সহ্যেরও একটা সীমা থাকে, গুণগুনের ন্যাকামিতে অতিষ্ট বাবিন, তুঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের জল্পনা

গুনগুনের (Gungun) হাত থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছে পুচুসোনা (Puchusona)। মিষ্টির সঙ্গে কথা কাটাকাটি, ধস্তাধস্তির ফাঁকে গুনগুনের হাত ফসকে সদ্যোজাত পড়ে যায় মাটিতে। ফলস্বরূপ, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পুচুসোনা। তবে এতে অবশ্য একদিকে লাভ হয়েছে মিষ্টির। কারণ সে এতদিনে তার সন্তানকে নিজের করে পেয়েছে। যে কারণে এতদিন মানসিক অবসাদ এবং হতাশায় ভুগছিল সে, এতদিনে তার সুরাহা হলো।

হাসপাতালে সদ্যজাতের সঙ্গে মায়ের থাকা বাধ্যতামূলক। কাজেই অনিচ্ছাসত্ত্বেও পুচুসোনাকে মিষ্টির কোলে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে গুনগুন। এতদিন সে ছোট্ট শিশুটিকে নিজের কাছে আগলে রেখেছিল। কাউকেই পুচুসোনার দায়িত্ব দিচ্ছিল না। এতে বাড়ির সদস্যরা তার উপর বেজায় ক্ষুব্ধ। যদিও বাড়ির সকলে গুনগুনের বিরোধিতা করলেও পটকা অবশ্য সকলের বিরুদ্ধে গিয়ে গুনগুনকেই সমর্থন করছেন।

গুনগুনের প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করছে রুপাঞ্জনও। যদিও চিনি ছোট বৌদির উপর বেশ রেগে আছে। বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের মতো পুটুপিসিও গুনগুনের কাজে বেশ ক্ষুব্ধ। হাসপাতালে পৌঁছে গুনগুনকে কড়া কথা শুনিয়েছে পুটুপিসি। মিষ্টিকে সাবধান করে বলেছে, “নিজের মেয়েকে নিজের কাছে রাখবে মিষ্টি, অন্য কারুর কাছে দেবে না”। গুনগুনের প্রতি বাড়ির সকলের মনোভাবে অসন্তুষ্ট বাবিনও।

যখন কোনও কিছুতেই গুনগুনকে বোঝানো সম্ভব হচ্ছে না, তখন গুনগুনের উপর ভীষণ রেগে গিয়েছে বাবিন। বাড়ির পরিস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যদের মনোভাব আঁচ করে সে সরাসরি গুনগুনকে বলে, “গুনগুন তোমার লজ্জা না লাগতে পারে, আমার মাথাটা হেঁট হয়ে যাচ্ছে… এতটা মাথা নীচু করে দেওয়ার কোনও দরকার ছিল না”। বাবিন এও বলে যে, বাচ্চার জন্মের সময় সাহায্য করার মানে এই নয় যে বাচ্চাটা গুনগুনেরই হয়ে যাবে!

বাবিনের কথায় গুনগুনের বেশ অভিমান হয়। সে জবাব দেয়, “আমি পুচুসোনার কেন তোমারদের কারুই কেউ হই না, সেটা এতোদিনে বুঝতে পারছি”। গুনগুনের জেদ এবং অবুঝ মানসিকতা বাবিনকে হতাশ করে তোলে। সে শেষমেষ গুনগুনের কাছে রেহাই চেয়ে বসে। এদিকে জ্যাঠাইও এই পরিস্থিতিতে গুনগুনের বাবা ডঃ কৌশিক সেনকে বলেন গুনগুনকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। যদিও গুনগুনের বাবা তার নিজের মেয়েকেই সমর্থন করছেন। তিনি নিজের মেয়ের হয়ে সওয়াল করতে থাকেন।

গুনগুন কেন বাচ্চার দায়িত্ব নিতে পারবে না? কেনই বা তাকে অবিশ্বাস করছে বাড়ির লোকজন? বাড়ির সকলে যখন এতদিন গুনগুনের সাথে মানিয়ে নিয়েছে তাহলে এখন কেন পারছে না? এই নিয়ে তর্ক করতে থাকেন তিনি। এমনকি যৌথ পরিবারের আদর্শ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। জ্যাঠাই, বড়মা, বাবিনের মা, কাকিমারা তার কাছে অভিযোগ করেন যে গুনগুন কোনোদিনই কারোর কথা শোনেনা, বড়দের সম্মান দেয় না। এখন তো মিষ্টির সন্তানকে মিষ্টির কাছে যেতেও দিচ্ছে না। গুনগুনের এই বাড়াবাড়ি মেনে নেওয়া যায়না। তাহলে কি এবার সৌগুনের সম্পর্কে সত্যিই ভাঙ্গন ধরবে? জানার জন্য পরবর্তী এপিসোডে চোখ রাখতেই হবে।