নারী শক্তির জয়! পুরোহিত থেকে ঢাকি সবাই মহিলা, ঢাক বাজিয়ে অপরাজিতার বাজিমাত

এবার কলকাতার ৬৬ পল্লীর পুজো প্রধানত উৎসবপ্রেমী বাঙালির কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ এই প্রথমবার দুর্গাপুজোয় কোনও মন্ডপে মহিলা পুরোহিতদের দিয়েই পূজোর সমস্ত রীতিনীতি পালন করা হচ্ছে। পূজার জোগাড়যন্ত্র থেকে শুরু করে দেবীর আরাধনা, পুরুষবর্জিতভাবে মহিলারাই পালন করছেন সব দায়-দায়িত্ব। আর সেখানে অপরাজিতা আঢ্যের (Aparajita Adhya) উপস্থিতি কার্যত পূজা মন্ডপকে আরও জমজমাট করে তুলেছে।

গতবছর ষষ্ঠীর দিনেই অপরাজিতার হাতে এসেছিল করোনা আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট কার্ড। কাজেই নিয়ম মেনে নিজেকে কোয়ারেন্টাইন করে নেন অভিনেত্রী। শুধু তিনি একা নন, তার শাশুড়ি, ননদ, খুড়শ্বশুররাও একইসঙ্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যে কারণে গত বছরের পুজোটা অপরাজিতার বেজায় উদ্বেগ এবং আনন্দবর্জিতভাবেই কেটেছে। তাই এবার আর পুজোর আনন্দ মিস করেননি অভিনেত্রী। সুযোগ পেয়েই পৌঁছে গিয়েছেন ৬৬ পল্লীর ওই বিশেষ পূজা অনুষ্ঠানে।

ষষ্ঠীর দিনে অপরাজিতাকে দেখা গেল সাবেকি সাজে। লাল শাড়ি, খোঁপায় লাল ফুল গুঁজে, গা ভর্তি সোনার গয়না পরে পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়েছিলেন অপরাজিতা। শুধু তাই নয়, সেখানে উপস্থিত মহিলা ঢাকিদের থেকে ঢাক নিয়ে বাজাতেও শোনা গেল তাকে। প্রথমে ধীর লয়ে বোল তুলে তারপর অন্যান্য মহিলা ঢাকিদের সঙ্গে উদ্দাম ছন্দে ঢাক বাজাতে শুরু করলেন অপরাজিতা।

গতবছর পুজোর সময়টাতে এক মুহূর্তের জন্যেও বাড়ির বাইরে পা রাখেননি তিনি। অসুস্থ এবং বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে কোনওক্রমে কোয়ারেন্টাইনে থেকে করোনার ফাঁড়া কাটিয়েছেন। গতবছর ‘চিনি’ ছবির শুটিং করার সময়েই করোনা তাকে আক্রমণ করে বসে। কাজেই পুজোর আনন্দটা তার মাটিই হয়ে গিয়েছিল। তারপর টানা একটি বছর নিজেকে সমস্ত আনন্দ অনুষ্ঠান থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন অপরাজিতা।

তবে এ বছর অবশ্য পুজোর প্রথম দিন থেকেই ভীষণভাবে সক্রিয় অপরাজিত আঢ্য। তার ষষ্ঠীর সাজ ছিল জমজমাট। তার উপর আবার পূজামণ্ডপে দাঁড়িয়ে তাকে ঢাক বাজাতে দেখে তার অনুরাগীরাও বেশ খুশি। তারকার উপস্থিতিতে ৬৬ পল্লীর পুজোও বেশ জমে উঠেছে।