দিন কেটেছে বাসন মেজে, অভাবের সঙ্গে লড়ে মিস ইন্ডিয়া অটোচালকের মেয়ে

মিস ইন্ডিয়া ২০২০র রানার আপ হয়েছেন মান্যা সিং (Manya Singh)। কিন্তু এই পর্যন্ত পৌঁছানোর তার জীবনের গল্প এতটাই কঠিন ছিল যা জানলে যে কারোর চোখে জল চলে আসবে। ২৩ বছরে মান্যা নিজের জীবনের সেই সংঘর্ষের কাহিনী শেয়ার করেছেন ইন্টারনেটে। তারই গল্প শুনে গর্বে বুক ভরে উঠছে সবার।নতুন করে বাঁচার অণুপ্রেরণা দেয় তার জীবনের গল্প।

মান্যার জন্ম উত্তরপ্রদেশে।তার বাবা পেশায় অটোচালক। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যকে সাথে নিয়ে রাতের পর রাত কেটেছে ঘুম ছাড়াই, সারাটা দিন করেছেন নিরলস পরিশ্রম।জীবনের একটা পর্যায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল তারও, কিন্তু হার মানেনি তিনি, দাঁড়িয়েছেন ঘুরে।

তিনি ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে এই ভিডিও শেয়ার করেছিলেন ইনস্টাগ্রামে।তবে গত বুধবার ২০২০ মিস ইন্ডিয়ার রানারআপ হয়ে ওঠার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় তার এই ভিডিও।সোশ্যাল মিডিয়ায় মান্যা লেখেন,’সব জামা কাপড়গুলোই অন্যের দেওয়া ছিল। নিজের কাপড় কেনার পয়সা ছিল না। খুব ইচ্ছে হত, বই কিনে পড়ব। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। মা-বাবা যেটুকু গয়না ছিল, তাও বন্ধক রেখেছিলেন। যাতে অন্তত পরীক্ষার ফি টুকু দিতে পারি। মা সব গয়নাই বন্ধক রেখে বলেছিলেন, পরীক্ষায় পাশ করে ডিগ্রি পেতেই হবে।”

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Manya Singh (@manyasingh993)

নিজের ছোটবেলার কথা মনে করে মান্যা আরও বলেন “১৪ বছর বয়সে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। সকালে পড়াশোনা করতাম, রাতে কোনও হোটেলে বাসন মেজে দিতাম ও কল সেন্টারে কাজ করতাম। যা রোজগার হত, তাতেই কোনও ক্রমে পড়াশোনা চালিয়েছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাইলের পর মাইল হেঁটেছি, কারণ অটোতে ওঠার পয়সাও জুটতো না।’মনে মনে অনেক স্বপ্ন বুনলেও খালি পেট দেখিয়ে দিত বাস্তবতা। অভাবে স্কুলে যেতে পারতেন না। অনেক রাত একটা দানাও মুখে দিতে পারেননি। কিন্তু স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি তিনি। তিনি লিখেছেন

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Manya Singh (@manyasingh993)

‘আমি বিশ্বাস করি, তুমি যদি মন থেকে কিছু চাও, তা পাবেই। তাই মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম।’ মান্নার এই সংঘর্ষ কে কুর্নিশ জানাচ্ছেন নেট নাগরিকরা। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া মানুষী চিল্লার তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।