করোনা আবহে ক্রিকেটের নিয়মে আমূল পরিবর্তন, BCCI-এর নয়া নির্দেশিকা

ক্রিকেট ম্যাচের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ম্যাচ আম্পায়ার। অনেক ম্যাচের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ম্যাচের ফলাফল বদলে গেছে। বিশ্বকাপ হোক কিংবা ওয়ানডে বা আইপিএল সব ক্ষেত্রেই এরকম ঘটনার একাধিকবার সাক্ষী থেকেছে দর্শকরা।

এই বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরেই ভাবনা চিন্তা করছিলেন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি। এবার নেওয়া হলো এক অভিনব সিদ্ধান্ত। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে নো বলের বিষয় একাধিকবার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যার জন্য এবার নো বলের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে আইসিসি। এবার থেকে নো বল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত ফিল্ড আম্পায়ারের হাতে থাকবে না। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরিভাবে দেওয়া হলো টিভি আম্পায়ারকে।

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ইংল্যান্ড আয়ারল্যান্ড ওয়ান ডে সিরিজ শুরু হতে চলেছে।সেইদিন থেকেই এই নতুন নিয়ম লাগু হবে। আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার সিরিজেও এই নতুন নিয়ম লাগু হবে। অর্থাৎ বলা যেতে পারে টিভি আম্পায়ারদের কাজের দায়িত্ব একদিকে যেমন বাড়ছে তেমনই কমছে ফিল্ডে আম্পায়ারদের দায়িত্ব। এবার থেকে ‘ফ্রন্ট ফুট নো বল’ ডাকার পুরো দায়িত্ব টিভি আম্পায়ারদের হাতে।

পরীক্ষামূলক ভাবে ২০১৬ সাল থেকে এই নিয়ম চালু হয়েছে। ট্রায়াল হিসেবে ২০১৯ সালে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ান ডে সিরিজে এই নিয়ম পরীক্ষা করেছিল আইসিসি। শুধু তাই নয় ২০২০ সালে মহিলাদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ফ্রন্ট ফুট নো বল’ ডাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল টিভি আম্পায়ারকে।এবার এই নিয়ম চালু হবে আফিশিয়ালি বিশ্বকাপ সুপার লিগে। বোলিং করাকালীন বোলারের পা ক্রিজ ছাড়ার কিছু সেকেন্ডের মধ্যে সেই ফুটেজ টিভি আম্পায়ারের কাছে চলে যাবে এবং তিনিই নো বল সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেবেন।

করোনা ভাইরাসের জেরে ভারতে বন্ধ রাখা হয়েছে ক্রিকেট। এই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া ক্রিকেট চালু করতে বদ্ধপরিকর বিসিসিআই। একশো পাতার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসেডিওর জারি করেছে এসওপি-তে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশিকা বলা হয়েছে করোনা আবহে ঘরোয়া ক্রিকেট চালু করতে হলে খেলোয়াড়দের ঝুঁকি নিতে হবে। নিজের রাজ্যে প্রস্তুতি শিবিরে অংশ নেওয়ার আগে ক্রিকেটারদের বিপদ সংক্রান্ত সম্মতি পত্রে সই করতে হবে বলে জানানো হচ্ছে।

ক্রিকেটার, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলিকে নিতে হবে বলে জানিয়েছে বিসিসিআই। অনুশীলন কিংবা ম্যাচ চলাকালীন ষাটোর্ধ্ব কোনও ব্যক্তি যার ডায়বেটিস, ফুসফুস-জনিত বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁকে মাঠ, শিবির কিংবা ড্রেসিং রুমে ঢুকতে দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন :- সেরা অধিনায়ক কে ধোনি নাকি সৌরভ? প্রকাশ্যে এলো সমীক্ষার ফলাফল

সমাজিক দূরত্ব মেনে চলার পাশাপাশি প্রত্যেক ক্রিকেটারের এন ৯৫ মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনও রাজ্যে প্রস্তুতি শিবির শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে থেকে ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য পর্যালেচনা করা হবে। ম্যাচ চলাকালীন ক্রিকেটারদের একদিন অন্তর প্রতিদিন দুই বার করে কোভিড-১৯ টেস্ট করা হবে। কোনও ক্রিকেটারের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সংক্রান্ত লক্ষণ নজরে পড়লে তাঁর পিসিআর টেস্ট করা হবে।