সামাজিক বঞ্চনা, বিদ্রূপ জয় করে ৩ ফুটের আরতি আজ IAS অফিসার

উচ্চতা থেমে গিয়েছে ৩ ফুট ২ ইঞ্চিতেই। কিন্তু আরতির মেধাকে আটকে রাখা যায়নি। মেধার উচ্চতার আলোয় ঢাকা পড়ে গিয়েছে শারীরিক খর্বতা।

প্রকৃত শিক্ষা এবং শিক্ষিতের লক্ষনই হলো সকল মানুষকে সমান চোখে দেখা। কেউ ছোট নয় কেউ বড় নয়। আমরা সকলেই সমান। কিন্তু ডিগ্রীপ্রাপ্ত হলেও আমরা সবাই শিক্ষিত হতে পারি না। তাই তো সমাজে ছোট বড়, উচ্চ-নীচ, নারী-পুরুষের এত ভেদাভেদ।

স্বাভাবিক মানুষ ও শারীরিকভাবে কোনো খামতি থাকা মানুষের মধ্যেও আমরা ভেদাভেদ করি।চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিই আর পাঁচজনের মতো নয় সে। তাতে সে হয়তো একটা পর্যায়ে বঞ্চনা সহ্য করতে করতে সফল হয়ে যায় কিন্তু আমাদেরই কেবল আত্মিক অবনতি ঘটে। আরতি ডোগরা এই ঘটনার একটি চরম দৃষ্টান্ত।

শারীরিক উচ্চতাটা যে কেবল একটা সংখ্যা,তা প্রমাণ করে দিলেন আইএস অফিসার আরতি ডোগরা। ছোটবেলা থেকেই আরতি দেবীকে  সামাজিকভাবে নানা বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে তার উচ্চতার কারণে। আরতি দেবী যখন জন্মান তখন ডাক্তার বলে দেন যে এই শিশু আর সবার মত স্বাভাবিক ভাবে পড়াশোনা করতে পারবে না। কারণ তার উচ্চতা ছিল মাত্র ৩ ফুট ৬ ইঞ্ছি।

এই উচ্চতার কারণে তাকে ছোট থেকেই অনেক অনেক ব্যঙ্গোক্তি সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু বরাবর আরতিদেবী পাশে পেয়েছেন তার মা কুমকুম ডোগরাকে ও বাবা রাজেন্দ্র ডোগরাকে। আরতি দেবীর মা বাবা, সন্তানের পড়াশোনার সাথে কোনরকম কম্প্রোমাইজ করতে প্রস্তুত ছিলেন না। তাই সমাজ ও পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে তারা সন্তানকে আর পাঁচটা স্বাভাবিক সন্তানের মত সাধারণ স্কুলেই ভর্তি করেন।

আরতি দেবীর বাবা সেনার একজন অফিসার আর মা কুমকুম ডোগরা একজন স্কুল শিক্ষিকা। তারা দুজনেই সন্তানের জন্য অত্যন্ত উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। আর তারা জানতেন তাদের সন্তান  ঠিক মতো শিক্ষা পেলে একদিন স্বাবলম্বী হবেই। এরপর ২০০৬  সালে আই এ এস পরীক্ষা দিয়ে  বাবা-মার স্বপ্নকে সফল করে আরতি দেবী আইএএস অফিসার হন।রাজস্থানের আজমেরে জেলা আধিকারিক পদে আরতি ডোগরা কর্মরত।

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন এর বাসিন্দা আরতি দেবী দেরাদুনের বেলহাম গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করেন।পরবর্তীকালে তিনি ইকোনমিক্স অনার্স নিয়ে ভর্তি হন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজে। ইকোনমিক্স অনার্স নিয়ে ভালোমতো পাশ করার পরে তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় আত্মবিশ্বাসের দ্বারাই তিনি আজ আই এ এস অফিসারদের মধ্যে অন্যতম একজন। ছোট থেকে নিজে সামাজিক  বঞ্চনার শিকার হয়েছেন তাই তিনি চাননা পৃথিবীর কোন মানুষ ই কোনো কারণে বঞ্চনার শিকার হোক। আরতির উদ্যোগে প্রশাসনের তরফে বহু সুযোগসুবিধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে রাজস্থানের প্রত্যন্ত অংশে আগের থেকে অনেক বেশি বিশেষ ভাবে সক্ষম ভোটাররা বুথমুখী হয়েছেন।

গোটা দেশের আই এ এস  অফিসারদের কাছে তিনি এখন আদর্শ। তিনি প্রমাণ করেছেন উচ্চতা মেধকে চেপে রাখতে পারে না। বিশেষ ভাবে সক্ষম ভোটারদের বুথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছেন আরতি।  কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে আরতি পুরস্কৃত হন। ২০১৯-এ জাতীয় ভোটার দিবসে আরতি পুরস্কার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে।