নিজের জাত লুকোতে বদলাতে হয়েছে পদবী, কেবিসির মঞ্চে ফাঁস করলেন অমিতাভ বচ্চন

অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan), নামটা শুধু একজন মানুষের নাম নয়। হিন্দি সিনেমা জগতে এই নামটাই একটা ব্র্যান্ড তৈরি করেছে। বলিউডের বিখ্যাত বচ্চন পরিবারের খ্যাতি জগৎজোড়া। তবে জানেন কি একসময় জাত-পাত বর্ণ-বৈষম্যের শিকার হয়ে খোদ অমিতাভ বচ্চনকেই নিজের নামের পাশ থেকে নিজের পদবী ছেঁটে ফেলতে হয়েছিল? বিতর্ক এড়াতে নতুন পদবী নিয়েছিলেন অমিতাভ।

যদিও নামের পাশ থেকে পদবী ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত অমিতাভের নিজের ছিল না। ছেলে ছোট থাকার সময়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন অমিতাভের বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন। নিজের জন্মগত সূত্রে পাওয়া পদবী বদলে ছেলের নামের পাশে ‘বচ্চন’ জুড়ে দেন তিনি। ‘বচ্চন’ কোনও পদবী ছিল না। এটি আসলে অমিতাভের বাবা হরিবংশের ছদ্মনাম ছিল। যে নাম ব্যবহার করে তিনি কবিতা লিখতেন।

সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই অজানা ইতিহাস ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র মঞ্চে স্বীকার করে নিলেন অমিতাভ। এই রিয়েলিটি শোয়ের সাম্প্রতিকতম এপিসোডে উপস্থিত হয়েছিলেন ভাগ্যশ্রী নামের এক মহিলা। মহারাষ্ট্রের জলগাঁওয়ের ভাগ্যশ্রী অমিতাভকে জানান তিনি ভালোবেসে অসবর্ণ বিবাহ করেছেন। তার জন্য তার বাবা তার সঙ্গে কথা বলেন না। একথা শুনে অমিতাভ ভাগ্যশ্রীকে বাবার উদ্দেশ্যে বার্তা দিতে বলেন। একইসঙ্গে ভাগ্যশ্রী বাবার সঙ্গে মেয়ের কথাও বলিয়ে দেন কেবিসির মঞ্চে।

বাবা-মেয়ের মিল হওয়ার পর অমিতাভ নিজের ব্যক্তিগত প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এই মঞ্চে। তিনি স্বীকার করে নেন তার বাবা-মাও অসবর্ণ বিবাহের প্রতিনিধি ছিলেন। অমিতাভ বলেন, “আমার বাবা-মায়ের ভিন ধর্মে বিয়ে হয়েছিল। মা আদ্যোপান্ত শিখ পরিবারের মেয়ে ছিলেন, আর বাবা ছিলেন উত্তরপ্রদেশের এক সাধারণ কায়স্থ পরিবারের ছেলে। বিয়ের সময়ে তাই নানা ঝামেলায় জড়াতে হয়েছিল তাঁদের। যদিও ভবিষ্যতে দু-পক্ষই মেনে নিয়েছিলেন।”

অমিতাভ তার পদবী সংক্রান্ত গোপন তথ্য তুলে ধরে বলেন, “আমার বাবা প্রায় জোর করেই আমাদের নামের পাশে ‘বচ্চন’ বসিয়েছিলেন, কারণ আসল পদবীতে জাত-পাতের প্রসঙ্গ উত্থাপন হতে পারত! সালটা ১৯৪২। সেইসময়ে সমাজে উচ্চবর্ণ আর নিম্নবর্ণ মানা হত বেজায়। আমি যখন স্কুলে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম, আমার পদবী জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। বাবা-মা তৎক্ষণাৎ আমাদের আসল পদবী না বসিয়ে ‘বচ্চন’ ব্যবহার করেছিলেন। যে ছদ্মনামে উনি কবিতা লিখতেন, সেই নামটা।”

আরও পড়ুন : ২০ বলিউড তারকা যারা বদলে দিয়েছেন নিজেদের আসল নাম

অর্থাৎ অমিতাভের আসল পদবী হলো ‘রাই শ্রীবাস্তব’। তবে অমিতাভের বাবা হরিবংশ নিজের নামের পাশ থেকে শ্রীবাস্তব পদবী ছেঁটে ফেলেন। ছেলেকে তিনি জাত পাতের মধ্যে বেঁধে রাখতে চাননি। তাই ছেলের নামের পাশে সমাজের প্রচলিত পদবী না বসিয়ে তাকে নতুন নাম দিয়েছিলেন হরিবংশ। যে নাম শুধু ভারতেই নয়, সারা পৃথিবীতে এক নতুন ব্র্যান্ড তৈরি করেছে।