সেলিব্রিটি হয়েও নেই কোনও অহংকার, সাদামাটা লুকে গ্রামে ধরা দিলেন অরিজিৎ সিং

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ শহর থেকে শুরু হয়েছিল তার জীবনের জয়-যাত্রা। জিয়াগঞ্জ শহর থেকে বেরিয়ে কলকাতা হয়ে মুম্বাই পর্যন্ত পথটা কিন্তু তার জন্য খুব একটা সহজ-সরল ছিল না। বহু বাধা-বিপত্তি চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ তিনি টলিউড এবং বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। টলিউড-বলিউড তাকে ছাড়া কার্যত অসম্পূর্ণ। অরিজিৎ সিং ব্যতীত গানের জগৎ যেন কল্পনাও করা যায় না।

হিন্দি হোক বা বাংলা, অরিজিৎ সিংয়ের গান মানেই সুপারহিট। বলিউড তাকে “মেলোডি কিং” উপাধি প্রদান করেছে। মন ভাঙ্গা হোক বা গড়া, প্রেম হোক বা বিরহ, রোমান্টিক বা ট্রাজেডি, অরিজিৎ সিংয়ের সুরে মেতেছেন সংগীত অনুরাগীরা। বলিউডকে বহু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন অরিজিৎ। যে গুটিকতক বঙ্গসন্তান মুম্বাইয়ের মাটিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন, অরিজিৎ তাদের মধ্যে অন্যতম।

মাত্র ৩৪ বছর বয়সের মধ্যেই যিনি এই প্রভূত খ্যাতি, যশ, জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছেন কেমন ছিল তার পূর্ব জীবন? জেনে নিন আপনার প্রিয় গায়কের জীবন কাহিনী। ২০০৫ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তৎকালীন সময়ের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো “ফেম গুরুকুল” এর একজন প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই বিচারকেরা তাকে বাদ দিয়ে দেন।

“ফেম গুরুকুল”এ ষষ্ঠ হয়ে এক প্রকার খালি হাতেই সেদিন ফিরতে হয়েছিল তাকে। তবে তিনি হতাশ হয়ে পড়েননি। সংগীতের দুনিয়ায় নতুন উদ্যমে নিজের যাত্রা শুরু করেন। বিশাল শেখর, প্রীতম প্রমুখ নামী মিউজিক ডিরেক্টরদের সঙ্গে একসময় তিনি সহকারী মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেছেন। এই ভাবে কাজ করতে করতেই “মার্ডার টু” ছবির ‘ফির মহব্বত’ গানের একটি ভার্সন গেয়েছিলেন। তবে এই গানটি অবশ্য তেমন ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।

২০১৩ সালে “আশিকি ২” ছবির টাইটেল ট্র্যাক ‘তুম হি হো’ গেয়ে রাতারাতি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন অরিজিৎ সিং। এই গানটি তার কেরিয়ারের মাইলস্টোন হিসেবে কাজ করেছে। তারপর থেকে তাকে আর ঘুরে তাকাতে হয়নি। টলিউড এবং বলিউডজুড়ে একের পর এক ছবিতে গান গাইতে শুরু করেন অরিজিৎ। জীবনে এত সাফল্য লাভের পরও কিন্তু মাটির সঙ্গে তার টান অবিচ্ছেদ্য। নিতান্তই সাধারণ জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে পছন্দ করেন অরিজিৎ।

সাধারণের সঙ্গে মিশে সাধারণভাবেই থাকতে পছন্দ করেন গায়ক। সম্প্রতি তাকে মুর্শিদাবাদের একটি রেল স্টেশনে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেল। পরনে একটি নীল রঙের গেঞ্জি, মাথায় টুপি, কানে হেডফোন, সাধারণ মানুষের ভিড়ে নিতান্তই সাধারণ হয়ে ধরা দিলেন তিনি।

আরও পড়ুন : মাথায় গামছা মুখে মাস্ক, নিজের গ্রামে সাধারণ বেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অরিজিৎ

উল্লেখ্য অরিজিৎ সিং কিন্তু কখনোই নিজের সেলিব্রেটিভাব নিয়ে পথ চলেন না। পথে-ঘাটে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই তাকে দেখা যায়। এর আগেও একবার মুখে গামছা বেঁধে বাজার করতে গিয়েছিলেন এই গায়ক। তখনও অবশ্য মিডিয়ার সামনে ধরা পড়ে যান তিনি। বর্তমানে করোনার জন্য মুম্বাইয়ের পাট আপাতত চুকিয়ে বাড়ির পথে অরিজিৎ। সাধারণের ভিড়েও অসাধারণ তিনি। সম্প্রতি তার সেই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মারফত সোশ্যাল মিডিয়ায় মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় রক্তের আবেদন জানিয়েছিলেন অরিজিৎ। সৃজিত মুখার্জি , স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের মতন নামী শিল্পীরা সেদিন সেই পোস্ট শেয়ার করে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।

আরও পড়ুন : অরিজিতের দাম্পত্য জীবনের পর্দাফাঁস, লাইভ ভিডিওতে অভিযোগ তুললেন প্রথম পক্ষের স্ত্রী

অরিজিৎয়ের পাশে ছিলেন নেটিজেনরাও। সকলের সহায়তায় সেদিন তার মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল। সেকথাও নেটিজেনদের জানাতে ভোলেননি অরিজিৎ। তার এই নিতান্তই সাদামাটা স্বভাবের জন্যেই দিন প্রতিদিন অনুরাগীদের আরও কাছের মানুষ হয়ে উঠছেন অরিজিৎ সিং।

আরও পড়ুন : ”তুম হি হো” গানে প্রোপোজ, তারাপীঠে বিয়ে, অরিজিতের প্রেমকাহিনি হার মানায় সিনেমার প্লটকেও