অনিল কাপুরের বিশ্বাসঘাতকতা বদলে দিয়েছিল মাধুরীর কেরিয়ার

বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সফল অভিনেত্রীদের কথা বলতে গেলে অবশ্যই আসবে মাধুরী দীক্ষিতের (Madhuri Dixit) নাম। কিন্তু মাধুরীর কেরিয়ারের শুরুটা কিন্তু মোটেই ভালো ছিলনা। শুধু তাই নয়, তার কেরিয়ারের খারাপ সময় তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন অনিল কাপুর (Anil Kapoor)।

অবশ্য তার ফলও পান তিনি।একটি ফিল্মের জন্য মাধুরীকে কথা দিয়ে তারপর ফিল্ম হিট করানোর জন্য স্টারডমের শীর্ষে থাকা অভিনেত্রীকে কাস্ট করেন তিনি। কিন্তু সেই ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে বক্স অফিসে।পুরো বিষয়টি একটু স্পষ্ট করে জেনে নেওয়া যাক।

মাধুরী দীক্ষিত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তার ডেবিউ করে ১৯৮৪ সালে রাজশ্রী প্রোডাকশনের একটি ড্রামা ‘অবোধ’-এ। ছবিতে তাপস পালের বিপরীতে তার অভিনয় নজর কেড়ে নেয় সবার। যদিও বক্স অফিসে ছবিটি সুপারফ্লপ হয় তাও মাধুরীর অভিনয় দক্ষতার জেরে নজরে পড়ে যান তিনি। এরপর অনেকগুলি ছবির অফার পান মাধুরী।

এর পরবর্তী দুই বছরে অর্থাৎ ১৯৮৬ এবং ১৯৮৭ সালে ৪টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মাধুরী। ছবিগুলি ছিল ‘সাথী’, ‘মানব হত্যা’, ‘হিফাজত’ এবং ‘উত্তর দক্ষিণ’।কিন্তু একটা ছবিও বক্স অফিসে জায়গা করতে পারেনি। কিন্তু প্রতিটি ছবিতেই মাধুরীর অভিনয় দক্ষতা মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের।১৯৮৮ সালে পরপর তিনটি ছবি করে মাধুরী। ফ্লপ হয় সেগুলিও।

অভিনয় সূত্রে মাধুরী দীক্ষিতের সাথে পরিচয় হয় অনিল কাপুরের। সেই সময় অনিল কাপুর এবং তার দাদা বনি কাপুর একটি বিগ বাজেটের ছবি বানানোর কথা ভাবছিলেন।অনিল কাপুর জানতেন মাধুরীর অভিনয় দক্ষতা অসাধারণ।সেই দেখে মাধুরীকে তিনি কথা দেন তার বড় বাজেটের ছবিতে তাকে কাস্ট করা হবে।কিন্তু সেই সময় মাধুরীর কেরিয়ার ভালো চলছিল না।সেই কারণে তিনি মাধুরীকে বাদ নিয়ে সেই সময়ের সুপারহিট নায়িকাকে নেন। অবশ্য তার অভিনয় দক্ষতা নিয়েও কোনও কথা বলার সামর্থ কারুর নেই।তিনি ছিলেন শ্রীদেবী।

সেই সময়ই অনিল কাপুরের সাথে শ্রীদেবীর যুগলবন্দীতে সুপার হিট হয় মিস্টার ইন্ডিয়া। এর পরেই স্টারডমের শীর্ষে চলে যান শ্রীদেবী।সেই কারণে অনিল কাপুরের পরবর্তী বিগ বাজেট ছবিতে শ্রীদেবীকে কাস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন অনিল কাপুর। অনিল কাপুরের সেই বিগ বাজেটের ছবিটি ছিল ‘রূপ কি রানি, চোরো কা রাজা’।১৯৮৭ সালে ছবিটির কাজ শুরু হয় এবং তার কাজ শেষ হয় ৬ বছর পর।

কাজ চলাকালীন এই ছবিতে অনেক বাধা আসে।বেশ কিছুদিন ছবির কাজ বন্ধ ছিল অন্যদিকে কখনও পরিচালক কাজ ছেড়ে চলে যান।প্রথমদিকে এই ছবির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন শেখর কপূর।পরবর্তীকালে সেই দায়িত্ব নেন সতীশ কৌশিক।কিন্তু ৬ বছর পর যখন ছবিটি মুক্তি পায় তখন ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।অনিল এবং বনি কাপুরকে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন।

এই ফিল্মে অভিনয় না করে আরেকটি ফ্লপের হাত থেকে বেঁচে যান মাধুরী দীক্ষিত। অন্যদিকে রূপ কি রানি, চোরো কা রাজা’ মুক্তি পাওয়ার আগেই অনিল কাপুরের সাথে আরেকটি ছবিতে অভিনয় করেন মাধুরী দীক্ষিত যা বলিউডে একটি মাইলস্টোন হয়ে যায়। ছবির নাম তেজাব। তারপর সুপারস্টার হয়ে যান মাধুরী।