মুম্বাইয়ের বুকে কোটি টাকার বাড়ি! বিলাসিতা ছেড়ে গ্রামের এই বাড়িতেই থাকেন অরিজিৎ

অসাধারণ হয়েও অতি সাধারন! ৫২ কোটির সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও গ্রামের এই বাড়িতে থাকেন অরিজিৎ সিং

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ শহর থেকে মুম্বাইয়ের রাস্তাটা অনেকদূর। এই ছোট্ট শহর থেকে স্বপ্ননগরী অব্দি পৌঁছোনোর পথে পেরিয়ে আসতে হয়েছে অনেক চড়াই-উতরাই। তবে আজ তার খ্যাতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পৌঁছে গিয়েছে। বাংলা গানকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। তিনি বাংলার গর্ব, অরিজিত সিং (Arijit Singh)। তার গানের ভক্ত সারাদেশ।

৩৫ বছর বয়সী গায়কের সুনাম আকাশ ছোঁয়া। গান গেয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন তিনি। ছবি, অ্যালবাম এবং লাইভ পারফরম্যান্স থেকেও কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছেন। তবুও তার মধ্যে এতোটুকুও অহংকার নেই। কখনও বিলাসিতার মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখেননি অরিজিৎ। তিনি শুধু প্রকৃত সংগীত সাধকের মত সারাদিন সংগীতের উপাসনার মধ্যেই ডুবে থাকেন। লাইফস্টাইলের মান নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন তিনি।

 

২০০৫ সালে ফেম গুরুকুলে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়েও জিততে পারেননি অরিজিত। কিন্তু বলিউডের পথে তার যাত্রাটা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ২০০৯ সালে ‘মার্ডার টু’ সিনেমার ‘ফির মহব্বত’ গানের মাধ্যমে তার বলিউডে ডেবিউ হয়। ২০১১ সালে ছবি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে গানটিও মুক্তি পায়। এরপর বিগত কয়েক বছরে অরিজিৎ সিং বাংলা হিন্দি এবং অন্যান্য ভাষা মিলিয়ে অনেক গান গেয়েছেন। হিন্দিতে প্রায় ৫০০, বাংলাতে ১৫০ এরও বেশি গান রয়েছে তার ঝুলিতে।

 

অরিজিত সিং তার গানের রেকর্ডিংয়ের জন্য বর্তমানে ১৮-২০ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। ভারতের একেকটি লাইভ প্রোগ্রামের জন্য আগে তিনি ৩০-৫০ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিতেন। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১-১.৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যান্ড থেকেও লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করেন তিনি। বর্তমানে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫২ কোটি টাকা প্রায়।

মুম্বাইয়ের বুকে ৮ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি রয়েছে তার। এছাড়াও রয়েছে Hummer, Range Rover, Mercedes Benz-এর মতো গাড়ি। কিন্তু এত অর্থ, বৈভবের মাঝেও নিতান্তই সাধারণভাবে সাধারণমানের জীবন যাপন করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। জিয়াগঞ্জে তিনি তার আদিবাড়িতেই পরিবার নিয়ে থাকেন। তার এই মাটির সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখে চলার মানসিকতা ভক্তদের তার প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল করে তোলে।