাইট ছবি অস্পষ্ট, কিন্তু তাতেও বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না যে, এয়ার স্ট্রাইকের পর ওই জঙ্গী সংগঠনের কন্ট্রোল রুম এবং প্রশিক্ষণ শিবিরে অনেক বাড়ির ছাদ নেই।

এছাড়াও সেদিনের ওই এয়ার স্ট্রাইকে ৮০% বোমায় যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদ করেছিল, তার প্রমাণ বায়ুসেনার তরফ থেকে ভারতীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বালাকোটে মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হয়েছিল ইজরায়েলি স্পাইস ২০০ প্রিসিশন বোমা। ভিতরে ঢুকে আঘাত হানে সেটি।