গুনগুন না ফিরলে ভেঙ্গে যাবে মুখার্জি পরিবার, বাড়ি ছাড়বে পটকা, জ্যাঠাই, বড়মা

গুনগুন না ফিরলে বাড়ি ছাড়বে পটকা, জ্যাঠাই, বড়মা, স্ত্রীকে ফেরাতে কাতর বাবিন

পুচুসোনা হাসপাতালে যেতেই বাড়ি ছেড়েছে গুনগুন (Gungun)। পুচুসোনার প্রতি সমস্ত অধিকার ত্যাগ করে চিরকালের জন্য শ্বশুরবাড়ি ছেড়েছে সে। এদিকে গুনগুন বাড়ি ছাড়তেই পরিবারে শুরু হয়েছে নতুন অশান্তি। এতদিন যাকে কেন্দ্র করে সংসারে রীতিমতো অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, তার চলে যাওয়াতে যেন পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। এখন সকলে গুনগুনকে ছেড়ে নিজেদের দোষই ধরছে। এমনকি মিষ্টিও ক্ষমা চেয়েছে গুনগুনের কাছে।

তবুও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় গুনগুন। তাকে যখন কোনভাবেই বাড়িতে ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না তখন বাবিন নিজে আসে স্ত্রীর কাছে। অভিমানী গুনগুনের মান ভাঙাতে তার ইউনিভার্সিটিতেই চাকরি নিয়ে আসে বাবিন। এতেও অবশ্য গুনগুনের মান ভাঙানো যায়নি। তবুও চেষ্টা করে চলে বাবিন। গুনগুনের ইউনিভার্সিটির প্রথম দিনেই দেখা হয় তাদের। সেখানেও গুনগুনকে বোঝানোর চেষ্টা করে সে। তাকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ জানায়।

বাবিন জানায় যে, যদি গুনগুন ফিরে না আসে তাহলে মুখার্জি পরিবার ভেঙ্গে যাবে। জ্যাঠাই আর বড়মা বৃদ্ধাশ্রম চলে যাবেন বলছেন। পটকাও ট্রানস্ফার নিয়ে চলে যাবে কোনও এক দূরদেশে। গুনগুন চলে যাওয়াতে মুখার্জী পরিবারের সকলের মুখের হাসি মিলিয়ে গিয়েছে। বাড়িতে আর কারোরই মন টিকছে না। এই পরিস্থিতির জন্য মিষ্টি অনবরত নিজেকেই দোষ দিচ্ছে। সেও বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলে।

সংসার বাঁচাতে বাবিন তাই গুনগুনের দ্বারস্থ হয়। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে। বাড়ি ফিরে আসার জন্য কাতর আর্জি জানায় গুনগুনের কাছে। তবে এতেও গুনগুনের মন ভেজে না। গুনগুনের এই প্রতিক্রিয়া থেকে দর্শকমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, মুখার্জি পরিবারে গুনগুন যেভাবে অপদস্থ হয়েছে, তাতে তার আর ওই বাড়িতে ফিরে যাওয়া উচিত নয়। তাহলেই যোগ্য শাস্তি পাবে তার শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা।

অপরপক্ষে আরেকদল আবার গুনগুনের এই একরোখা মনোভাবের সমালোচনা করছেন। তাদের বক্তব্য, জ্যাঠাই এবং বড়মা যখন নিজে থেকে গুনগুনকে ফেরাতে এসেছিলেন, তখনই গুনগুনের চলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সে তা না করে বড়দের অপমান করেছে। গুনগুনের এই স্বভাব বদলানো জরুরী, এমনটাই মনে করছেন দর্শক। কেউ কেউ তো আবার গুনগুনকে ফেরানোর জন্য পরিবারের সদস্যদের এমন কাকুতি-মিনতি করার বিরোধিতাও করছেন। তাদের মতে এতে গুনগুন প্রশ্রয় পেয়ে যাবে।

আপাতত এমনই দোটানার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে খড়কুটো ধারাবাহিকের গল্প। সব সমস্যার মুশকিল আসান পটকাও এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। পটকার অভিমান, সে যখন সকলকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল তখন কেউ তার কথা শোনেনি। উল্টে সকলেই গুনগুনকে দোষারোপ করেছে। তাই এখন আর সে এই বিষয়ে মাথা ঘামাবে না। ধারাবাহিকের গল্প এখন কোন পথে এগোবে? সত্যিই কি গুনগুন আর ফিরে আসবে না? প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ধারাবাহিকের পরবর্তী এপিসোডে।