মেদিনীপুরের এক সাধারণ ছেলে অনির্বাণ আজ কীভাবে হয়ে উঠলো গোটা বাংলার ক্রাশ

মেদিনীপুরের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে অনির্বাণ আজ কীভাবে হয়ে উঠলো গোটা বাংলার ক্রাশ

Anirban Bhattacharya - Movies, Biography, WiKi & Facts

বাংলা ছবির (Bengali Movie) জগতে অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya) দর্শকমহলে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং নামী অভিনেতা। একইসঙ্গে অগণিত মহিলার হার্টথ্রব তিনি। বাড়ি মেদিনীপুরে। থিয়েটারের প্রতি টান থেকেই কলকাতায় আসা। তারপর ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি। একাধারে থিয়েটার, সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, সবেতেই সুপারহিট অনির্বাণ ভট্টাচার্য। অভিনয় তো বটেই, তার মিষ্টি হাসি আর চেহারার উপর ক্রাশ রয়েছে মহিলাদের। অনির্বাণ ভট্টাচার্য আজ গোটা বাংলার ক্রাশ।

তার জন্ম ১৯৮৬ সালে, পশ্চিম মেদিনীপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। স্কুলের পড়াশোনার পর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। গ্রাজুয়েশনের পর মাস্টার্সও করেন অভিনয় নিয়ে। ২০০৯ সালে ভারত সরকারের থেকে ইয়ং আর্টিস্ট স্কলার্শিপ পান। কলেজে পড়ার সময় থেকেই থিয়েটারে কাজ করতে শুরু করেছিলেন অনির্বাণ। তখন তিনি বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করতেন। দেবী সর্বমস্তা, অ্যান্টনি সৌদামিনী, যারা আগুন লাগায়, বিসর্জন, কারুবাসনার মতো নাটকে অভিনয় করে তার অভিনয় জীবনের শুরু।

গিরিশ কার্নাডের নাগামন্ডলা নাটক তাকে ব্যাপক খ্যাতি এনে দেয়। ২০১০ সালে অনির্বাণ সঙ্ঘরাম হাতিবাগান নামের একটি নিজস্ব থিয়েটার গ্রুপ শুরু করেন। সেখানে তিনি নাটকের পরিচালনা করতেন। এই সময় তিনি জী বাংলার টেলিফিল্মে ‘কাদের কুলের বউ’তে অভিনয় করার সুযোগ পান। এরপর আবার ‘যদি বলো হ্যাঁ’, ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ টেলিফিল্মে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে। একইসঙ্গে শাশ্বত চ্যাটার্জির সঙ্গে অপুর সংসার নামের একটি টক শো’তেও কাজের সুযোগ পান অনির্বাণ।

এরপর কালার্স বাংলার একটি ক্রাইম শো ‘হুঁশিয়ার বাংলা’তে সঞ্চালক হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। স্টার জলসাতে ‘ভূমি কন্যা’ টেলিফিল্মেও তাকে দেখা যায়। সিনেমার পর্দাতে তাকে প্রথম ব্রেক দেন অপর্ণা সেন। ‘আরশিনগর’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেও তিনি দর্শকের মনে দাগ কেটে যান। তারপর ২০১৬ সালে শাশ্বত চ্যাটার্জির ‘ঈগলের চোখ’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি দারুণভাবে সাড়া জাগান দর্শক মহলে। এই ছবি থেকেই দর্শক তাকে চিনতে শুরু করেন। এই ছবি তাকে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড এনে দেয়।

তারপর আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। কলকাতায় কলম্বাস, দুর্গা সহায়, ধনঞ্জয়, আলিনগরের গোলকধাঁধা, সৃজিত মূখার্জীর উমাও তার অভিনীত ছবির তালিকাতে জায়গা পায়। তবে থিয়েটারের অভিনয় ছাড়েননি অনির্বাণ। হইচইয়ের ব্যোমকেশ ওয়েব সিরিজ তাকে তার কেরিয়ারের সর্বোচ্চ খ্যাতি এনে দেয়। ল্যাবরেটরি, মানভঞ্জন, পাঁচফোড়ন তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ। শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য একজন সুগায়ক। সৃজিত মুখার্জীর শাহজাহান রিজেন্সিতে ‘কিচ্ছু চাইনি আমি’ গানটি তারই গাওয়া। গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

Anirban Bhattacharya

২০২০ তে তার অভিনীত ড্রাকুলা স্যার এ অন্য রকম চরিত্রে দেখা যায় তাকে। এই ছবির প্রিয়তমা গানটি তারই গাওয়া। অভিনয় ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কয়েকবার বিতর্কিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। বিয়ে হোক বা ছবিতে কোনও সাহসী দৃশ্য, কখনও বা রাজনৈতিক মতাদর্শ পেশ করতে গিয়েও কটুক্তির শিকার হয়েছেন। তবে সেসব নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে নারাজ অনির্বাণ। আজও সিনেমার তুলনায় নাটকের প্রতি তার আগ্রহ বেশি। একটি সাক্ষাৎকারে অনির্বাণ বলেছিলেন ভবিষ্যতে পরিচালনার সুযোগ পেলে সিনেমা ছেড়ে নাটকের পরিচালনা করবেন।