গাঁজাখুরি গল্প মাত্রা ছাড়াচ্ছে, কালি ফুরিয়েছিল বলে পদার্থবিদ্যায় ১০০তে ৯৮, মাধবীলতা দেখে ধুয়ে দিল দর্শকরা

কালি ফুরিয়েছিল বলে পরীক্ষায় ১০০তে ৯৮ পেয়েছে মাধবীলতা, নায়িকার ‘দুঃখে’ হেসেই গড়াচ্ছে দর্শকরা

madhabilata star jalsha

মাত্র কয়েক মাস আগেই স্টার জলসার (Star Jalsha) পদ্ধতি শুরু হয়েছে নতুন সিরিয়াল ‘মাধবীলতা’ (Madhabilata)। আর পাঁচটা ধারাবাহিকের তুলনায় কিছুটা হলেও আলাদা এই সিরিয়াল। যেখানে পরিবেশ নিয়ে একটি সতর্কবার্তা রয়েছে দর্শকদের জন্য। ধারাবাহিকের নায়িকা আদিবাসী পরিবারের মেয়ে। গাছই তার প্রাণ। বন জঙ্গলের গাছকে সে তার মা বলে মনে করে। আর যারা জঙ্গলের গাছ কেটে কাঠের চোরা কারবার করে, তারা হল মাধবীর ঘোর শত্রু।

যদিও মাধবীলতা আবার সেই চোরাকারবারকারীদের যিনি মাথার সেই পুষ্পরঞ্জন চৌধুরীর বাড়ির বউ হয়ে এসেছে এখন। পুষ্পরঞ্জনের ছেলে সবুজের স্ত্রী হয়ে উঠেছে গ্রামের মাধবী। এখন শ্বশুরমশাইকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই তার একমাত্র লক্ষ্য। শ্বশুরমশাইকে পদে পদে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সে এখন তাকে হাতে ধরে ‘অ-আ-ক-খ’ও শেখাচ্ছে।

এই মাধবীলতা কিন্তু নিজেও বেশ মেধাবী ছাত্রী! সম্প্রতি সে তার শিক্ষা-দীক্ষার পরিচয় দিয়েছে তার শ্বশুরবাড়িতে। মাধবী তার শ্বশুরমশাইকে গাছের উপকারিতা বোঝানোর চেষ্টা করে। সে বলে গাছ কাটলে পৃথিবীতে তাপমাত্রা দিন দিন বাড়বে। তাহলে এই পৃথিবী একদিন আগুনের গোলায় পরিণত হবে। মাধবী বলে তার বাবা গ্রামের মানুষ হয়েও সে কথা জানে, আর শ্বশুর মশাই শহরে থেকে গাছের উপকারিতার কথা জানেন না?

বউয়ের এত জ্ঞান দেখে সবুজ অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে, “তুমি এত কিছু জানো?” যখন মাধবী আরও অবাক হয়ে যাওয়ার মত উত্তর দেয়। সে বলে, “কেন গ্রামে থাকি বলে কি আমি অশিক্ষিত? আমি পদার্থবিদ্যায় ১০০ এর মধ্যে ৯৮ পেয়েছিলাম। ২ নম্বর কেন পাইনি জানেন? কারণ আমি যে কলমটাই লিখছিলাম সেই কলমের কালি ফুরিয়ে গিয়েছিল। আর একটা কলম কেনার পয়সা আমার ছিল না।”

adhabilata comments

মাধবী বলে ওইদিন পরীক্ষার হলে কেউ তাকে আর একটা কলম দিয়ে সাহায্য করেনি। সে সকলের কাছে একটা কলম চেয়েছিল কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করেনি বলে সে তার জানা প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারেনি। তাই ২ নম্বরটাও পায়নি। এই কথা বলতে বলতে নায়িকার চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসে জল। এদিকে তার ‘দুঃখ’ দেখেও হেসে গড়াচ্ছেন দর্শকরা। সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন পেজে ধারাবাহিকের সেই অংশের ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। সেই নিয়ে মিম বানানো হচ্ছে, ট্রোল করা হচ্ছে মাধবীকে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে কেউ লিখছেন, “আমার একটা পেনের রিফিলে ইতিহাসের অনার্সের চারটে পেপার কমপ্লিট হল। এবার বুঝতে পারছি পেনের কালি ফুরোইনি বলেই ১০০ই ১০০ পাইনি।’’ কেউ লিখলেন, “অবাক হয়ে যাই, এসব আজগুবি গল্প এই শিক্ষিত সচেতন সমাজে কোটি কোটি টাকার এপিসোড হিসেবে বিক্রি হচ্ছে!” কেউ স্ক্রিপ রাইটারকে তুলোধনা করে লিখলেন, “এত আশ্চর্য সিরিয়ালটার স্ক্রিপ্ট রাইটারকে আমার প্রণাম।’’ কারও কটাক্ষ, “এত খারাপ অবস্থা যেন চরম শত্রুরও না হয়”।