চরম অর্থাভাবে বিপর্যস্ত ছিল জীবন, বাধ্য হয়ে ওয়েটারের চাকরি করেছেন এই বাঙালি নায়িকা

চরম অর্থকষ্টে কেটেছে জীবন, অভাবে ওয়েটারের কাজ করেছেন এই বাঙালি নায়িকা

বাঙালি নায়িকারা হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতেও চুটিয়ে কাজ করছেন। তেমনই একজন নায়িকা হলেন রূপালী গঙ্গোপাধ্যায় (Rupali Gangopadhyay)। বর্তমানে ‘অনুপমা’ (Anupama) ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি। হিন্দি টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে এই ধারাবাহিকটির বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। বাংলার ‘শ্রীময়ী’র হিন্দি রিমেক এটি।

রূপালী গঙ্গোপাধ্যায় জনপ্রিয় পরিচালক অনিল গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে। তার বাবা একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক। তবে তার দুটো ছবি ফ্লপ হওয়াতে তাকে রেস্তোরাতে কাজ করতে হয়েছিল। ক্যাটারিংয়ের কাজও করতে হয়েছিল তাকে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী তার জীবনের স্ট্রাগলের কথা তুলে ধরেন।

অনিল গঙ্গোপাধ্যায় জয়া ভাদুড়িকে নিয়ে ‘কোরা কাগজ’, রাখি গুলজারকে নিয়ে ‘তপস্যা’র মত ছবি বানিয়েছেন। এছাড়াও ‘পেয়ার কা কাবিল’, ‘সড়ক ছাপ’, ‘দুশমন দেবতা’, ‘আঙ্গারা’র মত ছবিও বানিয়েছিলেন তিনি। Humans Of Bombayকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় রূপালী বলেছেন, “বাবা ছিলেন জাতীয় পুরস্কার-প্রাপ্ত অভিনেতা আর আমার হিরো। বাবার সেটে যেতাম।

মন দিয়ে দেখতাম কীভাবে বাবা এক-একটা ফ্রেম যত্ন করে বানাচ্ছে। আমি মুগ্ধ হতাম। এসবের মাঝে কবে যে নিজেই নায়িকা হয়ে গেলাম বুঝতেই পারিনি। এক অভিনেত্রী ছবি থেকে সরে দাঁড়ালেন। বাবা আমাকে শেষ মুহূর্তে সেই জায়গায় ঢুকিয়ে দিলেন। এভাবে মাত্র ১২ বছর বয়সে আমার মধ্যে অভিনয়ের পোকা ঢুকে গেল।”

এরপরই তার বাবার দুটো ছবি ফ্লপ করে। তখনই শুরু হয় তাদের দুঃসময়। এই সময় রূপালী বুটিকের কাজ শুরু করেন, ক্যাটারিং করেন, আবার ওয়েটারের কাজও করেন। একটি পার্টিতে তার বাবা ছিলেন চিফ গেস্ট। সেই পার্টিতেই রূপালী ছিলেন ওয়েটার। এরপর বিজ্ঞাপনে কাজ শুরু করেন রূপালী। তখনই তার সঙ্গে তার স্বামী অশ্বিনের আলাপ হয়।

তিনিই তাকে টিভিতে চেষ্টা করে দেখার পরামর্শ দেন। তখনই তিনি ‘সুকন্যা’ সিরিয়ালে কেন্দ্রীয় চরিত্র সুযোগ পান। রূপালীর কথায়, “বাবার বলা একটা কথা আমি মাথায় রাখতাম সবসময়। বলেছিলেন, ‘তুমি কখনও কাঁদবে না, লোককে কাঁদাবে’। আমাকে এগিয়ে যেতে বাবার অবদান অনস্বীকার্য।’’